ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 January 2017, ১৩ মাঘ ১৪২৩, ২৭ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

‘আমাকে নির্যাতন করা হয়নি ছবি আমার নয়’

স্টাফ রিপোর্টার : ঘুষ না দেয়ায় যশোর সদর থানায় নিয়ে উল্টো করে ঝুলিয়ে  পেটানোর বিষয়ে গণমাধ্যমে ছবিসহ  যে খবর প্রকাশিত হয়েছিল নির্যাতনের শিকার সেই আবু সাঈদ হাইকোর্টে এসে বলেছেন তাকে নির্যাতন করা হয়নি। ছবির সেই ব্যক্তি তিনি নন। ওই ছবি কোথাকার তাও তিনি জানেন না।
গতকাল বুধবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে তিনি এ দাবি করেন। আদালতে দাখিল করা তার এফিডেভিটে তাকে নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন আবু সাঈদ।
এদিকে থানায় নিয়ে বেঁধে ঝুলিয়ে পেটানোর ঘটনায় যশোর সদর থানার এসআই নাজমুল হাসান ও এএসআই হাদিবুর রহমান হাইকোর্টের তলবে আদালতে হাজির ছিলেন। নাজমুল ও হাদিবুরকে আপাতত ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় তাদের তলব করা হবে বলে জানিয়েছে আদালত।
এদিকে ওই ঘটনার বিষয়ে যশোরের পুলিশ সুপারের প্রতিবেদন যথাযথভাবে দাখিল না করায় পুনরায় ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে শুনানির শুরুতেই আদালত পত্রিকায় প্রকাশিত ছবিটি দেখিয়ে আবু সাঈদের কাছে আদালত জানতে চান, এটা কি আপনার ছবি? জবাবে সাঈদ বলেন, এই ছবি আমার নয় এবং ছবির স্থানটি কোথায় তাও বলতে পারব না। ছবির বিষয়ে আদালতের প্রশ্নের জবাবে দুই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এই ছবি থানার ভেতরের নয়।
তখন আদালত বলেন, পত্রিকায় প্রকাশিত ছবির বিরুদ্ধে আপনারা কি কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন? প্রতিবাদ পাঠিয়েছেন? এ পর্যায়ে দুই পুলিশ সদস্য বলেন, এ বিষয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলন হয়েছে। তবে সেটি আমরা করিনি।
এ পর্যায়ে এসপির পক্ষে আইনজীবী আব্দুল মতিন খসরু বলেন, ‘পুলিশ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেছে।
আদালত বলেন, পুলিশের প্রতিবেদন সম্পর্কে আমাদের জানা আছে। চৌগাছার ঘটনায় এরকম প্রতিবেদন দেয়া হয়েছিল। আদালত জানতে চান, তদন্ত প্রতিবেদন কোথায়?
আবদুল মতিন খসরু বলেন, আমরা যে জবাব দাখিল করেছি সেখানে তদন্ত প্রতিবেদন টাইপ করে দেয়া হয়েছে।
আদালত বলেন, এই ফর্মেটে কি কখনো তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল হয়?
এ পর্যায়ে আইনজীবী আব্দুল মতিন খসরু বলেন, যারা রক্ষক তারাই যদি ভক্ষক হয় তাহলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তিনি আদালতের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি ও ভিকটিম সাঈদের মধ্যে কি কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়? আদালতে উপস্থিত সাঈদ তো হালকা-পাতলা গড়নের।
এ পর্যায়ে আদালত আইনজীবীকে বলেন, তাহলে আপনি স্বীকার করে নিচ্ছেন সেখানে কিছু একটা ঘটেছে।
এ পর্যায়ে আদালত ভিকটিম সাঈদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র কোথায়? কিন্তু সাঈদ তার পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। তখন আবু সাঈদের পক্ষে একজন আইনজীবী এফিডেভিট দাখিল করেন।
তখন আদালত ভিকটিম সাঈদকে বলেন, আপনি উকিলকে কত টাকা ফি দিয়েছেন? তার সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করেছেন? পুলিশকে বাঁচানোর জন্যই এই এফিডেভিট দেয়া হয়েছে। আমরা তো শুধু ভিকটিমকে হাজির হতে বলেছিলাম। আইনজীবী নিয়োগ দিতে বলিনি।
গত ৮ জানুয়ারি যশোরের সদর থানায় উল্টো করে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় ওই থানার এসআই নাজমুল ও এএসআই হাদিবুর রহমানকে তলব করেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি ছবিতে নির্যাতনের শিকার যে যুবককে দেখা যাচ্ছে, সেই আবু সাঈদকেও আদালতে থাকতে বলা হয়।
‘ঘুষ না পেয়ে থানায় যুবককে ঝুলিয়ে পেটাল পুলিশ’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে এলে এ রুল জারি করা হয়। এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না, তা রুলে জানতে চাওয়া হয়। দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের আইজি, খুলনা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), যশোরের পুলিশ সুপার (এসপি), কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) সংশ্লিষ্টদের জবাব দিতে বলা হয়।
পত্রিকায় প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যশোর কোতোয়ালি থানার এসআই নাজমুল ও এএসআই হাবিবুর রহমান গত বুধবার রাতে আবু সাঈদকে আটক করেন। পরে তার কাছে ‘দুই লাখ টাকা’ ঘুষ দাবি করেন ওই দুই কর্মকর্তা। ঘুষ দিতে অস্বীকার করায় আবু সাঈদকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে থানার মধ্যে দুই টেবিলের মাঝে গাছের মোটা ডালের সঙ্গে বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে পেটানো হয়। পরে ‘৫০ হাজার টাকা’ দিয়ে ওই রাতেই ছাড়া পান আবু সাঈদ। আবু সাঈদ যশোর সদর উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামের নুরুল হকের ছেলে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ