ঢাকা, বুধবার 18 January 2017, ৫ মাঘ ১৪২৩, ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পঞ্চম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে বইয়ের চাপে শিশুরা

খুলনা অফিস : সরকার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কোচিং বিমুখ করে বিদ্যালয়মুখী করতে ব্যস্ত। ঠিক সে মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে অধিক বই। শুধু বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নয়, সরকারিভাবেও শিক্ষার্থীদের ওপর বই ও পরীক্ষার চাপ বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
পঞ্চম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীরা ৬টি বই পড়ে বৃহৎ পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠেই তাদেরকে ১৪টি বই পড়তে হচ্ছে। এ সব বই দিচ্ছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। নবম-দশম শ্রেণিতে ১৪টি বই রয়েছে।
খুলনা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরের বিদ্যালয় পরিদর্শক মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, যে বইগুলো দেওয়া হয়েছে তা অবশ্যই বর্তমান সময়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক বইয়ের আকার ছোট করা হয়েছে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের বয়স বিবেচনা করে পাঠ্যপুস্তকের সংখ্যা সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বাস্তবায়ন নেই।
বিগত বছরের ন্যায় এ বছরও তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে দ্বিগুণের বেশি বই। বইগুলো হচ্ছে চারুপাঠ (বাংলা প্রথম পত্র), বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি (বাংলা দ্বিতীয় পত্র), আনন্দ পাঠ্য (বাংলা দ্রুত পঠন), ইংলিশ ফর টুডে (ইংরেজি প্রথম পত্র), ইংলিশ গ্রামার অ্যান্ড কম্পোজিশন (ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র), গণিত, বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা, কৃষি শিক্ষা বা গার্হস্থ্য বিজ্ঞান এবং চারু ও কারুকলা।
ষষ্ঠ শ্রেণিতে পদার্পণ করা খুলনা জিলা স্কুলের ছাত্র মাহিম জানায়, একেবারে এতোগুলো বই পাওয়ায় বাড়তি চাপ মনে হচ্ছে। বইয়ের সংখ্যা আস্তে আস্তে বাড়ালে ভাল হত। কোচিং, ব্যাচ ও স্কুলে সময় দিতে দিতে খেলার সময় পাওয়া যায় না।
ষষ্ঠ থেকে সপ্তম শ্রেণিতে ওঠা জিলা স্কুলের শিহাব জানায়, আমাদের সময়ও ১৪টি বই ছিল। অনেক কষ্ট ও চাপ সামলাতে হয়েছে।
ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মা বলেন, অনেক কম বয়সেই এরা অনেক বেশি বইয়ের চাপ সামলানোর চাপে রয়েছে। কষ্ট করে তাদের বুঝিয়ে পড়া প্রস্তুত করাতে হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ