ঢাকা, মঙ্গলবার 24 January 2017, ১১ মাঘ ১৪২৩, ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অন্যের হয়ে কারাভোগ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে এক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামীর পরিবর্তে সাজাভোগ করা বদলাবন্দী রিপন আহমদ ভুট্টো ও দুই আইনজীবীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালতের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে এই মামলা করা হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল সোমবার দুপুরে মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ছগির মীঞা বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এর আগে গত রোববার জেলা ও দায়রা জজ মো. মনির আহমদ পাটোয়ারী এক রায়ে প্রতারণার অভিযোগে ভুট্টোসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করতে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ভুট্টোকে সুমন হত্যা মামলা থেকে অব্যাহতি দেন আদালত। মামলার পর সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ছগির মীঞা জানান, বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমীটির সুপারিশের ভিত্তিতে তিনি থানায় এ অভিযোগ দাখিল করেছেন। আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। 

অভিযোগে যে চারজনের নাম আনা হয়েছে তারা হলেন বদলাবন্দী রিপন আহমদ ভুট্টো, সিলেট জেলা বারের আইনজীবী শাহ আলম, শিক্ষানবিশ আইনজীবী শামীম আহমদ ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দালাল লিয়াতক হোসেন। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল আহাম্মদ অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রেরণ করা হচ্ছে। 

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে একজনের অপরাধে অন্যজন জেল খাটার (বদলি কারাবন্দী) ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তদন্ত কমীটির সুপারিশ অনুযায়ী জেলা ও দায়রা জজ মো. মনির আহমদ পাটোয়ারী গত শনিবার সকালে কারাগার পরির্দশন করেন এবং ভুট্টোর সঙ্গে কথা বলেন।

গত ১৭ জানুয়ারি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে একজনের অপরাধে অন্যজন জেল খাটার (বদলিবন্দী) ঘটনায় গঠিত সিলেট জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী আবদুল হান্নানের নেতৃত্বে বিচারিক তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ মনির আহমেদ পাটোয়ারির কাছে জমা দেন। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। তার মুক্তির বিষয়ে দুই সদস্যের তদন্ত কমীটি গঠন করা হয়। এছাড়া কারা কর্তৃপক্ষও ভুট্টোকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আবেদন জানিয়ে ছিলেন।

২০০৯ সালের একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল ইকবাল হোসেন নামে এক ব্যক্তির। যার পরিচয় গ্রহণ করে ২০১৫ সাল থেকে সাজা ভোগ করা শুরু করেন রিপন আহমেদ। জেল সুপার ছগির মীয়া বলেন, রিপনকে দ্রুত বের করে আনা হবে এবং তাকে বিনা খরচে সৌদি আরব পাঠিয়ে দেয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দণ্ডপ্রাপ্ত ইকবাল হোসেনের সহযোগীরা। তাকে নানা সময় নগদ অর্থও দেয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত ইকবাল হোসেন বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন বলে জানান জেল সুপার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ