ঢাকা, বুধবার 25 January 2017, ১২ মাঘ ১৪২৩, ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

এসএমই খাতে ঋণ বিতরণে অনিহা টার্গেট পূরণে ব্যর্থ অধিকাংশ ব্যাংক

স্টাফ রিপোর্টার : এসএমই খাতে ঋণ বিতরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেয়া শর্ত মানছেনা অনেক ব্যাংক। দেড় বছর আগে শর্ত দেয়া হলেও ৩০ শতাংশ কোটা পূরণের টার্গেট পূরণ করতে পারছে না অধিকাংশ তফসিলি ব্যাংক। অনেকটা অনিহা থেকেই ব্যাংকগুলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের এই ঋণ বিতরণে পিছিয়ে পড়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে এই বিষয়ে আবারো ব্যাংকগুলোকে কড়া নির্দেশনা দিয়েছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) খাতে বিতরণ করেছে ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ঋণ। এ পরিমাণ ব্যাংকটির মোট ঋণ পোর্টফোলিওর মাত্র ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকটির এসএমই খাতে ঋণের স্থিতি হওয়ার কথা মোট ঋণ পোর্টফোলিওর ২০ শতাংশের বেশি।

সূত্র আরো জানায়, সোনালী ব্যাংকই শুধু নয়, এসএমই খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে আছে অধিকাংশ তফসিলি ব্যাংকই। এক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে বিদেশী ব্যাংকগুলো। তবে বেসরকারি খাতের কিছু ব্যাংকের এসএমই ঋণ বিতরণ সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত এসএমই ঋণ তাদের মোট ঋণ পোর্টফোলিওর গড়ে ১১ দশমিক ১৭ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকগুলো এ খাতে বিতরণ করেছে তাদের মোট ঋণ পোর্টফোলিওর গড়ে ১৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। একই সময়ে বিদেশী ব্যাংকগুলো এসএমই খাতে বিতরণ করেছে মোট ঋণ পোর্টফোলিওর মাত্র ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই ও স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক স্বপন কুমার রায় বলেন, ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ পোর্টফোলিওর ২০ শতাংশের বেশি ঋণ এসএমই খাতে বিতরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে নির্দেশনা রয়েছে। ২০১৬ সালের ৭ জানুয়ারি জারিকৃত বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে পাঁচ বছরের মধ্যে এসএমই খাতে ঋণ ৩০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অধিকাংশ ব্যাংকই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক পেছনে রয়েছে। তবে প্রতি বছরের শুরুতে এসএমই ঋণ বিতরণের জন্য ব্যাংকগুলোকে বার্ষিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেয়া হচ্ছে। আশা করছি, ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে এসএমই খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াবে।

প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই ‘এসএমই অর্থায়ন বিষয়ে মাস্টার সার্কুলার’ জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্কুলারটির ২ (২) বিধিতে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোর সামগ্রিক ঋণ পোর্টফোলিওতে এসএমই খাতে ঋণ বিতরণ ও ঋণ স্থিতির কাক্সিক্ষত হার হচ্ছে অন্যূন ২০ শতাংশ। পাঁচ বছরের মধ্যে এ হার অন্যূন ২৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে ব্যাংকগুলোকে। গত বছর এ সার্কুলারে সংশোধনী এনে পরবর্তী পাঁচ বছরে এসএমই খাতে ঋণ মোট পোর্টফোলিওর ৩০ শতাংশে উন্নীত করতে বলা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের বিতরণকৃত এসএমই ঋণের পরিমাণ ৪ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা। বিতরণকৃত এ ঋণ ব্যাংকটির মোট ঋণ পোর্টফোলিওর সাড়ে ১১ শতাংশ। একই সময়ে এসএমই খাতে জনতা ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণ ৯ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির মোট ঋণ পোর্টফোলিওর ১২ দশমিক ১২ শতাংশ। আর রূপালী ব্যাংক গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসএমই খাতে বিতরণ করেছে মোট ঋণ পোর্টফোলিওর প্রায় আড়াই শতাংশ।

এসএমই ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে ট্রাস্ট ব্যাংক। মোট ঋণ পোর্টফোলিওর মাত্র ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ এসএমই খাতে বিতরণ করেছে ব্যাংকটি। তবে এসএমই ঋণ বিতরণে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। মোট ঋণ পোর্টফোলিওর প্রায় ৫১ শতাংশ এসএমই খাতে বিতরণ করেছে ব্যাংকটি। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটি এসএমই খাতে বিতরণ করেছে ২৩ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ