ঢাকা, শুক্রবার 20 January 2017, ৭ মাঘ ১৪২৩, ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মুক্ত মতামত বন্ধ হলে মানুষ বাঁচবে কিভাবে?

[চার]

জিবলু রহমান : তাই সরকারকে উপলব্ধি করতে হবে যে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা একটা বিপজ্জনক কালাকানুন; কোনো আইনের কোনো ধারাতেই এই কালাকানুন রাখা চলবে না। এ ধারার অধীন অপরাধগুলো যে আইনের অধীনেই বিচার করা হোক না কেন, এ-সংক্রান্ত ধারা ও উপধারাগুলো সম্পূর্ণ নতুনভাবে প্রণয়ন করতে হবে। প্রথমত, এ ধারায় বর্ণিত অপরাধগুলোর প্রতিটি সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করতে হবে, ৫৭ ধারায় বিদ্যমান সব রকমের দ্ব্যর্থকতা দূর করতে হবে; আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের বা কর্মকর্তার মনগড়া ব্যাখ্যার সুযোগ সম্ভবপর সর্বোচ্চ মাত্রায় সীমিত করতে হবে, যাতে করে এই বিধানের অপব্যবহারের সুযোগ না থাকে।

দ্বিতীয়ত, দণ্ডের মাত্রা পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। ৫৭ ধারার অধীন যেকোনো ধরনের, যেকোনো মাত্রার অপরাধের জন্য কমপক্ষে সাত বছরের কারাদ- হবে, এর চেয়ে কম মেয়াদের সাজা দেওয়া যাবে না-এটা সুনির্দিষ্টভাবে বলে দেওয়াকে আইসিটি আইনের সবচেয়ে ‘অসাংবিধানিক অংশ’ বলে মন্তব্য করেছেন আইনজীবী তানজীব উল আলম।

সুতরাং, নতুন আইনে সাইবার বা ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ পৃথক পৃথকভাবে সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থকতাহীন ভাষায় সংজ্ঞায়িত করে অপরাধের স্বরূপ ও মাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পৃথক পৃথকভাবে দণ্ডের মাত্রা নির্ধারণ করা দরকার। এই বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত যে মুদ্রিত সংবাদমাধ্যমে মানহানি ও এ ধরনের অন্যান্য অপরাধের জন্য ফৌজদারি দ-বিধি অনুসারে সর্বোচ্চ সাজার মেয়াদ যেখানে দুই বছরের কারাদ-, সেখানে সাইবার বা ডিজিটাল মাধ্যমে সেই একই ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ ১৪ বছর ও সর্বনিম্ন সাত বছর কারাদণ্ডের বিধান যৌক্তিক হতে পারে না। (সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো ২৭ আগষ্ট ২০১৫)

সর্বোপরি, সব আইন প্রণয়নের সময় সংবিধানের মূল চেতনার কথা মনে রাখা দরকার। তথ্য ও যোগাযোগ-বিষয়ক সব আইনকে হতে হবে সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের ‘চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা’ দেওয়া হয়েছে নিরঙ্কুশভাবে, কোনো পরিস্থিতি বা শর্তের সাপেক্ষে নয়। 

প্রেস কাউন্সিল আইন সংশোধনের উদ্যোগ চলছে। প্রেস কাউন্সিল নিজেই আইনটির একটা সংশোধিত খসড়া তৈরি করে মতামতের জন্য আইন কমিশনে পাঠিয়েছিল। আইন কমিশন ওই খসড়া সম্পর্কে মতামত দিতে গিয়ে সুপারিশ করেছে, সংশোধিত আইনে এমন একটা ধারা যুক্ত করা হোক, যার বলে প্রেস কাউন্সিল কোনো সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার প্রকাশনা সর্বোচ্চ ৩০ দিন বন্ধ রাখার আদেশ দিতে পারবে। (সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো ৫ মে ২০১৬)

সাংবাদিকেরা দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের গণতন্ত্রায়ণের কথা বললেও নিজেদের যে প্রতিষ্ঠান জাতীয় প্রেসক্লাব, তার গণতন্ত্রায়ণের কথা ভাবি না। এই প্রতিষ্ঠানে বহু সদস্য আছেন, যাঁরা ১৫-২০ বছর আগে সাংবাদিকতা পেশা থেকে বিদায় নিয়েছেন। আবার একটানা ২০-২২ বছর ধরে সাংবাদিকতা পেশায় থেকেও অনেকে প্রেসক্লাবের সদস্য হতে পারেন না। প্রেসক্লাবের সদস্য হওয়ার জন্য কে কত বছর সাংবাদিকতা করেছেন, সেটি বিবেচ্য নয়, বিবেচ্য হলো পরিচালনা কমিটির ‘রহমত’ আছে কি না। ২০১৫ সাল থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব নির্বাচন নিয়ে যে জটিলতা দেখা দিয়েছে, তার মূলে রয়েছে কোটারি স্বার্থ। এই কোটারি স্বার্থই প্রখ্যাত কবি ও অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলার সম্পাদক শামসুর রাহমানের সদস্যপদও আটকে দিয়েছিল।

এই প্রেক্ষাপটে চাপের মুখে নির্বাচন কমিশন পদত্যাগ করে এবং বিদায়ী ব্যবস্থাপনা কমিটি সাধারণ সভা স্থগিত করে এক মাস পর বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বান করে। কিন্তু তাদের প্রতিপক্ষ এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে নির্ধারিত দিনেই সাধারণ সভা আহ্বান করে একটি কমিটি ঘোষণা করে। এই কমিটিতে আওয়ামী লীগ-সমর্থকদের মধ্য থেকে সভাপতিসহ ১০ জন এবং বিএনপির বিদ্রোহী সমর্থকদের মধ্য থেকে সাতজনকে নেওয়া হয়। কিন্তু আগের ব্যবস্থাপনা কমিটি ৭+১০ এই সমীকরণ না মেনে আদালতের শরণাপন্ন হয়। প্রেসক্লাবে উভয় পক্ষ নিজেদের বৈধ নেতৃত্ব বলে দাবি করে এবং প্রেসক্লাব অঙ্গনে সভা-সমাবেশ চলছে।

আমরা সাংবাদিকরা মুখে গণতন্ত্রের কথা বলবো, আর নিজেরা নির্বাচন থেকে দূরে থাকবো-এটা কি করে হয়। ভোটার তালিকা নিয়ে নানা অভিযোগ। এই অভিযোগের ভিত্তি যে নেই তা কিন্তু বলা যাবে না। এর সঠিক তদন্ত হওয়া দরকার। অভিযোগগুলো নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা হতে পারে। সিনিয়র সাংবাদিকরা এখন ক্লাবমুখী হচ্ছেন না। আগে দিনে তিন থেকে চারশ সাংবাদিক প্রেস ক্লাবে যেতেন। এখন একশতে নেমে এসেছে। সদস্য নন এমনদের আনাগোনা বেশি। আগে ছিল যারা ইউনিয়ন করতেন তারা প্রেস ক্লাব নিয়ে তেমন মাথা ঘামাতেন না। এখন দেখা যাচ্ছে যারা জাতীয় রাজনীতি করেন তারাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। সঙ্কট এখানেই। পেশাদারদের ক্লাব পেশাদারদের হাতেই ছেড়ে দিন। তাহলেই দেখবেন বিভক্তি সত্ত্বেও সঙ্কট কেটে গেছে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের অবৈধ ও দখলদার কমিটি কর্তৃক ৪৩ জন সদস্যের সদস্যপদ খারিজের নজীরবিহীন ঘটনায় বিস্ময় ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)’র নেতৃবৃন্দ। পেশাদার সাংবাদিকদের সদস্যপদ দেয়ার মতলবি স্লোগান দিয়ে সরকারি ছত্রছায়ায় ক্লাব দখলের পর এখন কেবলমাত্র ভিন্ন মতের কারণে এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে পেশাদার সাংবাদিকদের সদস্য পদ কেড়ে নেয়ার ঘটনাকে ন্যক্কারজনক হিসেবে বর্ণনা করেন নেতারা।

বিএফইউজে’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম আবদুল্লাহ, মহাসচিব এম এ আজিজ এবং ডিইউজে’র সভাপতি আবদুল হাই শিকদার দেয়া যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের বিগত নির্বাচিত কমিটির দেয়া ১৭১ জন সদস্যের এক বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে ১১ নভেম্বর ৪২ জন সদস্যকে কোন কারণ ছাড়াই ছাঁটাই করা হয়েছে। এছাড়া আগের দিন ক্লাবের সিনিয়র সদস্য আসাদুজ্জমান আসাদকে অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এভাবে দখলদার কমিটি ক্লাবে অভাবনীয় স্বেচ্ছাচারিতার ঘৃণ্য রাজত্ব কায়েম করেছে। বিবৃতিতে নেতারা বলেন, যে ৪২ জনের সদস্য পদ এক বছর পূর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে খারিজ করা হয়েছে তাদের সকলেই পেশাদার, সক্রিয় ও গণমাধ্যম জগতে প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক। শুধু তাই নয়, সাংবাদিকদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধানও রয়েছেন ওই ৪২ জনের তালিকায়। রয়েছেন বিএফইউজে ও ডিইউজে’র কয়েকজন নির্বাচিত নেতাও। তাদের সদস্য পদ দেয়া হয়েছে বিগত নির্বাচিত কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে। জাতীয় প্রেস ক্লাবকে চিরস্থায়ীভাবে কুক্ষিগত করে একটি দলের ক্লাবে পরিণত করার সুদূরপ্রসারি চক্রান্তের অংশ হিসেবেই একসঙ্গে ৪৩ জনের সদস্যপদ কেড়ে নেয়া হয়েছে বলে আমরা মনে করি। এ ঘটনা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সোনালী ঐতিহ্যের ললাটে আরেকবার কালিমা লেপন করেছে বলে উল্লেখ করেন নেতারা।

বিবৃতিতে বিএফইউজে ও ডিইউজে নেতারা এ জাতীয় হঠকারি অপকর্ম থেকে সংশ্লিষ্ট সকলকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় উদ্ভূত যে কোন পরিস্থিতির দায়-দায়িত্ব তাদেরকে বহন করতে হবে। (সূত্রঃ দৈনিক সংগ্রাম ১৩ নভেম্বর ২০১৫)

ব্যক্তিবিশেষের সঙ্গে ব্যক্তিবিশেষের সমঝোতা প্রেসক্লাবে নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান দেবে না। প্রতিষ্ঠানকে দলীয় রাজনীতির প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। রাজনৈতিক বিবেচনা নয়, পেশার জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রকৃত সাংবাদিকদের প্রেসক্লাবের সদস্যপদ দিতে হবে।

স্বাধীন বাংলাদেশে প্রায় তিন দশক ধরে বেসরকারি মালিকানায় কোনো বেতার-টিভি ছিল না। সম্প্রচার মাধ্যমের পুরোটাই ছিল রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন। যখন যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তখন তারা বেতার-টিভিকে ব্যবহার করেছে নিজেদের ইচ্ছামতো। স্বৈরশাসক এরশাদের আমলে বাংলাদেশ টেলিভিশনকে বলা হতো ‘সাহেব বিবি গোলামের বাক্স’। তারপর, সংসদীয় গণতন্ত্রের দেড় দশকের বেশি সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত বেতার-টিভির অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। সম্প্রচার সংবাদমাধ্যম হিসেবে এখন এগুলোর গ্রহণযোগ্যতা প্রায় শূন্য।

শূন্যতার কিছুটা পূরণ হচ্ছে বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও এফএম রেডিও স্টেশনগুলোর দ্বারা। বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে প্রায়-বৈপ্লবিক একটা পরিবর্তন সূচিত হয়েছে বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের সূচনার মধ্য দিয়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকার যথার্থভাবেই এই কৃতিত্ব দাবি করে। সেই সরকারই একুশে টেলিভিশন নামে একটি বেসরকারি টিভি স্টেশনের অনুমতি দিয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় এ দেশে এখন বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সংখ্যা প্রায় তিরিশ।

তবে এই প্রীতিকর ইতিহাসের একটা সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক দিকও আছে। তা হলো এই যে, বেসরকারি খাতে সম্প্রচারমাধ্যমের যাত্রা শুরু হয়েছিল তৎকালীন সরকারের শুভেচ্ছা ও বদান্যতায়; কোনো আইনের ভিত্তিতে নয়। তৎকালীন সরকার দেশের প্রথম বেসরকারি টিভি স্টেশনটির অনুমোদন দিয়েছিল তার একান্তই পছন্দের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে। এমন কোনো আইন-বিধান করা হয়নি, যার বলে একাধিক আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের টিভি স্টেশন খোলার অনুমোদন চাওয়ার ও পাওয়ার সুযোগ ছিল।

তার পরবর্তী দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সরকার পালাক্রমে এস.এ. টিভি চ্যানেল খোলার অনুমতি দিয়েছে নিজ নিজ দলের বা পক্ষের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে। আইন-বিধানের ভিত্তিতে নয়, সরকারের মর্জিমাফিক। বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও বেতারকেন্দ্রগুলো পরিচালনার জন্য কোনো আইন এত দিন প্রণয়ন করা হয়নি। এগুলো পরিচালিত হয়ে আসছে সরকারের নির্বাহী আদেশবলে। সরকারের ইচ্ছা হলেই যেকোনো টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দিতে পারে, এমন কোনো আইন নেই যার বলে ওই টিভি চ্যানেল সরকারের এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। (সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো ২৩ এপ্রিল ২০১৬)

আমাদের বৈদ্যুতিক মাধ্যমের জন্য একটি আইন প্রয়োজন ছিল। অনেকটা পরিকল্পনাহীনভাবে দেশে বৈদ্যুতিক মাধ্যম বিকশিত হচ্ছে। তা সত্ত্বেও এই মাধ্যম এ দেশের গণমাধ্যমজগতে বিপ্লব সাধন করেছে। এত টিভি চ্যানেল, এত বিনিয়োগ, এত কর্মসংস্থান, এত শিল্পী, কলাকুশলী তৈরি, এত তথ্যপ্রবাহ বাংলাদেশের মতো দুর্বল গণতন্ত্রের দেশে এগুলো কম সাফল্য নয়। এর পুরো কৃতিত্ব বেসরকারি খাতের। সরকার শুধু তাদের লাইসেন্স দিয়েছে। সরকার নিজের হাতে দেশের একমাত্র টেরিস্ট্রিয়াল টিভি চ্যানেল রেখে দিয়ে বৈদ্যুতিন মাধ্যমে একটা বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। সরকারের এই নীতির পরিবর্তন করতে হবে। নীতি হবে, যে বিনিয়োগ করতে পারবে ও লাইসেন্সের শর্ত পূরণ করতে পারবে, তাকেই টেরিস্ট্রিয়াল টিভির লাইসেন্স দেওয়া হবে। টেরিস্ট্রিয়াল টিভি দেশের সার্বভৌমত্ব বা নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। [চলবে]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ