ঢাকা, বুধবার 25 January 2017, ১২ মাঘ ১৪২৩, ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার কালো দিবস আজ

স্টাফ রিপোর্টার : আজ ২৫ জানুয়ারি বুধবার বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সেই কলংকজনক গণতন্ত্র হত্যার ৪২তম বার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে তৎকালীন শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার জাতীয় সংসদে মাত্র ১১ মিনিটে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা ‘বাকশাল’ কায়েম করেছিলেন। সেই কালো দিনকে গণতন্ত্রমনা, জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনসমূহ গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। বাকশাল প্রতিষ্ঠার কালো দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন কর্মসূচি পালন করবে।

এদিকে দিবসের প্রাক্কালে গতকাল মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এক বিশেষ বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তিনি পঞ্চদশ সংশোধনীকে মৃত বাকশালের প্রেতাত্মা আখ্যা দিয়ে বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীতে প্রধানমন্ত্রীকে একচেটিয়া ক্ষমতা দিয়ে মূলত: গণতন্ত্রকে সমাধিস্থ করে তার ওপর একক কর্তৃত্ত্ববাদী নির্দয় শাসনের ইমারত নির্মাণ করা হয়েছে। কথা, চিন্তা, বিবেক, মত প্রকাশ, সংগঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতা তথা সামগ্রিকভাবে মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়েছে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় দু:শাসন কায়েম করা হয়েছে। তিনি বলেন, নব্য বাকশালী জগদ্দল পাথরকে অপসারণ করার লক্ষ্যে জনগণ আজ দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। আবারও কঠিন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে চেপেবসা গণতন্ত্রবিরোধী শক্তিকে পরাভূত করে দেশের রক্তস্নাত বহুদলীয় গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে সবার প্রতি আহবান জানান তিনি। 

সূত্র মতে, পঁচাত্তরের সেদিন সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী বিল পাসের মাধ্যমে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয় এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান প্রেসিডেন্ট হন। এ বিলের মাধ্যমে প্রশাসন ব্যবস্থা শেখ মুজিবুর রহমান দেশের নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণাধিকারী হন। আওয়ামী লীগের প্রধান হিসেবে সবরকম ক্ষমতা লাভ করেন। এ পদক্ষেপকে তিনি তার ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ হিসেবে উল্লেখ করেন। আর এই দ্বিতীয় বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের মানুষের সব মৌলিক রাজনৈতিক অধিকার হারায়। অবরুদ্ধ হয় মানুষের বাক ও চিন্তার স্বাধীনতা।

শেখ মুজিব সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে ‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল)’ নামে নতুন দলের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে নিজেকে এই দলের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দেন। তিনি বাকশাল দর্শন বাস্তবায়নের জন্য দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ টাইমস ও বাংলাদেশ অবজারভার- এই চারটি পত্রিকা ছাড়া সকল ধরনের সংবাদপত্র বন্ধ করে দেন। বেকার হয়ে পড়ে বহু সাংবাদিক ও সংবাদপত্রসেবী।

বিএনপিসহ দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ও নিরপেক্ষ বুদ্ধিজীবীর অভিযোগ, বর্তমান সরকার দেশে আবারো বাকশাল কায়েম করছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৫ জানুয়ারি অধিকাংশ দলকে বাদ দিয়ে একতরফার একটি নির্বাচন করেছে আওয়ামীলীগ সরকার। সেই নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে কেউ প্রার্থীই হয়নি। গত কয়েক বছরে বন্ধ করা হয়েছে চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত ও ইসলামিক টিভি এবং দৈনিক আমার দেশ। নিষিদ্ধ করা হয়েছে ‘শীর্ষ নিউজ’সহ বহু অনলাইন নিউজ পোর্টাল। হামলা হয়েছে অনেক সংবাদপত্র ও মিডিয়া অফিসে। বেকার হয়েছে শত শত সাংবাদিক। মিডিয়ার স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করায় এবং উস্কানি দেয়ার কারণে এসব মিডিয়াকে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ