ঢাকা, মঙ্গলবার 24 January 2017, ১১ মাঘ ১৪২৩, ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাইয়ে কমিটি কেন অবৈধ নয়

স্টাফ রিপোর্টার : মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাইয়ের জন্য জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের নির্দেশিকা এবং মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না-তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালককে দুই সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। 

নয়জন মুক্তিযোদ্ধার করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে গতকাল সোমবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।

আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ ও শরীফ হুমায়ুন কবীর। সরকার পক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

গত ১২ জানুয়ারি এক গেজেটে মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই বাছাইয়ের জন্য মহানগর ও জেলা, উপজেলায় কমিটি করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই বাছাইয়ের বিষয়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল গত বছরের ১০ ডিসেম্বর একটি নির্দেশিকা জারি করে। পরে গত ৫ জানুয়ারি আরেকটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাছাইয়ের তারিখ পরিবর্তন করা হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রফিকুল আলমসহ নয়জন মুক্তিযোদ্ধা এই রিট আবেদন করেন।

আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম পরে সাংবাদিকদের বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট প্রকাশের সময় ওই গেজেটকে চূড়ান্ত তালিকা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। শুধুমাত্র সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তপূর্বক সেই গেজেট বাতিলের ক্ষমতা আইন অনুযায়ী প্রয়োগ করা যায়।

হাসনাত কাইয়ুম বলেন, গেজেটভুক্ত সকল মুক্তিযোদ্ধাকে পুনরায় যাচাই বাছাই করার ক্ষমতা আইন অনুযায়ী জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের নেই। এ কারণে অন্য কাউকে দিয়ে কমিটি করার বিধানও প্রণয়ন করা হয়নি।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জানান, বর্তমানে ৫৫ হাজার গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। এ ছাড়া অনলাইনে প্রায় লক্ষাধিক আবেদন রয়েছে। স্ব স্ব উপজেলায় তাদের তালিকা যাচাই-বাছাই করা হবে। মুক্তিযোদ্ধা হলে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ১৩ বছর বয়স হতে হবে।

গত ১২ জানুয়ারি প্রকাশ করা প্রজ্ঞাপনে ছয় সদস্যবিশিষ্ট বাছাই কমিটির বিষয়ে বলা হয়, যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি হবেন ওই এলাকার সংসদ সদস্য (যদি তিনি মুক্তিযোদ্ধা হন), না হলে মুক্তিযুদ্ধকালীন জেলা কমান্ডার, যাকে মন্ত্রণালয় নিয়োগ দেবে। এ ছাড়া জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) বিভাগীয় সদস্য, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের প্রতিনিধি, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সদস্য, সংসদ সদস্যের একজন মনোনীত প্রতিনিধি। তাদের সাচিবিক সহায়তা করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। এ সময় উপস্থিত থাকবেন ‘লাল মুক্তি বার্তা’র তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধারা ও ভারতীয় তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধারা। কেউ অভিযুক্ত হলে তাকে একটা ফরম পূরণ করতে হবে। এই ফরমে তথ্য দিতে হবে তিনি কোথায় মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, তার কমান্ডার কে ছিলেন, কী অস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন। পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন কি না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ