ঢাকা, মঙ্গলবার 24 January 2017, ১১ মাঘ ১৪২৩, ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাদশাহর দাওয়াত

সুমাইয়্যা সিদ্দীকা : (বাদশাহ সুলায়মানের দরবার। পাত্র-মিত্র, জ্বিন, ইনসান, পশু-পাখি সবাই নিজ নিজ আসনে উপবিষ্ট। ঘোষক ঘোষণা করছে)
-হুশিয়ার! সাবধান! মহামান্য বাদশাহ সুলায়মান দরবারে হাজির। জ্বিন, ইনসান, পশু-পাখি-পাইক-পেয়াদা, সভাসদগণ পাত্র-মিত্র সকলে হুশিয়ার! সাবধান!
সভাসদগণ-আসসালামু আলাইকুম। বাদশাহ নামদার! আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন। হায়াতে তাইয়্যেবা দান করুন।
বাদশাহ-ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আল্লাহ আপনাদের সকলের কল্যাণ করুন।
উজিরে আ’লাকে লক্ষ্য করে বাদশাহ বললেন, উজিরে আ’লা!
উজিরে আ’লা-বলুন। বাদশাহ নামদার!
বাদশাহ-আমার বড় ইচ্ছা পৃথিবীর সব প্রাণীকূলকে একবেলা দাওয়াত করে খাওয়াবো।
উজিরে আ’লা-উত্তম প্রস্তাব! বাদশাহ নামদার! আপনি অর্ধেক পৃথিবীর বাদশাহ! আপনার রাজ্যের সকলকে একবেলা দাওয়াত খাওয়াবেন এটা তো তাদের অতি বড় সৌভাগ্য। কি বলেন আপনারা?
সভাসদগণ-এতো অতি উত্তম প্রস্তাব।
বাদশাহ-আপনি আজই সকল ব্যবস্থা করুন ও রাজ্যময় ঘোষণা দিয়ে দিন। আজ থেকে এক মাস পর দুপুরে সকলে রাজপ্রাসাদে আমন্ত্রিত।
উজিরে আ’লা—যথাস্তু।
বাদশাহ-আজকের মত দরবার এখানে শেষ। সকলে ভাল থাকুন। আল্লাহ হাফিয।
সভাসদগণ, আল্লাহ হাফিয। আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করুন।

**
বাদশাহ সুলায়মান জায়নামাযে সিজদায় পড়ে দু’আ করছেন-

‘হে আমার রব! হে রিযিকদাতা! আমার বড় ইচ্ছা আমার রাজ্যের সকলকে একটা বেলা দাওয়াত করে খাওয়াবো। তুমি আমায় সাহায্য করো।’
ঘোষক রাজ্যময় ঘোষণা করছে-
আনন্দ সংবাদ! আনন্দ সংবাদ! আনন্দ সংবাদ!
রাজ্যের যত জ্বিন, ইনসান, পশু-পাখি, মাছ, পোকা-মাকড় আছে, তাদের জানানো যাচ্ছে, আজ থেকে ১৮ দিন পর দুপুরবেলা সবাইকে বাদশাহর পক্ষ থেকে দাওয়াত করা হচ্ছে। সকলকে যথাসময়ে রাজ বাড়িতে উপস্থিত থাকতে বলা হচ্ছে।
পিঁপড়ার বাচ্চা- মা! মা! শুনেছ, বাদশাহ আমাদের দাওয়াত করেছেন।
মা- হ্যাঁরে বাছা! ঘোষক তো তাইই বলে গেল।
বাচ্চা, বাদশাহ নিশ্চয়ই আমাদের জন্য স্পেশাল আইটেম করবে? তাই না মা।
মা, হবে হয়তো। তবে বাদশাহ কি সবাইকে পেট পুরে খাওয়াতে পারবে? কণ্ঠে সংশয় ফুটে ওঠে পিঁপড়া মায়ের।
বাচ্চা, কেন পারবে না, মা? কত বড় বাদশা তিনি। কত বিশাল তার রাজত্ব!
মা, আল্লাহ তাকে সাহায্য করুন!

**
দেখতে দেখতে কাক্সিক্ষত দিনটি উপস্থিত। চারদিকে খুশির আমেজ। সারারাজ্য জুড়ে সাজ সাজ রব। সবাই সেজেগুঁজে দলে দলে কাতারে কাতারে রাজপ্রাসাদের দিকে আসছে। লোকে লোকারণ্য রাজবাড়ী। রংবেরং-এর ড্রেসে সজ্জিত হয়ে খুশিতে খেলা করছে ছোট ছোট বাচ্চারা। জ্বিন, পশু, পাখি, রংবেরং-এর কীট-পতঙ্গ মাটির নিচের, গাছের উপরের, এমনকি পানির নিচের অধিবাসীরাও এসেছে। রাজবাড়িতে মহা ধুমধামে রান্না-বান্না চলছে। ইয়া বিশাল বিশাল সাইজের ডেকচিতে পাকানো হচ্ছে শাহী খানা। মানুষের সাথে জ্বিনেরাও নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে চলছে। চারদিকে খাবারের মৌ মৌ ঘ্রাণ ভেসে বেড়াচ্ছে। স্থান স্থানে স্তূপ করে রাখা হয়েছে খাবার। জ্বিন-ইনসান, পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গ সকলের জন্য খাবার সাজিয়ে রাখা হচ্ছে।

**
খাবারের সময় হয়ে এলো। সবাই প্রথমে খাবার খেতে এলো সমুদ্র থেকে বিশালাকৃতির এক তিমি মাছ। এসেই সে তার ইয়া বড় মুখ হা করলো খাবারের জন্য। ওয়েটার তার জন্য বরাদ্দ খাবার এনে তিমির মুখে ঢেলে দিল।
তিমি গপ..গপ.. হ....া আরো দিন।
আরো দেওয়া হলো।
তিমি..গপ..গপ...গপ.. সে আরো চাইলো।
আরো খাবার দেয়া হলো।
তিমি, আরো দাও।
এভাবে দিতে দিতে সব খাবার শেষ। তবুও তিমির আরো খাবার চাই।
কিন্তু আর খাবার কোথা থেকে দিবে। খাবার তো শেষ। কা- দেখে তো সকলেই হতবাক।
তিমি বাদশাহ বললো, বাদশাহ! আমার আল্লাহ আমাকে তিনবেলাই পেট পুরে আহার করান আর তোমার দাওয়াত খেতে এসে আমাকে আজ অভুক্ত থাকতে হচ্ছে।

**
বাদশাহ সিজদায় পড়ে আল্লাহর কাছে দু’আ করছেন-
হে আল্লাহ! তুমি কত শক্তিশালী। ক্ষমতাবান! তোমার ক্ষমতার পরিধি কত বুঝতে আমরা অক্ষম। তুমি আমাকে মাফ করে দাও রব। তোমার ভাণ্ডার থেকে দান করো সকলের জন্য অফুরন্ত রিযিক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ