ঢাকা, মঙ্গলবার 24 January 2017, ১১ মাঘ ১৪২৩, ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভিসিহীন দিনাজপুর হাবিপ্রবিতে ভর্তিসহ সকল কার্যক্রম স্থবির

দিনাজপুর সংবাদদাতা : দিনাজপুরসহ এ অঞ্চলের সর্বচ্চ বিদ্যাপীঠ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) দীর্ঘ প্রায় চার মাস ধরে ভাইস চ্যান্সেলর না থাকায় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে চলতি ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষের অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। এ অবস্থায় সামনে সেশনজটের আশংকা দেখা দিয়েছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যখন সেশনজট কমিয়ে তথা না রাখার চেষ্টায় ব্যস্ত, তখন হাবিপ্রবিতে নতুন করে সেশনজটের আশংকা সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে। এছাড়া ভর্তি পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টরা চরম উৎকন্ঠায় দিনাতিপাত করছে। প্রায় চার মাস ধরে বন্ধ রয়েছে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শতাধিক মাষ্টাররোল কর্মচারীর বেতন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রী জানলেও সংকট নিরসনে কোন ব্যবস্থা নেই না বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাগণ।
২০১৬ সালে ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর মো. রুহুল আমিন তাঁর পদ থেকে বিদায় নেন। এরপর দীর্ঘ প্রায় চার মাস অতিবাহিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ হয়নি। ফলে এ অঞ্চলের সর্বোচ্চ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। হাবিপ্রবি’র রেজিস্ট্রার ও ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. মো. সাইফুর রহমান জানান, ভিসি না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষের অনার্স প্রথমবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। গত ডিসেম্বর মাসের ১৮, ১৯ ও ২০ তারিখে এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এবারের ভর্তি পরীক্ষায় ১৯৫৫টি আসনের বিপরীতে ৯৬ হাজার ৪১ জন শিক্ষার্থী আবেদন করে। ভিসি না থাকায় পরীক্ষা নেয়া ও পরীক্ষা পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করাও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিনি জানান, ভিসি না থাকায় শুধু ভর্তি পরীক্ষা নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত সেমিষ্টার পরীক্ষাগুলোও সময়মত নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরো জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় আর্থিক বিষয়ে ভিসির স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়, কিন্তু ভিসি না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক কাজগুলোও সময় মত করা সম্ভব হচ্ছে না। ঠিকাদাররা কাজ করেও সময়মত বিল না পাওয়ায় বর্তমানে উন্নয়ন কাজ বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শতাধিক মাষ্টাররোল কর্মচারীর বেতনও বন্ধ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাষ্টাররোল কর্মচারী জানান, ভিসি স্যার না থাকায় আমরা প্রায় চার মাস ধরে বেতন পাচ্ছি না। আর বেতন না পাওয়ায় আমরা প্রায় শতাধিক মাষ্টাররোল কর্মচারী পরিবার-পরিজন নিয়ে ধারুন আর্থিক সংকটে রয়েছি। ভিসি না থাকায় শিক্ষার্থীদের উপ-বৃত্তি প্রদানও বন্ধ রয়েছে। এছাড়া শিক্ষা সফরসহ বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, দিনাজপুরে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এর আগে কখনো এমন সমস্যার সম্মূখিন হয়নি প্রতিষ্ঠানটি। তাছাড়া দীর্ঘ প্রায় চার মাস ধরে ভিসি না থাকার নজির দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বাঁচানোর জন্য অবিলম্বে সরকারের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগের অনুরোধ জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার প্রফেসর ড. মোঃ সাইফুর রহমান জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে ভাল জানেন। আমরা আশা করি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান দিবেন।
অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের দাবিতে আন্দোলন শুরু হচ্ছে : দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী ঘাগরা ক্যানেল-পূনর্ভবা-গাবুরা-গর্ভেশ্বরী নদী সংস্কার ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের দাবিতে নদী বাঁচাও আন্দোলনের আন্দোলন শুরু হচ্ছে।
গতকাল সোমবার দিনাজপুর নদী বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আয়োজনে ফকিরপাড়াস্থ সম্প্রীতি প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার হল রুমে এক সভায় নতুন এ আন্দোলন সফল করতে পৃথক পৃথক ৩টি কমিটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দিনাজপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক উত্তরবাংলার নির্বাহী সম্পাদক জিনাত রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিডিসি) দিনাজপুর’র নির্বাহী পরিচালক, নদী বাঁচাও আন্দোলন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও দিনাজপুর জেলা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক যাদব চন্দ্র রায়। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এমএন ফাইন্ডেশনের আব্দুল হামিদ, সম্প্রীতি প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি হালিমা খাতুন, এনডিও’র নির্বাহী পরিচালক সামিউল আলম, এমবিএসকে’র ট্রেনিং ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন, এইড কুমিল্লা সংস্থার পিসি মোঃ দেলোয়ার হোসেন, প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের ও পূণর্বাসন সংস্থার সাধারন সম্পাদক বিলকিস আরা ফয়েজ। সভায় বক্তারা বলেন, নদী না বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে না। বর্তমানে নদীগুলো এবং শহরের ঘাগরা ক্যানেলটি সংস্কার না হওয়ার কারণে ভরাট হয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে পরিবেশসহ দেশীয় প্রজাতির মাছ ধ্বংস হচ্ছে। এ ছাড়া ঘাগরা ক্যানেলের দু’ধারে অবৈধভাবে বাড়ি-ঘর নির্মাণ হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধান করতে হলে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে ঘাগরা ক্যানেল ও নদীগুলোকে বাঁচাতে হবে। এ ব্যাপারে আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে খুব দ্রুত কর্মসূচী ঘোষনা করা হবে।
সভায় নতুন গঠিত কমিটিগুলোর মধ্যে “পূণর্ভবা নদীর সংস্কার ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ কমিটি” এর আহ্বায়ক হয়েছেন এমএন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আব্দুল হামিদ। “গাবুড়া-গর্ভেশ্বরী নদীর সংস্কার কমিটি” এর আহ্বায়ক হয়েছেন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ও পূণর্বাসন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বিলকিস আরা ফয়েজ এবং “ঘাগরা ক্যানেল সংস্কার ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ কমিটি” এর আহ্বায়ক হয়েছেন সম্প্রীতি প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক তামজিদা পারভীন সীমা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ