ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 January 2017, ১৩ মাঘ ১৪২৩, ২৭ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কেশবপুরে আতঙ্কে গত ৪ দিনেও জমেনি মধুমেলা

কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা : মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জন্মস্থান কেশবপুরের সাগরদাঁড়িতে ২১ জানুয়ারী থেকে চলছে সপ্তাহ ব্যাপী মধুমেলা। প্রতিবছর মেলাকে ঘিরে এ এলাকার মানুষের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে থাকে। লাখো মধুভক্তের আগমনে মুখরিত হয়ে ওঠে মেলার মাঠ। হাজারো পণ্যের পসরা বসে এ সময়। কিন্তু মেলার উদ্বোধনের আগেই ওই মাঠ থেকে উচ্ছেদ করা হয় ডিজিটাল যাদু প্রদর্শনীর ২৬টি প্যান্ডেল। আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সাধারণ মধুপ্রেমিরা। অর্থনৈতিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পার্শ্ববর্তী ৫ উপজেলার প্রায় ২ হাজার ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মী। ফলে গত ৫ দিনেও জমেনি মধুমেলা। 

মহাকবি মাইকেল মধুসুদন দত্তকে স্মরণ করতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় যশোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে তার জন্মস্থান সাগরদাঁড়িতে প্রতিবছর বসে সপ্তাহ ব্যাপী মধুমেলা। ২৪ লাখ ৫‘শ টাকায় মধুমেলার মাঠ ইজারা পান যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুলের মালিকানাধীন ফতেমা এন্টারপ্রাইজ। মধুমঞ্চ, যাত্রা, সার্কাস, মৃত্যুকূপ, ডিজিটাল যাদু প্রদর্শনীর প্যান্ডেলসহ হাজারও পণ্যের স্টল দিয়ে সাজানো হয় মেলার মাঠ। সকল আয়োজন সম্পেন্নের পর ২১ জানুয়ারী সন্ধ্যায় প্রধান অতিথি হিসেবে এ মেলার উদ্বোধন করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক এমপি।

সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুল ইসলাম মুক্ত জানান, এবারের মেলায় কেশবপুর, মনিরামপুর, অভয়নগর, কলারোয়া, তালা, পাটকেলঘাটা থানার প্রায় ২ হাজার ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মী জড়িত ছিল। ১৭ জানুয়ারী কেশবপুর উপজেলা পরিষদ হল রুমে মধুমেলার প্রস্তুতিমূলক সভায় ইজারাদারদের পক্ষে মামুন তার বক্তৃতায় অশ্লীল নৃত্য বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। এ শর্ত মেনে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা ডিজিটাল যাদু প্রদর্শনীর ২৬টি প্যান্ডেল তৈরী করে। কিন্তু প্রশাসন উদ্বোধনের আগেই প্যান্ডেল গুলো ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয়। এতেই মধুভক্তরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। মধুমঞ্চের আলোচনা সভা চলাকালে মাঠ থাকে ফাঁকা। যার কারণে গত ৫দিন হতে চললেও এখনও মেলা জমেনি। ভালো বেঁচাকেনা না হওয়ায় অনেক মালিক স্টল ছেড়ে দিয়ে চলে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মজিদপুর কৃষকলীগের সভাপতি আব্দুস সাত্তার জানান, ইজারাদারকে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে মেলার মাঠে তিনি ডিজিটাল যাদু প্রদর্শনীর প্যান্ডেল তৈরি করেছিলেন। সকল আয়োজন সম্পন্ন করতে দেড় থেকে প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। প্রতিটি প্যান্ডেলে ছাত্রলীগের অর্ধশত নেতা কর্মী জড়িত ছিল। উদ্বোধনের আগেই তাদের প্যান্ডেল ভাঙাসহ মাইক, আসবাবপত্র পুলিশ নিয়ে গেছে। এভাবে ৫ উপজেলার প্রায় ২ হাজার ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা কর্মী অর্থনৈতিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরেজমিনে গত মঙ্গলবার গিয়ে দেখা গেছে, মধুকবির জন্ম বার্ষিকীকে ঘিরে সাধারণত মধুভক্তরা মেলায় এসে থাকেন। এবারও তার বর্তায় ঘটবে না। তাছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক, যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপির ২৬ জানুয়ারী আগমন উপলক্ষে মেলা জমে উঠবে এটা কেশবপুরবাসির প্রত্যাশা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ