ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 January 2017, ১৩ মাঘ ১৪২৩, ২৭ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আদমদীঘি উপজেলার গাছে গাছে আমের মুকুলের সমারোহ ॥ মৌমাছির গুঞ্জরণে সাজছে বাগান

বগুড়ার আদমদীঘিতে  মুকুলে ভরে গেছে আম গাছ। ছবিটি গতকাল উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রাম থেকে তোলা

আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা : বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার প্রায় সর্বত্র ও প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় সুমিষ্টি আম গাছের ডগায় ডগায় সমারোহ ঘটেছে মুকুলের। সেই মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে বাড়ির সবার মনে দিয়েছে নতুন নতুন স্বপ্নের দোলা। আমগাছে আগাম মুকুল আসতে শুরু করেছে। বাতাসে ভেসে আসছে সুন্দর একটি গন্ধ। আমের আগাম মুকুল জানান দিচ্ছে মধুমাস সমাগত। 

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক মাস আগেই আবহাওয়াগত ও জাতের কারণেই মূলত আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। তবে চলতি মাসের শেষের দিকে প্রতিটি গাছেই পুরোপুরিভাবে মুকুল ফুটতে শুরু করবে বলে জানা গেছে। যেসব গাছে আগাম মুকুল আসতে শুরু করেছে তার বাগান মালিকরা পরিচর্যাও শুরু করেছেন। বড় ধরণের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এ বছর আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন আম চাষি ও বাগান মালিকরা। 

আম বলতে একসময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীকেই বোঝাত। এখন অবস্থা ভিন্ন। বগুড়ার পশ্চিমাঞ্চলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রায় সব জাতের আমের উৎপাদন হচ্ছে। লাভজনক হওয়া প্রতিবছর কৃষিজমিতে বাড়ছে আমের আবাদ। তবে আমের রাজার দেশ এখনও চাঁপাইনবাবগঞ্জ। দেশ জুড়ে যত আম বাগান তার বেশি ভাগ আম বাগান রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। বর্তমান যে পরিমান আমের মুকুল আসছে তার কিছু নষ্ট হয়ে যায় তার কারণ প্রথমত ঘনকুয়াশা, তারপর শিলাবৃষ্টি বা অতি খরা। 

প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেই আম গাছকে টিকতে হয় ফলের জন্য। প্রবাদে ও লোক কথায় আছে “কুয়োয় (কুয়াশা) আমের ক্ষয়, তেঁতুলের কিছু নয়” অর্থাৎ ঘন কুয়াশায় মুকুল ঝরে যায়। তেঁতুলের কিছুই হয় না। তাই মুকুল যতই ঝরুক শেষ পর্যন্ত যতটুকু টিকে থাকে তাতেই ১০/১২টি করে আম ধরে। এই আমের ভারই সইতে পারে না অনেক গাছ। 

আম বাগানে দেখা যায় অপূর্ব দৃশ্য। অনেক উঁচু গাছেরও মাটি থেকে ২/৩ ফুট ওপরেই ঝুলে থাকে থোকা থোকা আম। কখনও শাখায় বাঁশের ঠেকা দিতে হয়। হাতের নাগালের এই আম কেউ যেন ছেঁড়তে না পারে। আমের মুকুলই জানান দেয় ফলন কেমন হবে। 

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার একজন আম বাগানের মালিক জানান, ঝড় ও শিলা বৃষ্টি না হলে আশা করা যাচ্ছে এবারও আমের ফলন ভালই হবে, আমের মুকুল ভাল এসেছে বাগানে। আম্রমঞ্জুরির শুভ বার্তা বয়ে আনবে সবারই মনে। খনার বচনে আছে “আমে ধান, তেঁতুলে বান”। প্রকৃতির এই আম্রমঞ্জরি বলে দেবে কেমন যাবে এবছর। 

উপজেলার কৃষি অফিসার কামরুজ্জামান জানান, মুকুল আসার সাথে এবং মুকুল ধরার সময় প্রয়োজনীয় ¯েপ্র করা গেলে আমের মুকুল সংরক্ষণ এবং পোকার হাত থেকে আমকে রক্ষা করা সম্ভব। তিনি আরো জানান, আম চাষে আগ্রহী কৃষকরা কৃষি বিভাগের কাছে পরামর্শের জন্য এগিয়ে এলে সেক্ষেত্রে তারা পরামর্শ দিতে পারেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ