ঢাকা, বুধবার 25 January 2017, ১২ মাঘ ১৪২৩, ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় এখনও দুই লাখ বইয়ের সংকট

খুলনা অফিস : ২৪ দিন অতিবাহিত হলেও খুলনায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষার্থীর হাতে এখনও বই পৌঁছেনি। এ জেলায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর মিলিয়ে এখনও দুই লাখ ১৯ হাজার বইয়ের সংকট রয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রাথমিক বিভাগীয় শিক্ষা অফিস, মাধ্যমিক বিভাগীয় শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন সূত্রের খবরে এ তথ্য জানা গেছে।

খুলনা জেলার বিভিন্ন উপজেলার বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনেকেই ক্লাসের সব বই হাতে পায়নি। সবেমাত্র স্কুলে আসা কোমলমতি শিশুদের হাতেও অনেক বিদ্যালয়ে বই তুলে দেয়া যায়নি।

খুলনার সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মাছুম হোসেন এখনও নতুন বই না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে। কবে নতুন বই পাওয়া যাবে সে কথা রোজই শিক্ষকদের কাছে জানতে চায় ছোট্ট মাসুম। তারমতো অনেক শিশু এখন নতুন বইয়ের প্রত্যাশায় বসে আছে।

বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখনও পর্যন্ত না পাওয়া বইয়ের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন শ্রেণির বাংলা দ্রুত পঠন, মাধ্যমিক গণিত, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, ইংরেজি, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়। এছাড়াও নবম শ্রেণির বিজ্ঞান শাখার পদার্থ বিজ্ঞান ছাড়া অন্য কোনও বই এখনও শিক্ষার্থীরা হাতে পায়নি। ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং এবং মানবিক শাখার অর্থনীতি বই এখনও শিক্ষার্থীরা হাতে পায়নি।

খুলনায় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কয়রা, তেরখাদা, দিঘলিয়া ও রূপসা উপজেলায় চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ, খুলনা সদর, ফুলতলা, পাইকগাছা, বটিয়াঘাটা ও দাকোপে ৮ শতাংশ বই এখনও পৌঁছেনি।

খুলনার কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ তৌহিদুজ্জামান বলেন, আমরা এখনও প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সব বই পাইনি।

শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবার বইয়ের চাহিদা ছিল ১২ লাখ ৯৬ হাজার। এর মধ্যে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ১১ লাখ ৭৮ হাজার বই পাওয়া গেছে। বাকি এক লাখ ১৮ হাজার বই এখনও খুলনায় পৌঁছেনি। এ বই কবে নাগাদ পাওয়া যাবে তাও সুনির্দিষ্টভাবে জানা যাচ্ছে না। খুলনায় প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে এক হাজার ৭৪৮টি। জেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে ২৫ লাখ ২৮ হাজার বইয়ের চাহিদা রয়েছে। পাওয়া গেছে ২৪ লাখ ২৭ হাজার বই। এখনও এক লাখ এক হাজার বই পৌঁছেনি।

এদিকে, খোদ খুলনা জেলা স্কুলে এবারও চাহিদা মতো বই সরবরাহ করা হয়নি। এখানে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির জন্য ২৫০ সেট করে বইয়ের চাহিদাপত্র দিলেও তারা বই পেয়েছেন ২৪০ সেট। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রাক প্রাথমিক স্তরের বইয়েরও সংকট রয়েছে।

এ ব্যাপারে প্রাথমিকের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কাশেম জানান, সদরের সব স্কুলে বই পৌঁছে দেয়া হয়েছে। কোনও স্কুলে বইয়ের অতিরিক্ত চাহিদা থাকতে পারে। সে তালিকা পাওয়া সাপেক্ষে তা দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

খুলনা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার খোন্দকার রুহুল আমিন পাঠ্যবই সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘কিছু বই এখনও পাওয়া যায়নি। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব বই পাওয়া সাপেক্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেয়ার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের খুলনার বিভাগীয় পরিচালক টিএম জাকির হোসেন বলেন, ‘কিছু কিছু স্কুলে চাহিদাপত্র পাঠানোর পর অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। ফলে এসব বিদ্যালয়ে সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এছাড়াও প্রায় সব ক্লাসের ইংরেজি ভার্সনের বই এখনও পাওয়া যায়নি। এ কারণে পাঠ্যবইয়ের সংকট তীব্র দেখাচ্ছে।’ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এসব বই সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ