ঢাকা, মঙ্গলবার 24 January 2017, ১১ মাঘ ১৪২৩, ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পুলিশ সেবাকে আরো জনবান্ধব করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

গতকাল সোমবার পুলিশ সপ্তাহ ২০১৭ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -বাসস

বাসস : শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে কমিউনিটি পুলিশিংকে আরো জোরদার করার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সোমবার গণতান্ত্রিক মুল্যবোধে একাত্ম হয়ে পুলিশ সেবাকে আরো জনবান্ধব করার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঔপনিবেশিক আমলের ধ্যান-ধারণার পরিবর্তে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে একাত্ম হয়ে পুলিশের সেবাকে আরো জনবান্ধব করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে অসহায় ও বিপন্ন মানুষের প্রতি অকুণ্ঠচিত্তে সেবার হাত প্রসারিত করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার ভাষণের উদ্বৃতি তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ভাষণে যেকথা বলেছিলেন-আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। আমাদের পুলিশবাহিনী স্বাধীন দেশের পুলিশবাহিনী। আমাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে দায়িত্ববোধ থাকতে হবে জনসেবা করার মানসিকতা নিয়ে। ’

শান্তিময় ও নিরাপদ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে সরকার আরো জোরদার করবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর পুলিশকে আধুনিক ও জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সোমবার রাজারবাগ পুলিশ লাইনে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০১৭’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ সব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি আত্মমর্যাদাশীল এবং আত্মনির্ভরশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু দেশী-বিদেশী একটি চক্র বাংলাদেশের এ অগ্রযাত্রাকে বানচালের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। গণতান্ত্রিক পথে মানুষের মন জয় করতে ব্যর্থ হয়ে এরা সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে।

তিনি বলেন, কোমলমতি যুবক-কিশোরদের ধর্মের নামে বিভ্রান্ত করে জঙ্গিবাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ধর্মের অপব্যাখ্যা করে তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে সহিংস আক্রমণের মাধ্যমে মানুষ হত্যার মত বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত করছে।

সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদকে একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং আমাদের উন্নয়নের প্রধান বাধা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি হলি আর্টিজান এবং শোলাকিয়া জঙ্গি হামলা মোকাবেলায় ৪ জন পুলিশ সদস্য আত্মোৎসর্গ করেছেন। নির্ভীক এই ৪ পুলিশ সদস্যের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অসংখ্য প্রাণ রক্ষা পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় পুলিশের সাফল্য প্রসংগে আরো বলেন, সম্প্রতি আশুলিয়ার আশকোনা এবং মিরপুরের কল্যাণপুর পুলিশ জঙ্গী বিরোধী বিশেষ অভিযান সফলভাবে পরিচালনা করেছে। পুলিশ জঙ্গি হামলার মাস্টারমাইন্ড, অস্ত্রদাতা, প্রশিক্ষক এবং আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে।

শেখ হাসিনা পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করে বলেন, ‘শুধু দেশেই নয়, গত প্রায় দুই যুগের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ পুলিশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করে নিজেদের কর্মদক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় প্রদান করে বহির্বিশ্বে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।’

এর আগে প্রধানমন্ত্রী প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইজিপি একেএম শহীদুল হক এবং প্যারেড কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত আইজিপি মোমোখলেসুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

‘পুলিশ সপ্তাহ-২০১৭’ উপলক্ষে পুলিশ সদস্যদের মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন প্রধানমমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্যারেড কমান্ডার পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারকে সঙ্গে করে একটি খোলা জিপে করে প্যারেড পরিদর্শন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের মাঝে ৪টি ক্যাটাগরিতে ১৩২ জন পুলিশ সদস্যের মাঝে বাংলাদেশ পুলিশ পদক ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক বিতরণ করেন।

২০১৬ সালের মরনোত্তর পুলিশ পদক বিপিএম পান গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় নিহত পুলিশ সদস্য শহীদ রবিউল ইসলাম সিনিয়র এসি ডিবি ডিএমপিএবং শহীদ সালাউদ্দিন খান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গুলশান থানা। উভয়ের স্ত্রী এই মরণোত্তর পদক গ্রহণ করেন।

একই সঙ্গে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতে জঙ্গি হামলা প্রতিরোধে নিহত পুলিশ কনস্টেবল শহীদ জহীরুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ’র পক্ষে তাঁর স্ত্রী এবং পুলিশ কনষ্টেবল শহীদ আনসারুল হক কিশোরগঞ্জ’র পক্ষে তাঁর মা মরণোত্তর পুলিশ পদক গ্রহণ করেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, সিআইডি’র ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি, সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেন্টার এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও একাত্তরের বীর শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘রাজারবাগ-৭১’ নামের আবক্ষ মূর্তির নামফলক উন্মোচন করেন।

প্রধানমন্ত্রী উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সপ্তাহ ২০১৭ উদযাপন উপলক্ষে একটি কেক কাটেন।

মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন উত্তরের মেয়রসহ সামরিক ও বেসামরিক পর্যায়ের উধর্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিদেশী কূটনিতিক, কূটনৈতিক মিশনের সদস্যবৃন্দ, দাতা সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে পুলিশের জনবল যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার বাংলাদেশ পুলিশে আরো ৫০ হাজার জনবল নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৪১ হাজার পদ সৃজন করা হয়েছে।

বর্ধিত জনবলের সাথে প্রয়োজনীয় যানবাহন ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি সরবরাহের বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ