ঢাকা, মঙ্গলবার 24 January 2017, ১১ মাঘ ১৪২৩, ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

যে কোনো সময় সার্চ কমিটির ঘোষণা রাষ্ট্রপতির

স্টাফ রিপোর্টার : রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে রাষ্ট্রপতির সংলাপ শেষে সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী জোটের মধ্যে বাকযুদ্ধ চলমান। এরই মাঝে সার্চ কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা হতে পারে। যে কোনো সময় সেটি হতে পারে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ আজ মঙ্গলবার সার্চ কমিটির নাম ঘোষণা করতে পারেন এমন তথ্যও জানা গেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গতকাল সোমবার বিকেলে বঙ্গভবনে বৈঠক করেছেন রাষ্ট্রপতি। 

সূত্রটি জানায়, সময় স্বল্পতার কারণে আইন করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় না গিয়ে আপাতত সার্চ কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। আর ওই সার্চ কমিটির মাধ্যমেই আগামী কমিশনের নিয়োগ দিতে চান। বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে, সার্চ কমিটির সদস্য কারা হতে পারেন সে বিষয়টিও মোটামুটি বিবেচনায় রেখেছেন রাষ্ট্রপতি। সার্চ কমিটির গঠন বিষয়ে ও নাম চূড়ান্ত করার জন্য গতকাল বিকেলে বঙ্গভবনে বৈঠকে বসেছেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে তার সামরিক সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও তার ব্যক্তিগত সচিব, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে কমিটির সদস্য সংখ্যা ও চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই সার্চ কমিটির সদস্য সংখ্যা চারজন হবেন নাকি এর বেশি হতে পারে এই ব্যাপারে রাষ্ট্রপতিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন বলে সূত্রটি নিশ্চিৎ করেছে। 

একটি সূত্র জানায়, সার্চ কমিটির সদস্য সংখ্যা পাঁচজন হতে পারে। কারা কারা থাকছেন এই বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে কারা কারা থাকবেন এটার জন্য রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করতে হবে। কমপেক্ষ দুই জন বিচারপতি থাকবেন এটা মোটামুটি নিশ্চিত বলে একটি সূত্র আভাস দিয়েছে। এর আগের যে সার্চ কমিটি করা হয়েছিল ওই সার্চ কমিটির সদস্য হিসাবে যে সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ ছিলেন এবার তাদের রাখা হচ্ছে কিনা এই ব্যাপারে জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ওই ধরনের কোন পরিকল্পনা করা হয়নি। বিষয়টি রাষ্ট্রপতি আলোচনা করেই করবেন। সিদ্ধান্ত তিনি নিলেও বিষয়টি যাতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয় তিনি তেমন সিদ্ধান্তই নিবেন।

বিএনপি ছাড়া অন্যান্য দল তাদের মতো করে প্রস্তাব দিয়েছে। বিএনপি সুনির্দিষ্ট করে সার্চ কমিটির সদস্যদের পদবি বলার কারণে রাষ্ট্রপতিকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হচ্ছে। অন্তত তাদের প্রস্তাবের একজন হলেও রাখার চেষ্টা হবে। যাতে করে বিএনপি এ নিয়ে সার্চ কমিটির বিষয়ে কোন আপত্তি করতে না পারে। 

সার্চ কমিটি হয়ে গেলে এরপর তারা বেশি সময় পাবেনও না। কারণ ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কমিশন গঠন করতে হবে। আগামী একসপ্তাহ থেকে দশ দিন সার্চ কমিটিকে সম্ভাব্য কমিশনারদের নাম বাছাই করার জন্য সময় দেওয়া হতে পারে। এরমধ্যে সার্চ কমিটি নির্বাচন কমিশনার হওয়ার জন্য যাদেরকে যোগ্য মনে করবেন এই রকম দশটি নাম দিবেন। ওই দশটি নাম থেকে রাষ্ট্রপতি পাঁচটি নাম চূড়ান্ত করবেন। নাম চূড়ান্ত করার পর এখন চারজনকে নিয়োগ দিবেন। আর বাকি একজনকে নিয়োগ দিবেন আরো এক সপ্তাহ পরে। কারণ নির্বাচন কমিশনের বর্তমান চার কমিশনারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৮ ফেব্রুয়ারি। আর বাকি একজনের মেয়াদ শেষ হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। সেই হিসাবে একজন পরে দায়িত্ব নিবেন। তবে দায়িত্ব পরে নিলেও নিয়োগ একসঙ্গেও দেয়া হতে পারে।

এদিকে রাষ্ট্রপতির সংলাপ যদি ফলপ্রসূ না হয় তাহলে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে বিএনপি। অপরদিকে রাজপথ দখলে রাখার ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। রাষ্ট্রপতি কি করছেন এটার অপেক্ষায় বিএনপি। বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকারের ইচ্ছা মাফিক দলীয় মেরুদণ্ডহীন লোক দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলে জনগণ ও বিদেশিদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, স্বাধীন ইসি হলেই হবে না, জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশনের সহায়ক সরকার প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশন গঠনে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে রাজপথে আন্দোলনেই এর সমাধান করবে জনগণ।

মওদুদ আহমেদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির আন্দোলন রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা হবে। তবে আন্দোলনের নামে সহিংসতা করতে গেলে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অবাস্তব প্রস্তাব দিয়ে তো লাভ নেই। নির্বাচন কমিশন নিয়ে আর কোন সংলাপের সুযোগ নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ