ঢাকা, বুধবার 25 January 2017, ১২ মাঘ ১৪২৩, ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পাল্টাপাল্টি দোষারোপেই সিরিয়া শান্তি আলোচনার প্রথমদিন পার

জানুয়ারি ২৪, আল জাজিরা, রয়টার্স : সিরিয়া ইস্যুতে কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় আয়োজিত শান্তি আলোচনার প্রথম দিনটি কোনও ধরনের সফলতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। আলোচনার ব্যাপারে গুরুত্বের ঘাটতি থাকার জন্য সিরিয়ার সরকার ও বিরোধী এ দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে।
সিরিয়ার সরকারি প্রতিনিধি দলটির প্রধান বাশার আল জাফারি বিদ্রোহীদের প্রতিনিধিদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, যে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আস্তানার বৈঠককে হেয় ও বাতিল করার চেষ্টা করছে। আলোচনা সফল করার ক্ষেত্রে বিদ্রোহীদের দলটির মধ্যে আগ্রহের কমতি আছে বলেও অভিযোগ করেন জাফারি।
গত সোমবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের প্রতিনিধি দলটি দেশটির সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
গত সোমবার বিরোধীদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া আল আরিদি আলজাজিরাকে বলেন, ‘এ আলোচনাকে বাস্তব রূপ দেওয়ার জন্য যদি গুরুত্ব সহকারে কাজ করা হয় তবে সেখানে আনুষ্ঠানিকতার বিষয় খুব একটা জরুরি হয় না। আমরা অস্ত্রবিরতি নিয়ে কোনও প্রতিশ্রুতির লক্ষণ দেখতে পাইনি। সবার আগে এ ব্যাপারে স্বচ্ছতা ও সমঝোতা থাকা উচিত। এখানে আসা এবং এখানে সব পক্ষকে একসঙ্গে পাওয়ার মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে বিষয়টিকে রাশিয়া গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। কিš‘ আমরা ঘটনাস্থলে এর বাস্তবায়ন দেখতে চাই। আর সেকারণে বিষয়গুলো আমাদের জন্য পুরোপুরি আশাবাদী হওয়ার মতো নয়।’
কাজাখস্তানের শান্তি আলোচনায় সিরিয়ার সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে রাশিয়া ও ইরান।
এদিকে সিরিয়া বিদ্রোহীমুক্ত করতে ইস্ট ঘওতার বাসিন্দারা অন্যত্র সরে যেতে বলেছে আসাদ বাহিনী। তবে স্থানীয়রা তাদের এলাকা সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে নারাজ। গত চার বছর ধরেই ইস্ট ঘওতা বিদ্রোহীদের দখলে রয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিক ওয়ারদ মারদিনি বলেছেন, ‘ইস্ট ঘওতার কোনো মানুষই তাদের আবাসস্থল ছাড়তে এবং এর নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে তুলে দিতে রাজি নয়। এজন্য যদি তাদের প্রাণ দিতে হয় তাতেও তারা এই এলাকা ছাড়বে না।’
গত কয়েক বছরে ইস্ট ঘওতার স্থানীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীরে সঙ্গে দামেস্ক বেশ কয়েকটি চুক্তি করেছে। এই বিদ্রোহীদের আসাদ বাহিনী ‘জঙ্গি’ হিসেবে চিহ্নিত করে। সম্প্রতি ওই এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিতে সেখানকার বাসিন্দাদের জিনিসপত্র নিয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। ঘওতা পরেই পূর্ব আলেপ্পো, দারায়া, মোয়াদামিয়াত আল শাম ও আল ওয়েরে বিমান হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে আসাদ বাহিনী। তবে ওইসব এলাকার লোকজনও তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে রাজি নন।
ইস্ট ঘওতার অধিকার কর্মী আবু সালেম আল সামি বলেছেন, ‘এলাকা ছেড়ে দিতে আমাদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে। এটা স্পষ্ট যে আলেপ্পোতেও সরকার একই পš’া অবলম্বন করেছে। বাস্তুচ্যুত করা সাময়িকভাবে মানসিক সংকট তৈরি করে। এমন সংকটের মধ্যে কেউ পড়তে চায় না। তারা সবার এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে চায়। সরকারের হুটহাট এসব সিদ্ধান্ত আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়। যা আমাদের পক্ষে মানা কষ্টকর।’
আল-সামি বলেন, ‘আমরা আর মানসিক চাপ নিত পারছি না। তাই এখনকার লোকজন একজোট হওয়ার চেষ্টা করছে। যাতে করে নিজেদের দাবি ও ইচ্ছা সরকারকে জানিয়ে দিতে পারে। আমরা যদি কোনো কিছু থেকে রেব হয়ে আসতে চাই তাহলে নিজেদেরই উদ্যোগ নিতে হবে। নিজেদের আওয়াজ তুলতে হবে।’
অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে সিরিয়ায় চালানো বিমান হামলা সমন্বয় করার কথা অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ২২ জানুয়ারি সিরিয়ার আল বাবের কাছে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) লক্ষ্যস্থলগুলোতে হামলার বিষয়ে জঙ্গিগোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে লড়াইরত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর ‘আমেরিকান অংশ’ থেকে দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেছে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা টিএএসএস এর প্রতিবেদনে বলা হয়, “এই যৌথ অভিযানে অস্ত্রশস্ত্রসহ জঙ্গিরা যেখানে জড়ো হয়েছিল সেই এলাকাটিসহ তাদের বেশ কয়েকটি অস্ত্র গুদাম ধ্বংস করা হয়।”
 গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) রাশিয়ার এ বিবৃতি পুরোপুরি অস্বীকার করে।
“যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সিরিয়ায় বিমান হামলার বিষয়ে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করছে না,” বলেছেন পেন্টাগনের মুখপাত্র এরিক পাহোন।
পাহোন জানান, রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (যুক্তরাষ্ট্রের) একটি যোগাযোগ চ্যানেল আছে যা শুধুমাত্র সিরিয়ার আকাশপথে দুই পক্ষের বিমানের সংঘর্ষ এড়ানোর বিষয়টিই দেখে।
গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র শন স্পাইসারকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, সিরিয়ায় রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হবে কিনা।
এর উত্তরে স্পাইসার বলেছেন, “যদি এমন কোনো উপায় থাকে যেখানে আইএসআইএসের সঙ্গে আমরা যে কোনো দেশকে নিয়ে লড়াই করতে পারি, হতে পারে এটি রাশিয়া বা অন্য কেউ, এবং যদি আমাদের জাতীয় স্বার্থের অংশীদারিত্ব থাকে, তাহলে অবশ্যই আমরা সেটি গ্রহণ করব।”
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে পরস্পর বিপরীত পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। মস্কো সমর্থন দিচ্ছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে এবং ওয়াশিংটন সুন্নি মুসলিম বিদ্রোহীদের।
এর বাইরে, আইএসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক একটি জোট বাহিনীর বিমান অভিযানেও নেতৃত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণার সময় বহুবার বলেছেন, আইএস ও অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে কাজ করতে চান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ