ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 January 2017, ১৩ মাঘ ১৪২৩, ২৭ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ফের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান করে ৬ সদস্যের সার্চ কমিটি ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার: নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে ফের আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান করে ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষ করে গতকালই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ২০১২ সালের ২২ জানুয়ারি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান বর্তমান নির্বাচন কমিশনের জন্য বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান করে চার সদস্যের সার্চ কমিটি করেছিলেন। সেই সার্চ কমিটিই ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত বর্তমান সিইসিসহ অন্য নির্বাচন কমিশনারদের নাম প্রস্তাব করে। 

সার্চ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসপি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মাসুদ আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক শিরীন আখতার।

এদিকে নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের লক্ষ্যে গঠিত ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি আওয়ামী লীগ সরকারের পছন্দের কমিটি বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এ সার্চ কমিটি নিয়ে আমরা শুধু হতাশই নই, ক্ষুব্ধও হয়েছি। এ কমিটির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আবারও ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন করতে চায়। মির্জা ফখরুল বলেন, রাষ্ট্রপতি আলোচনা শুরুর পরে একটি আশার আলো দেখা দিয়েছিল। কিন্তু সেই আশা হতাশায় পরিণত হয়েছে, চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে, তা আওয়ামী লীগ সরকারের পছন্দের কমিটি। কারণ, সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভিসি এগুলো সরকারের নিয়োগ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসির বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, কী নিরপেক্ষ সার্চ কমিটি হয়েছে তা বোঝা যাচ্ছে। আমরা শুধু হতাশই হয়নি, ক্ষুব্ধও হয়েছি।

এর আগে ছয় সদস্যের সার্চ কমিটির প্রস্তাব বঙ্গভবন থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়। সেখান থেকে একটি সারসংক্ষেপ আকারে তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর সেটি আবার রাষ্ট্রপতির কছে আসে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ওই বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এই সার্চ কমিটি নামপ্রস্তাবের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্য নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে।

বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠনে ২০১২ সালের ২২ জানুয়ারি চার সদস্য বিশিষ্ট সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ওই কমিটিতে সদস্য হিসেবে ছিলেন হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান। তখন কমিটি ১০ কর্মদিবসের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ পেশ করে। বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্য তিন নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। অপর কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজের মেয়াদ শেষ হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি।

এরই প্রেক্ষিতে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সার্চ কমিটি করতে গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেন রাষ্ট্রপতি। সংলাপ শেষ হয় ১৮ জানুয়ারি। এ সময়ে রাষ্ট্রপতি আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ ৩১টি দলের সঙ্গে সংলাপ করেন। প্রায় প্রতিটি দলই নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দেয়। তবে আইন না হওয়া পর্যন্ত সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে নতুন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল দলগুলো। প্রায় সবগুলো দলই নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি গ্রহণযোগ্য সার্চ কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছিল। 

রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দুটি সূত্র জানিয়েছে, সার্চ কমিটি গঠন করতে জিল্লুর রহমানের ওই ফর্মুলা বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদও অনুসরণ করেছেন। তবে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এবং নারী প্রতিনিধি হিসেবে শিরীন আখতারকে অন্তর্ভুক্ত করে এর আকার বাড়িয়েছেন। 

সার্চ কমিটিতে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে শিরীন আখতার গণমাধ্যমকে বলেন, কিছুক্ষণ আগে খবরটা পেলাম। এই দায়িত্বকে সুন্দর এবং পবিত্র দায়িত্ব বলে মনে করছি। আশা করি, সুষ্ঠুভাবে এ দায়িত্ব পালন করতে পারব। 

সূত্র জানিয়েছে, ১৯৯৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই শিরীন আখতার আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন হলুদ দলের সঙ্গে রয়েছেন। ২০১৪ সালে হলুদ দলের প্যানেল থেকে শিক্ষক সমিতির কার্যকরী সদস্য হয়েছিলেন। তিনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় সদস্য। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেয়া জীবনবৃত্তান্ত থেকে জানা যায়, শিরীন আখতারের বাবা মৃত আফসার কামাল চৌধুরী কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

এদিকে আরেক নতুন সদস্য কম্পোট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল মাসুদ আহমেদ এর কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, এটা আমার কাছে মোটামুটি স্বাভাবিক বিষয়। এটি গুরুদায়িত্ব। এখানে একটি বিষয় আছে সেটা হলো, এই কমিটি যাদেরকে নির্বাচন করবেন তাদের হাতে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনগুলো হবে। সুতরাং যাদেরকে নির্বাচন করা হবে, আইন যেমনই থাকুক না কেন তারপরেও যাদেরকে আমরা নির্বাচন করবো তাদেরকে ব্যক্তিগত সংস্কৃতি এবং তাদের যে আদর্শ সেটি অবশ্যই নির্বাচন পরিচালনা কালে কিছুটা হলেও কাজে লাগাতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ