ঢাকা, শুক্রবার 27 January 2017, ১৪ মাঘ ১৪২৩, ২৮ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বুশ যুগের কুখ্যাত নিপীড়ন প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ-নিউইয়র্ক টাইমস

২৬ জানুযারি, আলজাজিরা/নিউইয়র্ক টাইমস : বুশ যুগের নিপীড়ন পদ্ধতি ফিরিয়ে আনতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত তিন পৃষ্ঠার খসড়া-পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস। গত বুধবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসার দাবি করেন, ফাঁস হওয়া নথিটি হোয়াইট হাউসের নয়, ট্রাম্প তার জানামতে প্রেসিডেন্ট হিসেবেএমন কোনও নথিতে স্বাক্ষর করেননি।

প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস গত বুধবারের এক প্রতিবেদনে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নিরাপত্তা পরিকল্পনা ফাঁস হওয়ার দাবি করে। হাতে পাওয়া এক নথিকে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, বুশ যুগে চালু থাকা সিআইএর ভয়াবহ গোপন কারাগার ব্যবস্থা এবং জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনছেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

কথিত সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধের অংশ হিসেবে বুশ প্রশাসন গোপন ওইসব কারাগার আর কথিত জিজ্ঞাসাবাদের নামে ঘৃণ্য নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা চালু করে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দায়িত্ব গ্রহণের পর এক নির্বাহী আদেশে জিজ্ঞাসাবাদের এসব প্রক্রিয়াকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, ট্রাম্প সেই বুশ যুগকেই ফেরাতে চাইছেন। ওবামার নিষেধাজ্ঞায় নির্বাহী আদেশে স্থগিতাদেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

তবে নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরটিকে নাকচ করে দিয়ে বুধবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসার বলেন, ‘এ নথি কোথা থেকে এলো সে সম্পর্কে আমার ধারণা নেই, কিন্তু এটি হোয়াইট হাউসের নথি নয়।’

 প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের খসড়া বলে দাবি করা নথিটি আদতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশ নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

স্পাইসার আরও জানান, তার জানামতে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত নথিটি দেখেননি।

এর আগে নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রাপ্ত নথির বরাতে জানায়, নির্বাহী আদেশে স্থগিতকৃত ব্লাক সাইট কারাগার ব্যবস্থা আবারও ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইতিহাসের সবথেকে বিতর্কিত এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট আগেই এ ধরনের কারাগার ফিরিয়ে আনার ইশারা দিয়েছেন। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক খবরে বলা হয়, বন্দী নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনায় ক্রমেই কুখ্যাত হয়ে ওঠা এক ব্ল্যাক সাইট প্রিজন গুয়ানতানামো বে সম্ভবত সহসা বন্ধ হচ্ছে না। ট্রাম্প এটি চালু রাখার আভাস দিয়েছেন।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই কারাগারটি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বিপরীতে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে ‘খারাপ’ মানুষদের বন্দী রাখতে এই কারাগারটি চালু রাখার আভাস দেন। তবে বিদায়ী ওবামা প্রশাসন তাদের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক শেষ বন্দীদের অন্যত্র স্থানান্তরের চেষ্টা চালিয়ে গেলেও সবাইকে মুক্ত করতে পারেননি তিনি। সবশেষ জানুয়ারির মাঝামাঝি ১০ বন্দী স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে সেখানে অবশিষ্ট বন্দীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৫ জনে।

নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ ফাঁস হওয়া নথির বরাতে আরও জানা যায়, কেবল ওইসব গোপন কারাগারই নয়; ফিরছে বুশ আমলের কুখ্যাত সব নিপীড়নমূলক জিজ্ঞাসাবাদের কৌশলগুলোও। বুশ শাসনামলে চালু থাকা বন্দীদের সঙ্গের আচরণ ও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়াকে অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছ করার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন সদ্য বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। নিউ ইয়র্ক টাইমস ট্রাম্প স্বাক্ষরিত নথির বরাতে বলছে, আরোপিত কঠোরতা বাতিল করে বুশ যুগের জিজ্ঞাসাবদ পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর মধ্যে ওয়াটারবোর্ডিং প্রক্রিয়া অন্যতম।

নির্বাচনি প্রচারণার সময়ে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি যদি প্রেসিডেন্ট হন তাহলে ওয়াটারবোর্ডিংসহ জিজ্ঞাসাবাদে নির্যাতনের বেশ কয়েকটি পদ্ধতি ফিরিয়ে আনবেন। চলতি বছরের মার্চ মাসে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে বোমা হামলার পর ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘যদি জঙ্গিরা আরও হামলা করে তাহলে ওয়াটারবোর্ডিংয়ের চেয়ে নিষ্ঠুর পদ্ধতি চালু করবেন। সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে তথ্য আদায় করতেই হবে আমাদের।‘

মার্কিন কারাগারগুলোতে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা রেড ক্রসকে প্রবেশাধিকার দিয়েছিল ওবামা সরকার। প্রাপ্ত নথির বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, এই প্রবেশাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে পারেন ট্রাম্প। এর ভিত্তিতে নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, উল্লেখিত পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে জেনেভা চুক্তি ভঙ্গ করে সুনিন্দিষ্ট যুদ্ধাবস্থার বাইরে অন্য কোনও সময়ে গোপন কারাগার খোলার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন।

এদিকে গত বছর ফেব্রুয়ারিতে কংগ্রেসের সামনে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরতে গিয়ে ওবামা বলেন, ‘গুযানতানামো বন্দী শিবিরটি মার্কিন আদর্শের বিপক্ষেই যায।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লডাইযে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও কাজেই আসেনি এই কারাগার। অতএব এটা বন্ধ করাই সঠিক কাজ হবে।’ সেখানে তখনও ৯১ জন বন্দী ছিলেন। এরপর দুই ধাপে বন্দী স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এখন সেখানে বন্দির সংখ্যা ৫৯জন। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মুক্তি দেওয়া হয় চার ইয়েমেনি বন্দীকে। বন্দির সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৫ জনে। সবশেষ জানুয়ারির মাঝামাঝি ১০ বন্দী স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে সেখানে অবশিষ্ট বন্দির সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৫ জনে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ