ঢাকা, বুধবার 25 January 2017, ১২ মাঘ ১৪২৩, ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নিউজিল্যান্ড সফরে টাইগারদের ব্যর্থতায় হতাশ হাথুরুসিংহে

স্পোর্টস রিপোর্টার : নিউজিল্যান্ড সফরে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি আর টেস্ট সিরিজেও হোয়াইটওয়াশ হয়েছে টাইগাররা। তাই খুবই হতাশ বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। কিন্তু তার মতে ইতিবাচক দিক হলো- ম্যাচগুলোয় বাংলাদেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা সৃষ্টি করেছিল। বাংলাদেশ জয়ের সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছিল প্রায় প্রতিটি ম্যাচে। বাংলাদেশ দল এখানকার বিভিন্ন ভেন্যুতে তার লড়াই করার সামর্থ্য দেখিয়েছে। এছাড়া কোচ মনে করেন দলের তরুণ বোলাররা নিউজিল্যান্ড সফর থেকে যে অভিজ্ঞতা নিয়ে যাচ্ছে তা আগামীতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বোলিং আক্রমণ উন্নয়নে বেশ কাজে দেবে। ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের অধিনায়ক তামিম ইকবাল সব দায় স্বীকার করে বলেছেন দলের পরাজয়ের দায়-দায়িত্ব তার। এরজন্যে তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন। এ নিয়ে কোচ বলেন, ‘একজন ক্যাপ্টেন দায়দায়িত্ব স্বীকার করছেন এটি আরেকটি ভালো সূচনা। এখান থেকে আমরা আরেকটি নতুন যাত্রা শুরু করতে পারি। দ্বিতীয়ত হলো শুধু দায়দায়িত্ব স্বীকার করলেই চলবে না। সংশোধনের কাজও তাদেরকে করতে হবে।’ নিউজিল্যান্ডে সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এটি কতটা হতাশার, জানতে চাইলে কোচ বলেন, ‘সৎভাবে বলতে গেলে এটি খুবই হতাশার। কারণ দল যদি খারাপ খেলতো তাহলে এক কথা ছিল। আসলে মানসিক সমস্যা একটি সমস্যা। এটি আমরা চিহ্নিত করেছি। আরও কিছু সমস্যা আছে।’ দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদেও ব্যর্থতা নিয়ে বাংলাদেশের কোচ বলেন, ‘ব্যাটসম্যানদের প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুরো সফরজুড়ে বড় একটি সমস্যা ছিল। দলের খেলোয়াড় সবাই হয়তো এখন মানসিক-শারীরিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী না। ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের বোলাররা খুবই ভালো বল করেছেন। কিন্তু এটি কোনও অজুহাত নয়। বাংলাদেশের এ দলটিই দেশে খুব ভালো একটি দল। এরা দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেট খেলছে। কাজেই খেলোয়াড়দের ব্যর্থতা মানসিক-শারীরিক বা অন্য কোনও কারণে হতে পারে। কিন্তু আমি খুশী এ কারণে যে পুরো সিরিজে আমরা আমাদের শক্তিমত্তা দেখাতে পেরেছি। এরজন্যেই এ দলটির ওপর মানুষের প্রত্যাশাও বেশি। খেলোয়াড়দেরও তাদের প্রতি প্রত্যাশার ফল দেখানো উচিত।’বাংলাদেশ দলের সামনে আরও অনেক সিরিজ রয়েছে। এ অবস্থায় খেলোয়াড়দের করণীয় কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়রা তাদের ব্যর্থতার দায়দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এটি একটি ভালো সূচনা। দীর্ঘদিন পর আমরা বিদেশে খেলতে এসেছি। এই পরিবেশে এসে খেলোয়াড়রা অনেক কিছু শিখেছে। শুধুমাত্র বাজে ফিল্ডিংয়ের কারণে দল হেরেছে এই অভিযোগ আমি করবো না। এসব খেলারই অংশ। দুর্ভাগ্যজনক সত্য হচ্ছে দলের তরুণ বোলিং আক্রমণশক্তি প্রতিপক্ষের সমকক্ষ ছিল না। তবে নিউজিল্যান্ডে এসে তরুণ বোলারদের যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তা আগামীতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বোলিং আক্রমণ শক্তিশালী করার কাজে লাগবে। কারণ তারা এখানে দ্রুত শেখার পাশাপাশি নিজেদের ভুলগুলো সংশোধনও করেছে। এই অভিজ্ঞতা বোলারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।’ কামরুল ইসলাম রাব্বী ও মেহেদী হাসান মিরাজ সম্পর্কে কোচ বলেন, ‘এই দু’জন এর আগে প্রথম ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঢাকা টেস্টে খেলেছে। এখানে এসে তারা খেলেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে। এখান থেকে তারা নানাকিছু খুব তাড়াতাড়ি শিখেছে। এটা তাদের শারীরিকভাবেও চ্যালেঞ্জিং ছিল। বাংলাদেশের এই খেলোয়াড়রা হয়তো এভাবে বিদেশে খেলার সুযোগ পায়নি। কিন্তু ঘরোয়া লিগে তারা বিরতিহীন খেলেছে। খেলোয়াড়দের অনেকের হয়তো এখন শারীরিক-মানসিক বিশ্রাম দরকার। ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে কামরুল ইসলাম রাব্বী ৬৩ বল খেলে টিকে থেকে অপরপ্রান্তের ব্যাটসম্যানকে সমর্থন দিয়েছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫ ঝড়ো রান করে অপরাজিত থাকার মাধ্যমে নিজের ব্যাটিং সামর্থ্যেও প্রমান দিয়েছেন কামরুল ইসলাম রাব্বী।’ সামনে ভারত আর শ্রীলংকার সাথে খেলা আছে। ফলে মোটেই বিশ্রাম নেই ক্রিকেটারদের। এটা নিে কোচ বলেন, ‘চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে খেলোয়াড় যারা বিশ্রাম চায় তাদের বিশ্রামের ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শারীরিক সামর্থ্য বাড়াতে যারা আরও অনুশীলন চায় সে ব্যবস্থাও করা হবে।’ তামিম, সাকিবের বিদেশী লিগে খেলা আর মুস্তাফিজকে নিয়ে কোচ বলের, ‘তারা পেশাদার খেলোয়াড়। তাদের বিষয়গুলো দেখার যোগ্যতা-সামর্থ্য তারা নিজেরাই রাখেন।’ আর মুস্তাফিজ মেডিক্যালি ক্লিয়ার। কিন্তু সে নিজের ফিটনেস নিয়ে যে অনাস্থায় ভুগছে তা থেকে উত্তরণের কাজ তারা করে যাচ্ছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ