ঢাকা, শুক্রবার 20 January 2017, ৭ মাঘ ১৪২৩, ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

লক্ষাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী এমপিও বিহীন থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছে

চট্টগ্রাম অফিস : শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণসহ ৬ দফা বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর জেএমসেন হল চত্বরে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কর্মসূচির আওতায় অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিভাগীয় শিক্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথি বাশিস কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করা হলে এমপিও ভুক্তির বিড়ম্বনা দূর হবে। সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধায় যে বৈষম্য বিদ্যমান তা দূর হবে এবং শিক্ষার মানও উন্নত হবে।

প্রধান অতিথি আরো বলেন, দেশের ৯৫% শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের দ্বারা। জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সমযোগ্যতা, সমদায়িত্ব ও সম অভিজ্ঞতা নিয়ে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীরা চরম অর্থনৈতিক ও পেশাগত বৈষম্যের শিকার। বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া মাত্র ১০০০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা, উৎসব ভাতা পায় মূল বেতনের ২৫%, নেই কোন পদোন্নতি, নেই ইনক্রিমেন্ট, নেই পেনশন সুবিধা। লক্ষাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী এমপিও বিহীন থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। স্বাধীন দেশে শিক্ষকতা পেশায় দ্বৈতনীতি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থি। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষক-কর্মচারী জনবল কাঠামোর যাঁতাকলে পড়ে এমপিও ভুক্ত হতে পারছেন না।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার ব্যবস্থাপনায় সভাপতি সৈয়দ লকিতুল্লাহ এর সভাপতিত্বে বিভাগীয় সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল কাশেম। কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ইকবাল হোসেন। বাশিস চট্টগ্রাম অঞ্চলের যুগ্ম সম্পাদক ও শিক্ষক সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক শিমুল মহাজন ও আলতাজ মিয়ার সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন বাশিস চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উপদেষ্টা সুনীল চক্রবর্তী। স্বাগত বক্তব্য দেন বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ কানুনগো।

বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক অঞ্চল চৌধুরী, বিভিন্ন জেলা নেতৃবৃন্দের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি নুরুল হক সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সভাপতি রণজিৎ নাথ ও সাধারণ সম্পাদক জানে আলম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি মোঃ ওসমান গণি, কক্সবাজার জেলা সভাপতি মুজিবুল হক, নোয়াখালী জেলার সভাপতি আবুল কাশেম, ফেনী জেলার সভাপতি শহীদূর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ ভুইয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ডি.এম একরামুল হক, উপদেষ্টা ভক্তি রঞ্জন ঘোষ। 

চট্টগ্রাম বিভাগীয় শিক্ষক সমাবেশে বৃহত্তর চট্টগ্রাম, পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, লক্ষীপুর, কক্সবাজার, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার বেসরকারি মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। 

বক্তারা বর্তমান সরকার ইতিবাচক সাড়া দিয়ে প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের সঙ্গে ৮ম বেতন স্কেলে অন্তর্ভূক্ত করায় সরকারকে সাধুবাদ জানান। শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ দ্রুত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, সরকারি ও বেসরকারি বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে সরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের সমপরিমাণ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, বাড়ি ভাড়া, উৎসব ভাতা ও মেডিকেল ভাতা প্রদান, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর গ্রহণের পর তিন মাসের মধ্যে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাষ্টের টাকা প্রদান ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি দাবি জানিয়েছেন। বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একটি আদর্শিক সংগঠন যা শিক্ষানীতি-২০১০ বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। এ সংগঠন সরকার ঘোষিত দেশের উন্য়ন ও অগ্রগতির ভিশন-২০২১ ও রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে অঙ্গীকারাবদ্ধ। পরিতাপের বিষয় ৮ম জাতীয় বেতনস্কেল প্রদানের পূর্বে গত ২০১৫ সালের ২০ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। যেখানে “বেতন-ভাতা” শব্দটির স্থলে “অনুদান-সহায়তা” শব্দটি ব্যবহার করায় বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিগণ তা বাতিলের জন্য আন্দোলন করে আসছে। সারাদেশের শিক্ষক সমাজ মনে করেন, একটি মহল বর্তমান সরকারের শিক্ষা ক্ষেত্রের সফলতাকে ম্লান করার জন্য একটি মিমাংসিত বিষয়কে জটিল করে প্রকারান্তরে শিক্ষ-কর্মচারীদের অকারণে আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন।

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রেস ক্লাব ভবনের সম্মুখে শেষ হয়। পরবর্তীতে নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি পেশ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ