ঢাকা, মঙ্গলবার 24 January 2017, ১১ মাঘ ১৪২৩, ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সংবাদ মাধ্যমের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউসের যুদ্ধ ঘোষণা

রয়টার্স : সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে ‘সর্বশক্তি’ দিয়ে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণাধীন হোয়াইট হাউস।

সংবাদ মাধ্যমের ‘অন্যায্য আক্রমণের’ বিরুদ্ধে এই লড়াই বলে গত রোববার জানিয়েছে তারা। 

পূর্ণ দিবস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বপালনের প্রথম দিন, গত শনিবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে ‘লড়াই করছেন’। শুক্রবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের অভিষেকের সময় জনতার উপস্থিতিকে সাংবাদিকরা ‘খাটো’ করে দেখিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, ট্রাম্প ও তার হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাদের মনোভাব হোয়াইট হাউস ও সাংবাদিকদের মধ্যকার ঐতিহ্যগত দ্বান্দ্বিক সম্পর্ককে আরো কঠোর করে তুলছে।

 হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের প্রথম ছুটির দিনগুলো গণমাধ্যমের সঙ্গে খোঁচাখুঁচি করেই পার হয়েছে। এই বিষয়টি ট্রাম্পের নীতি ও মন্ত্রিপরিষদে তার নিয়োগজনিত বিতর্ককে ছাপিয়ে গেছে। 

নতুন প্রেসিডেন্টের প্রথম সিআইএ-র সদরদপ্তর পরিদর্শনকালেও এই বিষয়টিই প্রাধান্য পেয়েছে, তার তথ্যমন্ত্রীর প্রথম সংবাদ সম্মেলন এবং রোববারের টকশোগুলোতে তার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কথাবার্তায়ও বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে।

‘ফক্স নিউজ সানডে’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ রাইনস প্রিবাস বলেছেন, “উপস্থিত জনতার আকার বিষয় না, বিষয় হচ্ছে আক্রমণ এবং একদিনেই প্রেসিডেন্টকে অগ্রহণযোগ্য করার উদ্যোগ। এটি করবে আর আমরা চুপ করে বসে থাকবো, তা হবে না।”

তিনি বলেন, “প্রতিদিন সর্বশক্তি দিয়ে আমরা লড়াই করব এবং রোববার দ্বিগুণ শক্তিতে।”

টকশোতে তিনি তথ্যমন্ত্রী শন স্পাইসারের অভিযোগের পুনরোল্লেখ করেন।

দায়িত্ব নেওয়ার পর শনিবার নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে স্পাইসার অভিযোগ করে বলেছিলেন, শুক্রবার ট্রাম্পের অভিষেকের সময় ন্যাশনাল মলে জনতার উপস্থিতি সত্যিকারভাবে যা ছিল, গণমাধ্যমগুলো কারসাজি করে তার থেকে কম দেখিয়েছে। 

ট্রাম্পের অভিষেকের সময় উপস্থিতি জনতার সংখ্যাকে ‘এ পর্যন্ত সর্ববৃহৎ’ বলেও দাবি করেন স্পাইসার।

কিন্তু রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপর থেকে তোলা সব ছবিতে দেখা গেছে, ট্রাম্পের অভিষেকের সময় জনতার উপস্থিতি ২০০৯ সালে বারাক ওবামার অভিষেকের তুলনায় অনেক কম ছিল।

জনসমাবেশে জনতার উপস্থিতি গণনাকারী বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে অন্যান্য গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতেও স্পাইসারের এই বিবৃতিকে ব্যাপকভাবে চ্যালেঞ্জ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এই তার এই দাবিকে বিভিন্নভাবে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করা হয়। 

এনবিসি-র ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ক্যালিয়ানি কনওয়েকে জিজ্ঞেস করা হয়, তথ্যমন্ত্রী এই ধরনের পুরোপুরি মিথ্যা বিবৃতি কেন দিলেন।

এর জবাবে পাল্টা আক্রমণ করে কনওয়ে বলেন, “যদি আমাদের তথ্যমন্ত্রী সম্পর্কে এই ধরনের কথা বলা অব্যাহত থাকে তাহলে এখানকার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আমরা পুনর্বিবেচনা করবো বলে আমি মনে করি।”

তারা সবাই মিলে পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছেন, ট্রাম্পের নিউজ কভার করা সংবাদ মাধ্যমগুলোর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখবে।

ট্রাম্পকে খালেদা জিয়ার অভিনন্দন : যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের তিন দিন পর গতকাল সোমবার সকালে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন বারিধারায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে গিয়ে দলের চেয়ারপার্সনের এই বার্তা পৌঁছে দেন। রিপন বলেন, অভিনন্দন বার্তাটি আমি দূতাবাসের পলিটিক্যাল চিফ ড্যানিয়াল র‌্যাকভের কাছে পৌঁঁছে দিয়েছি। এতে খালেদা জিয়া যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানান। খালেদা জিয়া ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট অ্যান্টিনিও তাজানিওকেও শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন। এই বার্তা গুলশানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূতাবাসে পৌঁছে দেন ড. রিপন।

ট্রাম্প বিরোধী বিক্ষোভ ॥ আটক ব্যক্তিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনসহ বিশ্বের নানা শহরে বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভের নেতৃত্বে রয়েছে নারীরা। তবে ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের দিন বিক্ষোভ করতে যেয়ে আটক ব্যক্তিদের ১০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছেন আমেরিকার কেন্দ্রীয় সরকারের কৌসুলিরা। পার্সটুডে/আমাদের সময়.কম

গত ২০ জানুয়ারি শুক্রবার শপথ নেয়ার সময়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দুইশ’ ১৭ ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটক অনেকের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক দাঙ্গার অভিযোগ আনা হয়েছে। পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িয়ে পড়া বা পাঁচ হাজার ডলারের বেশি সম্পত্তি বিনষ্ট করাকে ওয়াশিংটন ডিসির আইন অনুযায়ী অপরাধমূলক দাঙ্গা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ সব আটক ব্যক্তির অধিকাংশকে ২৫ হাজার ডলার জরিমানা করা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

মার্কিন এটর্নি অফিস থেকে বলা হয়েছে, অধিকাংশ আটককারীকে বিনা জামিনে মুক্তি দেয়া হয়েছে। ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাসে তাদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে; তার আগে যেন তারা পুনরায় গ্রেফতার হওয়ার মতো তৎপরতায় জড়িয়ে না পড়েন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ