ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 January 2017, ১৩ মাঘ ১৪২৩, ২৭ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নতুন বছরে চ্যালেঞ্জের মুখে টেনিস তারকারা

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : পর্দা উঠে গেছে মওসুমের প্রথম গ্র্যান্ডস্নাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেরও। তবে নতুন বছরের শুরুতে জ্বলে উঠতে পারেননি টেনিসের তারকাদের অনেকেই। ব্রিসবেন, অকল্যান্ড, হপম্যান কিংবা সিডনি ইন্টারন্যাশনাল টেনিস টুর্নামেন্ট-সর্বত্রই হতাশ করেছেন ফেবারিট খেলোয়াড়রা। সেরেনা উইলিয়ামস থেকে শুরু করে বর্তমান টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ তারকা এ্যাঞ্জেলিক কারবার, এ্যাগ্নিয়েস্কা রাদওয়ানস্কা, ক্যারোলিন ওজনিয়াকি, সিমোনা হ্যালেপ, ইউজেনি বাউচার্ড কিংবা ভেনাস উইলিয়ামস সবাই হতাশ করেছেন ভক্ত-অনুরাগীদের। শুধু মহিলা এককেই নয় পুরুষ এককেও ছিল এমন চিত্রনাট্য! নোভাক জোকোভিচ আর এ্যান্ডি মারে ছাড়া রজার ফেদেরার, রাফায়েল নাদালও নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে হতাশা ছড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে দুর্দান্ত গতিতে ছুটছেন সেরেনা উইলিয়ামস ও নাদাল। টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন দু’জনই। মওসুমের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্টের শেষ আটে পৌঁছানোর মাধ্যমে আবারও বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ স্থানটা নিজের করে নিয়েছেন মার্কিন কন্যা সেরেনা উইলিয়ামস। এবারের আসরে অঘটন যেন পিছুই ছাড়ছেই না টেনিস তারকাদের। এ্যাগ্নিয়েস্কা রাদওয়ানস্কা, ক্যারোলিন ওজনিয়াকি এবং ইউজেনি বাউচার্ডের বিদায়ের পর বিদায় নিয়েছেন মহিলাদের শীর্ষ র‌্যাঙ্কধারী এ্যাঞ্জেলিক কারবারও। আর এই সুযোগে এখন পর্যন্ত একটি সেটও না হেরে শেষ আটে জায়গা করে নেয়া সেরেনা আবারও তার হারানো সাম্রাজ্য ফিরে পেয়েছেন।
সোমবার অনুষ্ঠিত চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের বারবোরা স্ট্রাইকোভাকে হারান তিনি। এদিন টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় বাছাই সেরেনা উইলিয়ামস ৭-৫ এবং ৬-৪ গেমের সরাসরি সেটে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করেন। শেষ আটে তার প্রতিপক্ষ এখন ব্রিটেনের প্রতিভাবান খেলোয়াড় জোহানা কন্টে। প্রচণ্ড গরমে সেরেনা দু’টি কঠিন সেটে স্ট্রাইকোভার বিপক্ষে লড়েছেন। এর আগে সেরেনার বড় বোন ভেনাস উইলিয়ামসও কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছেন। এখন সম্ভাবনা রয়েছে বছরের প্রথম গ্র্যান্ডস্লামে দীর্ঘদিন পরে অল-উইলিয়ামস ফাইনাল উপভোগের। ম্যাচ শেষে ৩৫ বছর বয়সী সেরেনা উইলিয়ামস বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে সত্যিকার অর্থেই আমার হারানোর কিছু নেই। এখানে সবকিছুই আমার কাছে বোনাস। অবশ্যই আমি এখানে জিততে এসেছি। আশা করছি ভাল খেলার। এখানে কেবল ভালটাই আমি দেখাতে পারি।’
সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে ২২ গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের স্বাদ পেয়েছেন আমেরিকান টেনিসের জীবন্ত কিংবদন্তি। গত মৌসুমে উইম্বলডন জিতে টেনিসের উন্মুক্ত যুগে সর্বোচ্চ ২২ গ্র্যান্ডস্লামজয়ী স্টেফি গ্রাফের রেকর্ডে ভাগ বসান তিনি। সেরেনার সামনে এখন জার্মান কিংবদন্তিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার হাতছানি। আর মাত্র একটি মেজর শিরোপা জিতলেই ওপেন যুগে সর্বোচ্চ গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের রেকর্ডটা নিজের করে নেবেন তিনি। সেরেনা উইলিয়ামস ছুটছেনও ঠিক সেভাবেই। কোয়ার্টার ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করেই যে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান ফিরে পান তিনি। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা নিজের শোকেসে তুলতে তার মাত্র তিনটি ম্যাচ জেতা প্রয়োজন।
এদিকে ব্রিটিশ নবম বাছাই জোহানা কন্টেও দারুণ খেলছেন এখন টেনিস কোর্টে। চতুর্থ পর্বে রাশিয়ান তারকা একাটেরিনা মাকারোভাকে সহজেই ৬-১, ৬-৪ গেমে পরাজিত করে শেষ আটে উঠেছেন। তবে শেষ আটের লড়াইটা যে কঠিন হবে তা অনুমিতই। ব্রিটিশ প্রতিনিধিও মানছেন তা। আর তা জেনেও কৈশোরের আইডল সেরেনার বিপক্ষে কোর্টে নামতে মুখিয়ে আছেন কন্টে। এই ম্যাচে জিততে পারলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালটা নিশ্চিত হবে তার। সেজন্য অবশ্য বুধবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে কন্টেকে। সেদিনই কোয়ার্টার ফাইনালের অন্য ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের ক্যারোলিনা পিসকোভা মুখোমুখি হবেন ক্রোয়েশিয়ার মিরজার্না লুসিস বারোনির। সিডনি ইন্টারন্যাশনাল টেনিস টুর্নামেন্ট জিতে নতুন বছর শুরু করা চেক তারকা পিসকোভা চতুর্থ পর্বে পরাজিত করেন অস্ট্রেলিয়ার দারিয়া গ্যাভ্রিলোভাকে।
গত বছরের শুরুটা দারুণ করেছিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে হারলেও উইম্বল্ডন জিতে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান সেরেনা। কিন্তু শেষটা ছিল হতাশার। তবে বছরের শেষ মুহূর্তে এসে হঠাৎ করেই বাগদানের ঘোষণা দিয়ে নতুন করে আলোচনায় উঠে আসেন তিনি। বাগদানের পর অকল্যান্ড ক্লাসিক দিয়েই নতুন মৌসুম শুরু করেন আমেরিকান টেনিসের এই জীবন্ত কিংবদন্তি। প্রথম ম্যাচেই জয় পেয়েছিলেন আমেরিকান টেনিসের এই জীবন্ত কিংবদন্তি। কিন্তু টুর্নামেন্টের খুব বেশি দূর এগুতে পারেননি বর্তমানে বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের দুই নাম্বারে থাকা এই তারকা। নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই হেরে অকল্যান্ড ক্লাসিক থেকে লজ্জাজনকভাবে বিদায় নেন সেরেনা উইলিয়ামস। স্বদেশী মেডিসন ব্রেঞ্জেলের কাছে হার মানেন সেরেনা। টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের ৭২ নম্বরে থাকা মেডিসন ব্রেঞ্জেল কঠিন লড়াইয়ে হারান ৩৫ বছর বয়সী সেরেনা উইলিয়ামসকে। গত মৌসুমে উইম্বলডন জিতে ওপেনযুগে সর্বোচ্চ ২২ গ্র্যান্ডস্লামজয়ী জার্মান কিংবদন্তি স্টেফি গ্রাফের রেকর্ডে ভাগ বসান তিনি। আমেরিকান তারকার সামনে এবার স্টেফিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার হাতছানি। ইনজুরির কারণে দীর্ঘ চার মাস কোর্টের বাইরে থাকার পর প্রথম টুর্নামেন্টে খুব ভাল করতে না পারলেও অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের আগে দারুণ আশাবাদী তিনি। তাই মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্ট শুরুর সপ্তাহ খানিক আগেই পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে সেখানে পৌঁছে যান সেরেনা।
শুধু তাই নয়, সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বাগদানের ঘোষণাও অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে কোন ধরনের প্রভাব ফেলবে না তার। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সেরেনা উইলিয়ামস বলেন, ‘আমি শুরু থেকেই বলে এসেছি যে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শেষ না হওয়ার আগে তা (বাগদান) নিয়ে কিছুই ভাবছি না। কারণ আমার কাছে গ্র্যান্ডস্লাম মানে অনেক কিছু। নিজের ক্যারিয়ারে পূর্ণ মনোযোগ দিতে প্রয়োজনে স্বার্থপরও হতে পারি। আবারও আমার পথে আমি, বলতে পারেন ইতোমধ্যেই ফিরে এসেছি। তাই এখন আনন্দে গা ভাসাতে চাই না। আমি সত্যিই অনুশীলন, কার্ডিও মোটকথা নিজেকে কোর্টে ঢেলে দেয়ার জন্য সবধরনের চেষ্টাই করেছি।’ বয়সে পঁয়ত্রিশকেও ছাড়িয়ে গেছেন সেরেনা উইলিয়ামস। টেনিস কোর্টে এখনও প্রতিপক্ষের হুমকি। এবার তার সামনে নতুন ইতিহাস গড়ার হাতছানি। একটি মাত্র গ্র্যান্ডস্লাম জিতলেই ওপেনযুগে এককভাবে সর্বোচ্চ গ্র্যান্ডসøাম জয়ের রেকর্ড গড়বেন তিনি। সেই লক্ষ্যেই ছুটছেন এখন কৃঞ্চকলি।
এদিকে বছরের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছেন রাফায়েল নাদালও। সোমবার চার সেটের কঠিন লড়াইয়ে ফরাসী তারকা গায়েল মনফিলসকে পরাজিত করেন তিনি। বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের সাবেক নাম্বার ওয়ান তারকা নাদাল এদিন ৬-৩, ৬-৩, ৪-৬ এবং ৬-৪ সেটে পরাজিত করেন মনফিলসকে। স্প্যানিশ টেনিস তারকা ছাড়াও মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্টের শেষ আটের টিকেট নিশ্চিত করেছেন ডেভিড গোফিন এবং গ্রিগর দিমিত্রোভ। চতুর্থ পর্বে অস্ট্রেলিয়ার ডোমিনিক থিয়েমের মুখোমুখি হন বেলজিয়ামের ডেভিড গোফিন। চার সেটের কঠিন লড়াই শেষে জয়ের হাসি হাসেন তিনি। টুর্নামেন্টের ১১তম বাছাই ডেভিড গোফিন চতুর্থ পর্বে ৫-৭, ৭-৬ (৭/৪), ৬-২ এবং ৬-২ সেটে হারান অষ্টম বাছাই থিয়েমকে। দিনের অন্য ম্যাচে বুলগেরিয়ার গ্রিগর দিমিত্রোভ হারান ডেনিস স্তোমিনকে। টুর্নামেন্টের ১৫তম বাছাই দিমিত্রোভ ২-৬, ৭-৬ (৭/২), ৬-২ এবং ৬-১ সেটে পরাজিত করেন উজবেকিস্তানের এই টেনিস তারকাকে। এবারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে পুরুষ এককে সবচেয়ে বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছিলেন এই স্তোমিন। দ্বিতীয় পর্বে টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নোভাক জোকোভিচকে হারিয়ে দেন তিনি। তবে সার্বিয়ান তারকাকে হারিয়ে খুব বেশিদূর এগোতে পারলেন না উজবেকিস্তানের এই অখ্যাত খেলোয়াড়। চতুর্থ পর্বেই থেমে গেল তার জয়রথ। ডেনিস স্তোমিনোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়া দিমিত্রোভের সামনে বাধা এখন ডেভিড গোফিন। যিনি বেলজিয়ামের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শেষ আটে জায়গা করে নেন। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে উচ্ছ্বাসের জোয়ারে ভাসছেন ১১তম বাছাই। এবারই প্রথম টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে থাকা কোন খেলোয়াড়কে হারালেন তিনি। যা তার আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিছে।
টেনিস বিশ্বে আলোচিত নামগুলোর মধ্যে ইউজেনি বাউচার্ড অন্যতম। বিশেষ করে ২০১৪ সালে টেনিস কোর্টে যে ক’জন নিজেকে মেলে ধরেছেন, তাদের একজন বাউচার্ড। সেবার কানাডার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে উইম্বলডনের ফাইনালসহ মওসুমের প্রথম দুই গ্র্যান্ডসøামেরও সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। কিন্তু পারফর্মেন্সের সেই ধারাবাহিকতা আর ধরে রাখতে পারেননি বাউচার্ড। ২০১৬ সালটা তার এতটাই বাজে কেটেছে যে কোন গ্র্যান্ডস্লামের তৃতীয় রাউন্ডের বাধাই পেরুতে পারেননি কানাডিয়ান তারকা। তারপরও হাল ছাড়েননি। নতুন বছরে নতুন করে শুরুর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন বাউচার্ড। কিন্তু নিজের প্রথম ম্যাচেই হার দেখেন তিনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেলবি রজার্সের কাছে হেরে সিডনি ইন্টারন্যাশনাল টেনিস টুর্নামেন্টের প্রতম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিলেন ২২ বছরের এই তারকা। গত বছর হঠাৎ করে পাদপ্রদীপের আলোয় উঠে আসেন পুয়ের্তো রিকোর মনিকা পুইগও। রিও অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জিতে গোটা টেনিস বিশ্বকেই অবাক করে দেন তিনি। যেখানে হারিয়ে দেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা জার্মানির এ্যাঞ্জেলিক কারবারকে। এর পরের সময়টা অবশ্য নিষ্প্রভ কেটেছে তার। নতুন বছরের প্রথম ম্যাচে লজ্জাজনক পরাজয় পেলেন তিনিও। ব্রিসবেনের প্রথম রাউন্ডে তাকে হারের লজ্জা দেন এলিনা ভিতলিনা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ