ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 January 2017, ১৩ মাঘ ১৪২৩, ২৭ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জমি জবরদখল করে বালু ভরাট ও সীমানা নির্মাণকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতাঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নিরীহ মানুষের জমি জোরপূর্বক জবরদখল করে বালু ভরাট ও সরকারী একোয়ারভুক্ত জমি দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মানকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের কয়েক দফা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটনানো হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরঘেঁষা উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চরচনপাড়া ও পূর্বগ্রাম এলাকায় সিটি গ্রুপের প্রজেক্ট এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরঘেঁষা চরচনপাড়া ও পূর্বগ্রাম এলাকায় স্থানীয় কৃষকদের কয়েক শতাধিক বিঘা কৃষি জমি রয়েছে। ওই এলাকায় জমি ক্রয় বালু ভরাট কাজ অব্যাহত রাখে সিটি গ্রুপ নামে এসটি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় নিরীহ শতাধিক কৃষকের জমি না কিনে জবরদখল করে বালু ভরাট ও কালীগঞ্জ-চনপাড়া সড়কের পাশের একোয়ারভুক্ত জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ চালাচ্ছে সিটি গ্রুপের লোকজন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকেই স্থানীয় এলাকাবাসী সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও বালু ভরাটে বাঁধা দিয়ে আসছে।
এর প্রতিবাদে দুপুরে কায়েতপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহেদ আলী, ইউপি সদস্য বিউটি আক্তার কুট্রি ও হেলালের নেতৃত্বে শত শত এলাকাবাসী লাঠিসোটা, টেটা, বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চনপাড়া পূর্নবাসন কেন্দ্র ও পুর্বগ্রাম এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। অপর দিকে, সিটি গ্রুপের পক্ষ হয়ে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান বজলুর রহমান বজলু ও শমসেরের নেতৃত্বে পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
এসময় পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় দোকানপাট বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। লোকজন ছুটাছুটি করতে শুরু করেন। বিপুল পরিমাণ পুলিশ সদস্য উভয় বিক্ষোভ মিছিলে বাঁধা দিয়ে থামানোর চেষ্টা চালায়। প্রায় দুই ঘন্টা ব্যাপী বিক্ষোভকারীরা চনপাড়া-কালীগঞ্জ সড়কে অবস্থান নেয়ায় সড়কের উভয় দিকের যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সড়কে চলাচলরত পথচারীদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করে। এক পর্যায়ে বিকেলে চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এরপরই শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ। কয়েক দফা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে জয়নাল, রাঙ্গা, হনুফা, জিয়াসমিন, ইয়াছিন, খালেক, জুয়েল, সাইফুল, আহাম্মদ, নাইম, বাবুল, জসিম গাজী, খাইরী, শাহিনুর, তাসলিমা, নাসরিন, দেলোয়ারা, শাইরি, শমসের ও কুদ্দুসসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। পরে পুলিশ উভয় পক্ষকে ধাওয়া করে এবং বুঝিয়ে-শুনিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
অপর দিকে, সরকারের একোয়ারভুক্ত জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছে এমন সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা ইসলামের নির্দেশক্রমে উপজেলা প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে একোয়ারভুক্ত জমির সীমানা নির্ধারণ করেন এবং সীমানার ভেতরে কাজ বন্ধ করে দেন।
অপর দিকে, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহেদ আলী এক প্রতিবাদ সভা করেন। প্রতিবাদ সভায় তিনি দাবি করেন, তার জমিসহ এলাকাবাসীর জমি জবরদখল করে বালু ভরাট করে ফেলেছে সিটি গ্রুপের নিয়োজিত লোকজন। এর প্রতিবাদ করায় তার বাড়িঘরে হামলা-ভাংচুর চালানো হয়।
এ বিষয়ে সিটি গ্রুপের দায়িত্বরত উপ ঠিকাদার শরীফ  মিয়া জানান, সিটি গ্রুপের অধীনে একটি প্রজেক্টের প্রাচীর নির্মাণ ও বালি ভরাটের  কাজ শুরু করা হয় গত এক মাস পূর্বেই। সে সময় থেকেই স্থানীয়  একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী বাহিনী বিভিন্নভাবে তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে আসছিল। দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে জায়েদ আলী, হেলাল উদ্দিন,বিউটি আক্তার কু্িট্টসহ তাদের লোকজন প্রজেক্টে হামলা চালায়।
সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে বিরাজ করছে। যে কোন সময় আবারো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জসিম উদ্দিন বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ