ঢাকা, বুধবার 25 January 2017, ১২ মাঘ ১৪২৩, ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

টিপিপি বাতিলের পর নিম্নমুখী মার্কিন পুঁজিবাজার

২৪ জানুয়ারি, রয়টার্স/ বিবিসি/ আলজাজিরা/সিএনবিসি : ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার পরপরই নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান পুঁজিবাজার ওয়াল স্ট্রিটের সূচক। গত সোমবার নির্বাহী আদেশে ১২টি দেশের এ অংশীদারিত্বের চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এ ঘোষণার পর ওয়াল স্ট্রিটে বিনিয়োগের আগে দ্বিতীয়বার চিন্তা করতে শুরু করেন বিনিয়োগকারীরা। বিশ্ববাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
বিনিয়োগকারীদের ভয়ের কারণ শুধু টিপিপি বাতিলই নয়। এরইমধ্যে নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (নাফটা) পর্যালোচনারও ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো’কে নিয়ে এ সংগঠন যাত্রা শুরু করেছিল। তবে ট্রাম্পের অভিষেকের পর অবশ্য হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প আরেকটি চুক্তিতে আবদ্ধ হতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেসব দেশ বাণিজ্য চুক্তি ভঙ্গ করছে এবং আমেরিকান কর্মীদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউ ইয়র্কভিত্তিক গ্লোবাল মার্কেটস অ্যাডভাইজরি গ্রুপ-এর একজন বিশেষজ্ঞ পিটার কেনি। তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য, অর্থনীতি, কর এবং প্রবিধানের মতো বিষয়গুলোতে ট্রাম্পের যে দৃষ্টিভঙ্গি তার সম্ভাব্য প্রভাব বা বিপর্যয় সম্পর্কে অনুধাবন করতে চাইছেন।’
সোমবার হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ডজনখানেক উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর চাপ কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন। দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে করপোরেট কর কমানোর কথাও বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সিরিজ বৈঠকের পরিকল্পনাও রয়েছে আলোচিত এই রাজনীতিক কাম ব্যবসায়ীর। দুই মাস ডলারের দর বৃদ্ধি পেলেও সাত সপ্তাহের মধ্যে এটি এখন সর্বনিম্ম। প্রতিযোগিতা বাড়ছে অন্যান্য মুদ্রার সঙ্গেও। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের স্টক এক্সচেঞ্জগুলোতে দিনে গড়ে ৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন শেয়ারের হাতবদল হয়।
ভিন্নমত যুক্তরাষ্ট্রে 
টিপিপি বাতিলের নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যা করেছি, তা মার্কিন কর্মীদের জন্য অনেক বড় কিছু।’ তবে ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক বাণিজ্য দূত রন ক্রিক। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি’কে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে চাকরিপ্রত্যাশীদেরই শুধু দেশে ফিরিয়ে আনবে না; এটা মার্কিন কৃষি ব্যবস্থাকেও ধ্বংস করবে।’
রন ক্রিক বলেন, ‘আমরা এখন এমন দেশগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করতে যাচ্ছি যারা ১৮ হাজারেরও অধিক পণ্যের ট্যারিফ কমাতে যাচ্ছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এখন তাদের পুরো ট্যারিফই বহাল থাকবে। এটা আমেরিকান কৃষক, পশু খামারের মালিক এবং ব্যবসাকে ধ্বংস করবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এ বাণিজ্য দূত বলেন, ‘এটা বিশ্বে একটি বৃহৎ শুল্কমুক্ত জোন তৈরি হওয়ার সমতুল্য। অথচ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, আমরা এতে অংশ নিতে চাই না।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ