ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 January 2017, ১৩ মাঘ ১৪২৩, ২৭ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

৫ জনের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন পরবর্তী তারিখ ২৯ জানুয়ারি

রংপুর অফিস : রংপুরের চাঞ্চল্যকর জাপানী নাগরিক কোনিও হোশি হত্যা মামলায় জেএমবি জঙ্গিদের বিচার চলছে। রংপুরের বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্র সরকারের আদালতে গতকাল বুধবার ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়েছে। সোমবার থেকে বুধবার ৩ দিনে মোট ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হয়েছে। আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেরুয়ারি পর্যন্ত পরবর্তী সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। 

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মামলার আসামী ৫ জেএমবির জঙ্গি মাসুদ রানা, এছাহাক আলী, সাখাওয়াত হোসেন, লিটন ও আবু সাঈদকে আদালতে আনা হয়। সকাল ১১টায় সাক্ষগ্রহণ শুরু হয়। আদালতে জবানবন্দী প্রদানকালে সাক্ষী আব্দুল আজিজ বলেন ঘটনার প্রায় ৫ মাস আগে আসামীরা তার রংপুর নগরীর নুরপুর এলাকায় অবস্থিত বাসা ভাড়া নেয়। তারা সকলেই কাপড়ের ব্যবসায়ী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেয়। তিনি আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা জঙ্গি মাসুদ রানা, এছাহাক আলী, সাখাওয়াত হোসেন, লিটন ও আবু সাঈদকে দেখিয়ে এরা সকলেই তার বাসায় থাকতো। এদের মধ্যে কেউ কেউ একটি অটো রিকসা চালাতো। এ জন্য তারা একটি অটো রিকশা কিনেছে বলে তাকে জানায়। তিনি আরো জানান ওই বাসায় জঙ্গি সাদ্দাম ও সাখাওয়াতের স্ত্রী পরিচয়ে দুই মহিলা দুই সন্তান নিয়ে তার বাসায় অবস্থান করতো। তারা যে জঙ্গি সে বিষয়টি তিনি জানতে পারেননি। তবে জাপানী নাগরিককে গুলী করে হত্যার ঘটনায় ৫ জঙ্গিকে পুলিশ গ্রেফতার করলে তিনি থানায় গিয়ে তাদের সনাক্ত করেন। এরাই কাপড় ব্যবসায়ীর পরিচয় দিয়ে জঙ্গি কাজ করেছে আগে জানতে পারলে পুলিশকে জানাতাম বলে জানান। 

এ ছাড়াও আরো ৪ জন সাক্ষী আজ আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন এরা হলেন নিহত জাপানী নাগরিক কোনিও হোশির দোভাষি কাজী ইবনে নুর অন্ত, যেখানে কোনিকে হত্যা করা হয়েছিলো সেই আলুটারী গ্রামের নুর জাহান বেগম ও নুর ইসলাম এবং যে দোকান থেকে জঙ্গিরা অটো রিকশা কিনেছিলো সেই দোকানদার জসিম উদ্দিন। তিনিও কাঠ গড়ায় দাঁড়ানো ৫ জঙ্গিকে দেখিয়ে এদেরকে তিনি তার দোকানে বেশ কয়েকবার আসতে দেখেছেন বলে জবানবন্দীতে জানান।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মামলা পরিচালনাকারী বিশেষ পিপি রথীশ চন্দ্র এ্যাডভোকেট জানান ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর জাপানী নাগরিক কোনিও হোশিকে হত্যার প্রায় ৫ মাস আগে জঙ্গিরা রংপুর নগরীর নুরপুরে বাসা ভাড়া নিয়ে কখনও অটো রিকশা কখনও বা কাপড় ব্যবসার কথা বলে অবস্থান করেছে। তাদের সঙ্গে ২ নারী জঙ্গিও ছিলো। আজ আদালতে ওই বাসার মালিক আব্দুল আজিজ কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ৫ জঙ্গিকে সনাক্ত করেছে। 

উল্লেখ্য ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার আলুটারী গ্রামে জাপানী নাগরিক রিকশাযোগে সেখানে তার ঘাসের খামারে যাবার সময় দুবৃর্ত্তরা তাকে গুলী করে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এ ঘটনায় কাউনিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীকালে জেএমবির জঙ্গি মাসুদ রানা গ্রেফতার হবার পর জেএমবির জঙ্গিরাই জাপানী নাগরিককে হত্যা করেছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে। পরে মাসুদ রানা ছাড়াও আরো ৪ জঙ্গি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ ৮ জঙ্গির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জসীট দাখিল করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ