ঢাকা, শুক্রবার 20 January 2017, ৭ মাঘ ১৪২৩, ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নিরপেক্ষ সার্চ কমিটি না হলে মানুষ গ্রহণ করবে না -----------------মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার : নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নিরপেক্ষ সার্চ কমিটি এবং নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক না হলে দেশের জনগণ মানবে না। কারণ গণতন্ত্র কখনো ফলপ্রসূ ও কার্যকরী হবে না, যদি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলাপ-আলোচনা না থাকে। সেটা রাষ্ট্রপতিও বলেছেন। সে জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। এখন আমরা আশা করব যে, রাষ্ট্রপতি সত্যিকার অর্থে একটি নিরপেক্ষ সার্চ কমিটির মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন- যা সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য যোগ্য হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়ার মাজারে দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা ইতিবাচক রাজনীতি করি এবং এর মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করার জন্য আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একটি অত্যন্ত সুন্দর প্রস্তাবনা দিয়েছেন। সেই প্রস্তাবনার ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে ডেকেছেন, কথা বলেছেন। আমরা আশা করি তিনি এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন।
রাষ্ট্রপতির সংলাপ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা তো বরাবর রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যই বলে এসেছি; আজ থেকে নয়, প্রথম থেকে। গণতন্ত্র কখনো ফলপ্রসূ হবে না, কার্যকরী হবে না, যদি রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলাপ-আলোচনা না থাকে। একটা সহনশীল সমঝোতার মধ্য দিয়ে, সংলাপের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র বিকশিত হয়। সেটা আমাদেরও কথা। রাষ্ট্রপতি সেটা বলেছেন, সেজন্য তাকে ধন্যবাদ।
নিরপেক্ষ সার্চ কমিটি না হলে বিএনপি কী করবে- এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আগেই বলেছি যে যদি নিরপেক্ষ সার্চ কমিটি ও নির্বাচন কমিশন গঠন না হয়, এদেশের মানুষ কখনোই তা গ্রহণ করবে না।
দেশে গণতন্ত্র অবরুদ্ধ মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা বরাবর বলে এসেছি, একদলীয় শাসনব্যবস্থা ১৯৭৫ সালে এদেশের মানুষ বাতিল করে দিয়েছিল, তা প্রত্যাখ্যান করেছিল, আবার ভিন্ন আঙ্গিকে একদলীয় শাসন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। মানুষের অধিকারগুলোকে হরণ করা হচ্ছে, গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এ অবস্থার বিরুদ্ধে বর্তমানে গোটা দেশের মানুষ সংগ্রাম করছে বলে জানান মির্জা ফখরুল।
এসময় তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আবারো নতুনভাবে জিয়াউর রহমানের দেখানো পথে দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে দেশের জনগণের রাজনৈতিক অধিকার, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনবো।
জিয়াউর রহমানের জন্মদিনের তাৎপর্য উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক-প্রবক্তা ও আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা। আজ তার ৮১ তম জন্মবাষির্কী। এই মহান নেতা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে সমগ্র জাতিকে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে তিনি নেতৃত্ব দিয়ে অন্ধকার থেকে দেশকে আলোতে নিয়ে এসেছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ