ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 January 2017, ১৩ মাঘ ১৪২৩, ২৭ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পুলিশ এখন জনবান্ধব বাহিনী -আইজিপি

স্টাফ রিপোর্টার : পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, ‘পুলিশ এখন জনবান্ধব বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় এ বাহিনী বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।’ গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ সপ্তাহের তৃতীয় দিনে শিল্ড প্যারেডের পদক বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি বলেন, ‘পুলিশকে দেখে আগে জনগণ ভয় পেত। কিন্তু এখন সে অবস্থা পাল্টেছে। পুলিশ ও জনগণ একসঙ্গে কাজ করার জন্য ইতিমধ্যেই মহানগর এলাকা, জেলা, উপজেলায় কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পুলিশ ও জনগণ সমন্বয় করে এলাকার নিরাপত্তায় বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এতে এলাকায় অপরাধ কমছে। একই সঙ্গে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে সেখানে পুলিশ দ্রুত যাচ্ছে। ভুক্তভোগী থানায় এসে পুলিশের সহযোগিতা পাচ্ছে।’

পুলিশ প্রধান বলেন, ‘গত বছর জঙ্গিরা নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করে। তবে পুলিশের নিরলস পরিশ্রম, কাজের দক্ষতা, সর্বোপরি আন্তরিকতায় অল্প দিনেই জঙ্গিরা কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। এতে বিদেশেও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।’এ ধারা অব্যাহত রাখতে পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দেন এ কে এম শহীদুল হক।

এর আগে শিল্ড প্যারেডের বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক।

ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২৯৩ পুলিশ সদস্যকে আইজিপি ব্যাজ দেয়া হয়। গতকাল দুপুরে আইজিপি নিজ হাতে এ ব্যাজ পড়িয়ে দেন। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ছয়টি বিশেষ ক্যাটাগরিতে এ ব্যাজ দেয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করে কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা, সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করা পুলিশ কর্মকর্তাদের একটি তালিকা করা হয়। তালিকা অনুযায়ী এবার ২৮৮ জনকে ব্যাজ দেয়ার কথা থাকলেও আরো কিছু বিষয় বিবেচনা করে এ সংখ্যা বাড়ানো হয়।

এ ক্যাটাগরিতে ৫৩ জন, বি ক্যাটাগরিতে ১০১ জন, সি ক্যাটাগরিতে ৪৭ জন, ডি ক্যাটাগরিতে ৩৩ জন, ই ক্যাটাগরিতে ৩৬ জন এবং এফ ক্যাটাগরিতে ১৮ জন আইজিপি ব্যাজ পেয়েছেন। বাকি পাঁচজনকে অন্য ক্যাটাগরিতে ব্যাজ দেয়া হয়।

ব্যাজ পাওয়া পুলিশ সদস্যরা কাজের প্রতি আরো আন্তরিক হবেন বলে আশা করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

পুলিশ সপ্তাহ ২০১৭ উপলক্ষে ২০১৬ সালে প্রশংসনীয় ও ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ব্যাজ প্রদান করা হয়।

এছাড়া বিকেলে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক দ্রব্য ও চোরাচালানের মালামাল উদ্ধার অভিযানে সাফল্য অর্জনকারী ইউনিটকেও পুরস্কৃত করা হয়।

২০১৬ সালে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে ‘ক’ গ্রুপে কুমিল্লা জেলা প্রথম, চট্টগ্রাম জেলা দ্বিতীয় এবং সিএমপি (চট্টগ্রাম) তৃতীয় হয়েছে। ‘খ’ গ্রুপে যশোর জেলা প্রথম, কুষ্টিয়া জেলা দ্বিতীয় এবং মুন্সীগঞ্জ তৃতীয় হয়েছে। ‘গ’ গ্রুপে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রথম, রাজবাড়ী জেলা দ্বিতীয় এবং নড়াইল তৃতীয় হয়েছে। ‘ঘ’ গ্রুপে র‌্যাব-৮ বরিশাল প্রথম, র‌্যাব-৭ চট্টগ্রাম দ্বিতীয় এবং র‌্যাব-৫ রাজশাহী তৃতীয় হয়েছে। ‘ঙ’ গ্রুপে ডিবি, ডিএমপি প্রথম, উত্তরা বিভাগ, ডিএমপি দ্বিতীয় এবং মিরপুর বিভাগ, ডিএমপি তৃতীয় হয়েছে। 

২০১৬ সালে মাদক দ্রব্য উদ্ধারে ‘ক’ গ্রুপে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রথম, কুমিল্লা জেলা দ্বিতীয় এবং চট্টগ্রাম তৃতীয় হয়েছে। ‘খ’ গ্রুপে যশোর জেলা প্রথম, কক্সবাজার জেলা দ্বিতীয় এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা তৃতীয় হয়েছে। ‘গ’ গ্রুপে লালমনিরহাট জেলা প্রথম, মাদারীপুর জেলা দ্বিতীয় এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ তৃতীয় হয়েছে।‘ঘ’ গ্রুপে র‌্যাব-৭ প্রথম, র‌্যাব-৫ দ্বিতীয় এবং র‌্যাব-১৪ তৃতীয় হয়েছে। ‘ঙ’ গ্রুপে সিটিটিসি, ডিএমপি প্রথম, ডিবি, ডিএমপি দ্বিতীয় এবং ডিএমপি, ওয়ারী বিভাগ তৃতীয় হয়েছে। ‘চ’ গ্রুপে হাইওয়ে পুলিশ প্রথম, এপিবিএন দ্বিতীয় এবং রেলওয়ে পুলিশ তৃতীয় হয়েছে।

২০১৬ সালে চোরাচালান মালামাল উদ্ধারে ‘ক’ গ্রুপে সিএমপি প্রথম, দিনাজপুর জেলা দ্বিতীয় এবং বগুড়া জেলা তৃতীয় হয়েছে। ‘খ’ গ্রুপে নাটোর জেলা প্রথম, যশোর জেলা দ্বিতীয় এবং ঢাকা জেলা তৃতীয় হয়েছে। ‘গ’ গ্রুপে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রথম, জয়পুরহাট জেলা দ্বিতীয় এবং মেহেরপুর জেলা তৃতীয় হয়েছে। ‘ঘ’ গ্রুপে র‌্যাব-৭ প্রথম, র‌্যাব-৫ দ্বিতীয় এবং র‌্যাব-৯ তৃতীয় হয়েছে। ‘ঙ’ গ্রুপে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগ প্রথম, ডিএমপির লালবাগ বিভাগ দ্বিতীয় এবং ডিএমপির মিরপুর বিভাগ তৃতীয় হয়েছে। ‘চ’ গ্রুপে এপিবিএন প্রথম, রেলওয়ে পুলিশ দ্বিতীয় এবং হাইওয়ে পুলিশ তৃতীয় হয়েছে। শিল্ড প্যারেড প্রতিযোগিতায় প্রথম শিল্প পুলিশ দল, দ্বিতীয় যৌথ মেট্রোপলিটন দল এবং তৃতীয় হয়েছে এপিবিএন দল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ