ঢাকা, শুক্রবার 20 January 2017, ৭ মাঘ ১৪২৩, ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ধার-দেনা করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ না করার আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার : প্রতিটি শেয়ারে বিনিয়োগের অপর নাম ঝুঁকি। এ ঝুঁকি স্বীকার করেই বিনিয়োগ করতে হবে। ঋণ বা ধার দেনা করে কেউ যেন বিনিয়োগ না করে। তাই বিনিয়োগের পূর্বে কোম্পানির মৌল ভিত্তি দেখে বিনিয়োগ করতে হবে। তবে পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেন যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বা পাচ্ছে তাতে ভয়ের কোনো কারণ নেই।
গতকাল বৃহস্পতিবার সম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ডিএসইতে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন বক্তারা। এসময় উপস্থিত ছিলেন, ডিএসইর চেয়ারম্যান বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক সভাপতি ও বর্তমান পরিচালক রকিবুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গবর্নর ইব্রাহিম খালেদ, পরিচালক ড. আবুল হাশেম, পরিচালক রুহুল আমিনসহ স্টক এক্সচেঞ্জের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রকিবুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেন যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বা পাচ্ছে তাতে ভয়ের কোনো কারণ নেই। তবে মনে রাখতে হবে, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সব সময় ঝুঁকিপূর্ণ। তাই কোম্পানি সম্পর্কে জেনে বুঝে বিনিয়োগ করতে হবে।
তিনি বলেন, বিগত কয়েক বছর দেশের অর্থনীতি যে পরিমাণে এগিয়েছে, পুঁজিবাজার সেই গতিতে নিচের দিকে নেমেছে। কিন্তু এই সময়ে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ব্যাপক সংস্কার হয়েছে। যার ফলে দেশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরেছে, বৃদ্ধি পাচ্ছে সূচক ও লেনদেন।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সব সময় ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বাজারে বিনিয়োগের আগে কোম্পানির মৌলভিত্তি দেখেই বিনিয়োগ করতে হবে। ধার- দেনা করে, বোনের গয়না বেচে, বাড়ির গরু বেচে বিনিয়োগের দরকার নেই। খরচের অতিরিক্ত টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের পরামর্শ দেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে ডিএসই পরিচালক বলেন, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে মনে করছে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পুঁজিবাজার বড় অবদান রাখতে পারে। যার ফলে বাজারের প্রতি তাদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে। সূচক ও লেনদেন বাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রতিদিনই বিনিয়োগকারীরা শেয়ার হাত-বদল করছেন। যার ফলে বাজারের লেনদেন ও সূচক উভয়ই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
 ইব্রাহিম খালেদ জানান, পুরনো খেলোয়াড়রাই পুঁজিবাজার নিয়ে আবার খেলায় মেতেছেন। এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রকিবুর রহমান বলেন, ইব্রাহিম খালেদের কথাটি সঠিক নয়, তিনি সবসময় মনগড়া ও এক তরফা কথা বলে যাচ্ছেন।
অর্থনীতিতে পুঁজিবাজারের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের অর্থনীতিতে সেদেশের পুঁজিবাজারের অবদান ৭০ শতাংশ, থাইল্যান্ডে ৪০০ শতাংশ, আর আমাদের দেশে সেটি মাত্র ১৯ শতাংশ। আমাদের অর্থনীতি বড় হচ্ছে। আর এই বড় অর্থনীতিতে পুঁজিবাজার ভূমিকা রাখতে পারবে বলে বিশ্বাস করি।
তিনি বলেন, বহির্বিশ্বের তুলনায় আমাদের বাজার এখনো পিছিয়ে রয়েছে। অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের পুঁজিবাজারকেও এগিয়ে নিতে হবে।
 কে এ এম মাজেদুর রহমান বলেন, প্রতিটি শেয়ারে বিনিয়োগের অপর নাম ঝুঁকি। তাই বিনিয়োগের পূর্বে কোম্পানির মৌল ভিত্তি দেখে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, একজন সচেতন বিনিয়োগকারী টেকসই পুঁজিবাজারের অন্যতম শর্ত। আর এই সচেতন বিনিয়োগকারী তৈরি করার জন্যই বিএসইসি সারা দেশে বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম ছড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী এই শিক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন। ডিএসইও তার ট্রেনিং একাডেমির মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগকারীসহ বাজার সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে।
মাজেদুর রহমান বলেন, গত কয়েক মাস ধরে বাজার ক্রমেই গতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বেড়েছে বিনিয়োগকারীদের আস্থা। এ অবস্থায় একটি টেকসই ও উন্নতমানের পুঁজিবাজারের জন্য বিনিয়োগকারীর সচেতনতা, মার্কেট স্টেকহোল্ডারদের নিয়মনীতি পরিপালনের বিকল্প নেই। সরকারসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বাজারে স্থিতিশীলতা, গতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে পুঁজিবাজারে বহুমুখী সংস্থার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলেই বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইর পক্ষ থেকে বাজারের উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
বহুজাতিক ও দেশীয় ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চাহিদা মতো সরবরাহের উপর পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা নির্ভর করে। যেমন আর্থিক তারল্যের প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন ভালো শেয়ারের সরবরাহ নিশ্চিত করা। শুধু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার চাহিদা ও যোগানের মধ্যে ভারসাম্য আনা যথেষ্ট নয়। তাই বাজারের অতিরিক্ত চাহিদার কথা মাথায় রেখে বহুজাতিক কোম্পানিসহ রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার সরবরাহ বাড়ানো প্রয়োজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ