ঢাকা, শুক্রবার 27 January 2017, ১৪ মাঘ ১৪২৩, ২৮ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বাড়ানোর আশায় চীন

২৬ জানুয়ারি, বিবিসি : জুলিয়ানা লিউ-এর জন্ম ১৯৭৯ সাল। তখনও এক সন্তান নীতি চালু ছিল চীনে। এছাড়া দ্বিতীয় সন্তান নিলে তাদের চাকরি হারাতে হবে। ফলে লিউয়ের বাবা-মায়ের ইচ্ছা থাকলেও দ্বিতীয় সন্তান নিতে পারেননি। তার মা-বাবা দ্বিতীয় সন্তান নিতে পারলেন না। বছর খানেক আগে এই নীতি কিছুটা শিথিল করে চীন কর্তৃপক্ষ।

এক শিশু নীতি শিথিলের পর গত এক বছরে চীনে প্রায় দুই কোটি শিশুর জন্ম নিয়েছে। কিন্তু এটা চীনের জন্য যথেষ্ট নয়। ২০২০ সালের মধ্যে দেশটিতে আরো দুই কোটি শিশু জন্ম নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চার দশক ধরে এক সন্তান নীতি থাকায় দেশটিতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমেছে। তাইতো চীন সরকার এ নীতি শিথিলের সিদ্ধান্ত নেয়। আশা একটা কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বাড়বে।

এক সন্তান নীতি থাকায় অনেক নারীই গর্ভপাত ঘটিয়েছে। এ প্রসঙ্গে লিউ বলেন, ‘আমার জন্মের পর মা দুবার গর্ভধারণ করেন। তবে সরকারি নীতি থাকায় দুবারই গর্ভপাত করতে হয়।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ নীতির কারণে চীনে ৪০ কোটি শিশুর জন্মই হয়নি।

শুধু লিউয়ের পরিবার নয় চীনের বেশিরভাগ পরিবারেরই একই গল্প। আবার একমাত্র সন্তান হওয়াতে বাবা-মার প্রত্যাশাও থাকে বেশি। ভালো ফলাফল, চাকরি, সঠিক জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়াসহ অনেক কিছু। ফলে চীন সরকার যখন এক সন্তান নীতি শিথিলের সিদ্দান্ত নেয় তখন লিউয়ের মতো অনেক চীনা নাগরিক খুশি হয়েছিল।

অনেকের মতে, চীন সরকার আগে থেকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিতো তাহলে হয়তো এমন নীতি নিতে হতো না। ১৯৫৩ সালে প্রথম আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী চীনের জনসংখ্যা ছিল ৬০ কোটি।

তবে ওই সময় চীনের বেশিরভাগ জনসংখ্যা কর্মক্ষম ছিল। সেজন্য তখন পরিবারগুলোকে বেশি সন্তান নিতে উৎসাহ দেওয়া হতো। তবে বিশেষযজ্ঞদের মতে, তখন জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা হলে পরবর্তী প্রজন্মের ওপর চাপ পড়তো না।

তবে এক সন্তান নীতি কারণে এক সময় চীনে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমতে শুরু করে। আর বয়স্ক জনগোষ্ঠী বাড়তে শুরু করে। যে হারে চীনে বয়ষ্ক মানুষের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে সেই তুলনায় তরুণ ও কর্মক্ষম প্রজন্ম তৈরি হয়নি। ফলে দেশটির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সমস্যায় পড়তে শুরু করে। আবার অনেক নারী সন্তান জন্মদানেও সক্ষমতা হারিয়েছেন।  ফলে প্রতিবছর ৫০ লাখ কর্মক্ষম জনশক্তি হারাচ্ছে চীন। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে চীনে আরো সমস্যা পড়বে তাদের কাজ চালিয়ে  ন্ওেয়ার জন্য।  আর এখন জন্ম নেওয়া শিশুরা কর্মক্ষম হয়ে ওঠার আগ পর্যন্ত  চীনকে এ সমস্যা ভুগতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ