ঢাকা, বুধবার 18 January 2017, ৫ মাঘ ১৪২৩, ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

উভয় বাজারে বেড়েছে সূচক ও লেনদেনের পরিমাণ

স্টাফ রিপোর্টার : পুঁজি বাজারে চাঙ্গাভাব অব্যাহত রয়েছে। গতকাল ডিএসইতে সাড়ে ৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে। এর আগে ২০১০ সালের ১২ জুন ডিএসইতে দুই হাজার ৭১ কোটি ৬১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত কার্যদিবসের চেয়ে সূচক ও লেনদেন উভয়ই বেড়েছে। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৯৭ দশমিক ৬১ পয়েন্ট এবং সিএসইতে প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ১৭১ দশমিক ০৬ পয়েন্ট বেড়েছে।
গত ছয় বছরেও পুঁজি বাজার এমন চাঙ্গাভাব দেখা যায়নি। ২০১০ সালে এমন চাঙ্গাভাব দেখা গেছে। নানা চেষ্টা করেও গত ছয় বছরেও বাজার চাঙ্গা করা যায়নি। তবে বাজার চাঙাগা হলেও সর্তক থাকতে হবে বিনিয়োগকারিদের। তা না হলে আবার বড় ধরনের ধসের ঘটনা ঘটতে পারে। ক্রয়ের ক্ষেত্রে মৌল ভিত্তি সম্পন্ন শেয়ার ক্রয় করতে হবে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতা থাকায় সাধারণ গ্রাহকের মধ্যে বিনিয়োগের আগ্রহ বেড়েছে। বাজারে নতুন বিনিয়োগকারী আসছেন। তবে সতর্কতার সঙ্গে বিনিয়োগ করতে হবে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, বাজারে লেনদেন এবং সূচক ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে আছে। এটা যেমন ভালো। তবে এর বিপরীত দিকও আছে। এখন যারা বাজারে বিনিয়োগ করবে, তাদের অনেকটা হিসাব করে বিনিয়োগ করতে হবে। কোনোভাবে গুজবে কান দেয়া যাবে না। বাজারে একটা কুচক্র থাকে, যাদের কাজ হচ্ছে গুজব সৃষ্টি করে শেয়ারের দাম বাড়ানো বা কমানো।
বাজার বিশ্লেষনে দেখা গেছে, উভয় পুঁজিবাজারে মোট লেনদেন হয়েছে দুই হাজার ১৭৯ কোটি ৯২ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। গত কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ৯৬১ কোটি ৯২ লাখ। ডিএসই ও সিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিন ডিএসইতে টাকার অঙ্কে মোট লেনদেন হয়েছে দুই হাজার ৬৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। গত সোমবার লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ৮৫৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সুতরাং এক কার্যদিবসের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ২০৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
এদিন ডিএসইতে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৯৭ দশমিক ৬১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫৭৫ পয়েন্টে, ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ১৫ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৭৬ পয়েন্টে এবং ৩৯ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট বেড়ে ডিএসই-৩০ সূচক দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৮৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩২৮টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ২২৪টির, কমেছে ৮৬টির এবং কোনও পরিবর্তন হয়নি ১৮টি কোম্পানির শেয়ার দর।
এছাড়া টাকার অঙ্কে এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো- বেক্সিমকো লিমিটেড, বারাকা পাওয়ার, যমুনা অয়েল, লংকা-বাংলা ফাইন্যান্স, মবিল যমুনা, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেম, কেয়া কসমেটিকস, সামিট পাওয়ার, ইসলামী ব্যাংক এবং ডেসকো।
অন্যদিকে এদিন সিএসইতে মোট শেয়ার লেনদেনের পরিমান ১৭১ কোটি ০৬ লাখ টাকা। গত সোমবার লেনদেন হয়েছিল ১০৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার। সুতরাং সিএসইতে গত কার্যদিবসের চেয়ে শেয়ার লেনেদেন বেড়েছে ৯ কোটি ৪০ লাখ টাকার বেশি।
এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ১৭১ দশমিক ০৬ পয়েন্ট বেড়ে ১০ হাজার ৩৭৯ পয়েন্টে, সিএএসপিআই সূচক ২৮৬ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট বেড়ে ১৭ হাজার ১৫৮ পয়েন্টে, সিএসই-৫০ সূচক ২৫ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৫০ পয়েন্টে এবং সিএসই-৩০ সূচক ২৮৪ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৭৮৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
এদিন সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৭৬টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৮৬টির, কমেছে ৭৪টির এবং কোনও পরিবর্তন হয়নি ১৬টি কোম্পানির শেয়ার দর।
টাকার অঙ্কে এদিন সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো- বেক্সিমকো লিমিটেড, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেম, ন্যাশনাল ব্যাংক, কেয়া কসমেটিকস, এপোলো ইস্পাত, এক্সিম ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, এবি ব্যাংক, লংকা-বাংলা ফাইন্যান্স এবং বিএসআরএম স্টিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ