ঢাকা, বুধবার 25 January 2017, ১২ মাঘ ১৪২৩, ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগকে আ’লীগ বিতর্কিত করেছে

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ কোন সময়ই সুস্থ অবস্থায় ক্ষমতায় থাকতে পারে না। তারা দেশের স্থিতি অবস্থাকে নষ্ট করে রাজনীতিতে অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করে। তারই ধারাবাহিকতায় নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগকে ইতোমধ্যে বিতর্কিত করে ফেলেছে এবং বিতর্কিত করতে বিভিন্ন রকম বক্তব্য দিচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো’র দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি এ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে।

 দোয়া মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ। এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আবু সাঈদ খান খোকন, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, কাজী আবুল বাশার, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে আমরা একটি সুষ্ঠু ধারায় বাংলাদেশের রাজনীতিকে ফিরে আনার চেষ্টা করছি। বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচন কমিশন গঠন করবার জন্য একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। এ প্রস্তাবের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি সকল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেছেন, কথা বলেছেন। সকলের মধ্যে এই বিশ্বাস জন্মেছিল যে, রাষ্ট্রপতি হয়তো এমন নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন যে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা থাকবে। তিনি বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। অন্যথায় সেই নির্বাচন কমিশন এদেশের মানুষ কখনও মেনে নেবে না, যা আওয়ামী লীগের বশংবদ হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। আওয়ামী লীগের এ সরকার অনৈতিক ও অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে তাদের যে বিরোধী পক্ষ অর্থাৎ একমাত্র সক্ষম বিরোধী পক্ষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং তাদের নেতৃবর্গকে নিমূর্ল করে দেয়ার জন্য আজকে নির্যাতন, নিপীড়ন, খুন, গুম ও হত্যার মধ্য দিয়ে সারা বাংলাদেশে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে। তারই ফলশ্রুতিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি তারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে ফেলেছে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে।

তিনি বলেন, ১/১১ যে অবৈধ সরকার যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে বিরাজনীতিকরণ করতে চেয়েছিল তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্বের প্রতীক এবং বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের আদর্শের প্রতীক জিয়া পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করবার যে নীলনকশা ছিল সেই নীল নকশার অংশ হিসাবে আরাফাত রহমান কোকো’কে গ্রেফতার করে নির্যাতন করেছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এবং সেই উদ্দেশ্যকে নিয়েই আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও এ দলের রাজনীতির পতাকা বহন করে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক নিয়ে চলেছেন সেই নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে তারা একদিকে রাজনীতি থেকে অন্যদিকে শারীরিকভাবে নিমূর্ল করার চেষ্টা করেছেন। এটা বিছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, এটা এদেশের রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্য আজকে যারা ষড়যন্ত্র করছেন, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করছেন সেই নীলনকশার এই একটি অংশ। 

 দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে রাজনীতির কথা বলা ঠিক নয় মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আজকে যে পরিবেশ ও পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এখন শুধু রাজনীতির কথা নয়, আমাদেরকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সক্ষম ও সবল হয়ে দাঁড়াতে হবে।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে ফখরুল বলেন, আরাফাত রহমান কোকো’র মৃত্যু হলেও একজন ক্রীড়া সংগঠক হিসাবে তিনি সকলের কাছে অম্লান হয়ে থাকবেন। তার মৃত্যু আমাদের শোকাহত করেছে কিন্তু এই শোককে ধারণ করে নিশ্চুপ হয়ে থাকলে চলবে না, বরং শোককে শক্তিতে পরিণত করে অপশক্তি ও বিধ্বংসী শক্তিকে অপসারণ ও পরাজিত করতে হবে। আসুন সেই শপথ করি। আরাফাত রহমান কোকো’র রুহের প্রতি তখনই সম্মান প্রর্দশন করা সম্ভব হবে যদি আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারি।

 দোয়া মাহফিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ইলিয়াস আলী থেকে শুরু করে আমাদের অনেক নেতাকর্মী গুম, খুন, ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। এর কারণ আজকে আমাদের ওপর একটি সরকার জগদ্দলের পাথরের মতো বসে আছে। যেখানে আমাদের কথা বলার অধিকার নেই। এ অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে আমাদের আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই। 

মির্জা আব্বাস বলেন, এক-এগারোর কুশীলবদের আমরা বিচার চেয়েছিলাম, বিচার হয়নি, হবেও না। কারণ সেই এক-এগারোর ফলই ভোগ করছে আজকের আওয়ামী লীগ। আমাদের এই জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে হবে। পরে আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ