ঢাকা, শুক্রবার 20 January 2017, ৭ মাঘ ১৪২৩, ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বিএমইটির ডিজি দুদক জাল বিস্তার করেছে সাবধান হয়ে যান

স্টাফ রিপোর্টার : ‘বিএমইটিতে দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) জাল বিস্তার করেছে। যারা অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তারা সাবধান হয়ে যান। দুদকের জালে আটকা না পড়লেও কারো বিরুদ্ধে অনিয়মের কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমি নিজেই কঠোর ব্যবস্থা নেব।’ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক মো. সেলিম রেজা প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এভাবেই সতর্ক করে দিয়েছেন।
রাজধানীর কাকরাইলস্থ বিএমইটির অ্যানেক্স ভবনে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে আয়োজিত জরুরি বৈঠকে এমন সতর্কবার্তা দেন ডিজি সেলিম রেজা। বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব তথ্য জানিয়েছেন।
আগের দিন বুধবার রাজধানীর ইস্কাটনস্থ প্রবাসী কল্যাণ ভবনে হঠাৎ করেই হাজির হন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল। তারা সরাসরি ভবনের ১০ম তলায় (লিফট-৯) বিএমইটির মহাপরিচালক মো. সেলিম রেজার রুমে প্রবেশ করে তাকে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আনা নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে প্রায় সোয়া ঘণ্টা জিজ্ঞাসা করেন। এসব বিষয় নিয়েই মূলত গতকাল বিএমইটির সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন সংস্থাটির ডিজি সেলিম রেজা।
বৈঠক সূত্র জানায়, দুদক কর্মকর্তারা বিএমইটির ডিজিকে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ করে গেছেন। ডিজি কারো নাম উল্লেখ না করে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।
গত বুধবার দুদকের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি টিম প্রবাসী কল্যাণ ভবনে বিএমইটির ডিজির রুমে প্রবেশ করে প্রায় এক সোয়া ঘণ্টা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আনা নানা বিষয়ে খোঁজ খবর নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুদক কর্মকর্তারা বিএমইটির ডিজির রুমে থাকা অবস্থায় দ্রুত খবরটি প্রবাসী কল্যাণ ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। কেন কি কারণে দুদক কর্মকর্তারা এসেছেন, এ নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। বিএমইটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই এ সময় ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে নানা কানাঘুষা চলতে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএমইটি কার্যালয় গিয়েই মহাপরিচালক মো. সেলিম রেজার কক্ষে প্রবেশ করেন মুনীর চৌধুরী। দুদক পরিচালক জায়েদ হোসেন খান, উপ-পরিচালক মাহবুবুল আলম, সহকারী পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদসহ পাঁচজন বিএমইটি মহাপরিচালকের দফতরের সামনে অপেক্ষায় থাকেন। আধঘণ্টা পর জায়েদ হোসেনকে বিএমইটি মহাপরিচালকের কক্ষের ভেতরে ডেকে নেওয়া হয়।
হঠাৎ কি কারণে দুদক কর্মকর্তারা বিএমইটির ডিজির রুমে গেলেন এবং তাকে কিইবা জিজ্ঞাসা করলেন তারা, এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ডালপালা গজিয়েছে। দুদক ও বিএমইটির একটি সূত্র বলছে, বিদেশগামীদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়াসহ বিএমইটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মোটাদাগের নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বিদেশগামী কর্মীদের সনদ ও স্মার্টকার্ড নিতে অর্থ প্রদান, ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে ঘুষ বাণিজ্যসহ বিএমইটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের বিষযয়ে দুদক টিম বিএমইটির ডিজির কাছে বিস্তারিত জানতে সেখানে যান বলে জানা যায়।
বিএমইটি মহাপরিচালকের কক্ষ থেকে বের হয়ে দুদকের মহাপরিচালক মুনীর চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বিএমইটির কাছ থেকে মানুষ যাতে ভাল সেবা পায়, মোটা দাগে প্রতিষ্ঠানটিতে দুর্নীতির কারণে মানুষ যাতে সেবাবঞ্চিত বা হয়রানির শিকার না হয়, তা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে বিএমইটির ডিজির সঙ্গে কথা হয়নি তাদের।
পরে বিএমইটির মহাপরিচালক সেলিম রেজা সাংবাদিকদের বলেন, সকালে দুদক থেকে ফোন করে কর্মকর্তারা তার দফতরে এসেছিলেন। তার দফতরে কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম নেই। দুদকের দলটি তাদের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তার দফতরে এসেছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ