ঢাকা, শুক্রবার 20 January 2017, ৭ মাঘ ১৪২৩, ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

১৭ দিনেও প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা সব বই পায়নি

খুলনা অফিস : নতুন বছরের ১৭ দিন পার হলেও এখনো খুলনার স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীরা সব বই পায়নি। জানা গেছে, প্রাথমিকের প্রায় এক লাখ ২০ হাজার বই এখনো খুলনায় না পৌঁছানোর কারণে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনেকে ক্লাসের সব বই হাতে পায়নি। মাধ্যমিক পর্যায়েও একই অবস্থা। খুলনা জিলা স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এখনও আটটি বই পায়নি। প্রতিদিন স্কুলে গিয়ে বই না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে আসছে শিক্ষার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনা জেলায় প্রাথমিকের এক হাজার ৭৪৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবার বইয়ের চাহিদা ছিলো ১২ লাখ ৯৬ হাজার। এর মধ্যে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বই পাওয়া গেছে ১১ লাখ ৭৮ হাজার। বাকি বই কবে নাগাদ পাওয়া যাবে তা কারো জানা নেই ।
খুলনায় প্রাথমিকের বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কয়রা, তেরখাদা ও রূপসা উপজেলায় চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ, খুলনা সদর, ফুলতলা, পাইকগাছা, বটিয়াঘাটা ও দাকোপে ৮ শতাংশ বই এখনও পৌঁছেনি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দিঘলিয়ায় প্রায় ২০ শতাংশ বই এখনো পাওয়া যায়নি। দিঘলিয়া উপজেলায় প্রাথমিকে ৬৯ হাজার ৬৩০টি বইয়ের চাহিদা থাকলেও পাওয়া গেছে ৫৬ হাজার।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, খুলনা জিলা স্কুলেও এবার চাহিদা মতো বই সরবরাহ করা হয়নি। এখানে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ২৫০ সেট করে বইয়ের চাহিদাপত্র দিলেও তারা বই পেয়েছেন মাত্র ২৪০ সেট। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রাক প্রাথমিক এর বইয়েরও সঙ্কট রয়েছে। সবেমাত্র স্কুলে আসা কোমলমতি শিশুদের হাতে অনেক স্থানে বই তুলে দেয়া যায়নি। প্রায় একই অবস্থা মাধ্যমিক স্তরেও। জেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে ২৫ লাখ ২৮ হাজার বইয়ের চাহিদা থাকলেও পাওয়া গেছে ২৪ লাখ ২৭ হাজার বই। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলা দ্রুতপঠন, মাধ্যমিক গণিত, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, ইংরেজি, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইগুলো চাহিদা মতো পাওয়া যায়নি। এমনকি নবম শ্রেণির বিজ্ঞান শাখার পদার্থ বিজ্ঞান ছাড়া বিজ্ঞান শাখার অন্য কোনো বই শিক্ষার্থীরা পায়নি, ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং এবং মানবিক শাখার অর্থনীতি বই পায়নি।
খুলনার সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মাছুম হোসেন জানায় নতুন বছরের ১৭ দিন পার হলেও এখনো ক্লাসের সব বই পায়নি। এ বছরই সমাপনী পরীক্ষা দিতে হবে।
কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ তৌহিদুজ্জামান বলেন, আমরা এখনো প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সকল বই পায়নি।
প্রাথমিকের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কাশেম জানান, সদরের সবগুলো স্কুলে বই পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এখন কোনো স্কুলের অতিরিক্ত চাহিদা থাকলে সেগুলো দেওয়া হবে।
খুলনা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার খোন্দকার রুহুল আমিন জানান, যে বইগুলো এখনও পাওয়া যায়নি সেগুলো এ সপ্তাহে পাওয়া যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ