ঢাকা, শুক্রবার 20 January 2017, ৭ মাঘ ১৪২৩, ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শহীদ আসাদ দিবস আজ

স্টাফ রিপোর্টার : আজ শুক্রবার শহীদ আসাদ দিবস। পাকিস্তানী স্বৈরশাসক আইয়ূববিরোধী আন্দোলনে প্রাণদানকারী আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। দিনটি শহীদ আসাদ দিবস হিসেবে পালিত হয়। ঊনসত্তরের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের এক পর্যায়ে ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ছাত্র মিছিলে পুলিশ গুলী চালালে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র ইউনিয়ন নেতা আসাদ শহীদ হন। তিনি ১৯৪২ সালের ১০ জুন নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার ধানুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

শহীদ আসাদ দিবস উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আলাদা বাণী দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকারে দিনটি পালনে কর্মসূচি নিয়েছে।

দেশে আইয়ূব শাহীর ‘মৌলিক গণতন্ত্রের’ আদলে হওয়া জেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় এবার শহীদ আসাদ দিবস পালন হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা জাতি হিসেবে আমাদের বড়ই লজ্জার ও কষ্টের।

ইতিহাস বলছে, ওই দিন পাকিস্তানী স্বৈরশাসক আইয়ুব শাহীর বিরুদ্ধে এ দেশের ছাত্রসমাজের ১১ দফা কর্মসূচির মিছিলে নেতৃত্ব ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান। আসাদ শহীদ হওয়ার পর তিন দিনের শোক পালন শেষে, ওই বছরের ২৪ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের ছয় দফা ও ছাত্রদের ১১ দফার ভিত্তিতে সর্বস্তরের মানুষের বাঁধভাঙা জোয়ার নামে ঢাকাসহ সারা বাংলার রাজপথে। সংঘটিত হয় উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান। পতন ঘটে আইয়ুব খানের। আরেক স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় বসে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেন। শহীদ আসাদ হচ্ছেন ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলনে পথিকৃৎ তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের তিন শহীদদের একজন; অন্য দু’জন হচ্ছেন - শহীদ রুস্তম ও শহীদ মতিউর।

শোকাতুর ও আবেগে আপ্লুত অগণিত ছাত্র-জনতার মিছিলে শহীদ আসাদের রক্তমাখা শার্ট দেখে কবি শামসুর রাহমান তাঁর অমর কবিতা ‘আসাদের শার্ট’ লিখেন। এছাড়াও কবি হেলাল হাফিজ এ ঘটনায় ক্রোধে ফেঁটে পড়েন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে কালজয়ী ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতাটি লিখেন। ছাত্র আন্দোলনে আসাদের মৃত্যুতে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আলোকচিত্র শিল্পী রশীদ তালুকদার তার ক্যামেরায় স্থিরচিত্র হিসেবে ছাত্র-জনতার দীর্ঘ মিছিলসহ আসাদের শার্টের ছবি ওঠান।

সত্তর সালের সেই অভূতপূর্ব নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। কিন্তু ইয়াহিয়া ক্ষমতা না ছাড়ার জন্য নানা টালবাহানা শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় একাত্তর সালে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। টানা নয় মাসের মুক্তিসংগ্রামে এদেশের মুক্তিকামী মানুষের দ্রোহের আগুনে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর দম্ভ চূর্ণ হয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে জন্ম নেয়। 

বাংলাদেশের অনেক জায়গায় জনগণ আইয়ূব খানের নামফলক পরিবর্তন করে শহীদ আসাদ রাখে বিশেষত জাতীয় সংসদ ভবনের ডান পার্শ্বে অবস্থিত আইয়ূব গেটের পরিবর্তে আসাদ গেট রাখা হয়। এছাড়াও, আইয়ূব এভিনিউ’র পরিবর্তে আসাদ এভিনিউ এবং আইয়ূব পার্কের পরিবর্তে আসাদ পার্ক নামকরণ করা হয়। ১৯৭০ সালে ১ম শহীদ আসাদ দিবসে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকে জনগণ ‘ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের স্মারক ও অমর আসাদ’ শিরোনামে একটি স্মৃতিফলক নির্মাণ করে যেখানে আসাদ গুলীতে নিহত হয়েছিলেন।

শিবপুর ও ধানুয়া এলাকার স্থানীয় লোকজন ১৯৭০ সালে শিবপুর শহীদ আসাদ কলেজ নামে একটি মহাবিদ্যালয় এবং ১৯৯১ সালে আসাদের নিজের গ্রাম ধানুয়ায় শহীদ আসাদ কলেজিয়েট গার্লস স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করে। 

এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে সকাল ৮টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে শহীদ আসাদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ