ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 January 2017, ১৩ মাঘ ১৪২৩, ২৭ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

‘এক স্কোর বাড়লেও বাংলাদেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা ও গভীরতা উদ্বেগজনক’

স্টাফ রিপোর্টার : বার্লিনভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) কর্তৃক প্রকাশিত দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০১৬ অনুযায়ী ২০১৫ সালের তুলনায় বাংলাদেশের স্কোর এক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নি¤œক্রম অনুযায়ী অবস্থানের দুই ধাপ উন্নতি হয়েছে। তবে বৈশ্বিক গড় স্কোরের তুলনায় বাংলাদেশের ২০১৬ সালের স্কোর এখনো অনেক কম। গতবারের চেয়ে এক স্কোর বৃদ্ধি পেলেও দক্ষিণ এশিয়ায় এবারও বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় সর্বনিম্ন হওয়ায় দেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা ও গভীরতা এখনও উদ্বেগজনক। এই প্রেক্ষাপটে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরো কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। 

গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর ধানম-িস্থ টিআইবি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশিত সিপিআই ২০১৬ এর বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিবেদন সম্পর্কে আলোকপাত করেন নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম. হাফিজউদ্দীন খান, ড. আলী ইমাম মজুমদার, উপ-নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের প্রমুখ। 

এবারের সিপিআই সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ২৬। তালিকায় নিম্নক্রম অনুযায়ী ১৭৬ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫তম। যা গত বছরে ১৬৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থা ছিল ১৩তম। টিআই’র সূচকে সোমালিয়া সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, চলতি বছর একই স্কোর পেয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে তালিকায় নিম্নক্রম অনুযায়ী পঞ্চদশ অবস্থানে সম্মিলিতভাবে আরও রয়েছে ক্যামেরুন, গাম্বিয়া, কেনিয়া, মাদারগাস্কা ও নিকারাগুয়া। এ বছর ঊর্ধ্বক্রম অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৫তম। এর আগে ২০১৪ সালে ১৭৫টি দেশের মধ্য বাংলাদেশের অবস্থান ১৪তম, ২০১৩ সালে ১৬তম এবং ২০১২ সালে ১৩তম, ২০১১ সালে ১৩তম স্থানে ছিল।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সূচক অনুযায়ী বৈশ্বিক গড় ৪৩ হওয়ায় এবং দক্ষিণ এশিয়ায় শুধুমাত্র আফগানিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় সর্বনি¤œ হওয়ার প্রেক্ষাপটে বলা যায় বাংলাদেশের দুর্নীতির পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে মনে করা হচ্ছে, বাংলাদেশের আইনী, প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতি কাঠামো তুলনামূলকভাবে সুদৃঢ়তর হয়েছে এই ধারণা থেকে সূচকে বাংলাদেশের স্কোর এক বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু প্রয়োগের ঘাটতির কারণে আমরা আরো ভালো করতে পারিনি।

তিনি আরে বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোরালো রাজনৈতিক ভূমিকা গ্রহণের পাশাপাশি আইনের শাসন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতকল্পে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যে কোন ধরনের প্রভাবমুক্ত থেকে স্বাধীন ও কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। একইসাথে জবাবদিহিতার জন্য শক্তিশালী দাবি উত্থাপনে গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি সংস্থাসহ আপামর জনগণের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। 

সাংবাদিক সম্মেলনে আরো জানানো হয়, সিপিআই সম্পর্কে যথাযথ ধারণার অভাবে অনেক সময় ‘বাংলাদেশ দুর্নীতিগ্রস্ত বা বাংলাদেশের অধিবাসীরা সবাই দুর্নীতি করে’ এ ধরনের ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। যদিও দুর্নীতি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য দূরীকরণ- সর্বোপরি, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে কঠিনতম অন্তরায়, তথাপি বাস্তবে দেশের আপামর জনগণ দুর্নীতিগ্রস্ত নয়। তারা দুর্নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভুক্তভোগী মাত্র। ক্ষমতাবানদের দুর্নীতি এবং তা প্রতিরোধে দেশের নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যর্থতার কারণে দেশ বা জনগণকে কোনোভাবেই দুর্নীতিগ্রস্ত বলা যাবে না। 

সভাপতির বক্তব্যে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, এবারের স্কোর আমাদের এতটুকু স্বস্তি দিচ্ছে যে আমরা আগের চেয়ে আরো নিচে নেমে যাইনি। আমাদের অবস্থান কিছুটা ভালো হয়েছে। কিন্তু এতে আমাদের দুর্নীতিবিরোধী যে সংগ্রাম বা অবস্থান তাকে লঘু করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ এখনো আমরা খুশী হওয়ার মত অবস্থানে যেতে পারিনি। এজন্য দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ