ঢাকা, শুক্রবার 27 January 2017, ১৪ মাঘ ১৪২৩, ২৮ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে ইসরাইলের বসতি স্থাপনের নিন্দায় জার্মানি

২৬ জানুযারি, রয়টার্স : ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে নতুন করে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনের পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছে জার্মানি। ইসরায়েল মিত্র হিসেবে পরিচিত জার্মানি সচরাচর দেশটির কর্মকাণ্ডের নিন্দা ও সমালোচনা করে না। গত বুধবার জার্মানি জানিয়েছে, নতুন আড়াই হাজার বসতি নির্মাণে ইসরায়েলের পরিকল্পনার ফলে দুই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমাধানকে সংশয়ে ফেলে দেবে।

গত মঙ্গলবার নতুন বসতি স্থাপনের পরিকল্পনায় অনুমোদন ইসরায়েল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বারাক ওবামার দায়িত্ব ছেড়ে যাওয়া ও নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ইসরায়েল পশ্চিম তীরে নতুন বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা করে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আদেশে এ বসতি স্থাপনের অনুমোদনটি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। অনুমোদন দেরিতে দেওয়ার কারণ ছিল, ইসরায়েলের বসতি স্থাপনের নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ না করা। ফলে সদ্য বিদায়ী ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে ইসরায়েলের দূরত্ব তৈরি হয়। ওই সময় ট্রাম্প চেষ্টা করেছিলেন, যেন প্রস্তাবটি জাতিসংঘে উত্থাপিত না হয়। ফলে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই নতুন বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা অনুমোদন দেয় ইসরায়েল।

জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র মার্টিন সাচায়েফার বলেন, গত দুই মাসে যেসব রাজনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা আমরা ঘটতে দেখেছি, নতুন বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা সেগুলোকে একেবারে পাল্টে দিয়েছে। মুখপাত্র জানান, ফিলিস্তিনের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের অভিপ্রায় নিয়ে জার্মানির সংশয় তৈরি হয়েছে। ইউরাপীয় ইউনিয়নও ইসরায়েলের বসতি স্থাপনের পরিকল্পনার পর সতর্কতা জানিয়েছে। তাদেরও দাবি, এতে করে শান্তি প্রক্রিয়া বিঘিœত হবে।

মঙ্গলবার নতুন আড়াই হাজার বাড়ি নির্মাণের ঘোষণা দেয় ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতোনিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যানের দাবি, ‘আবাসনের প্রয়োজন বিবেচনা করে’ এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন বাড়ি স্থাপনের ঘোষণা দেওয়ার পর নেতানিয়াহু আরও বসতি স্থাপনেরও ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বসতি নির্মাণ করছি এবং তা করেই যাব।’

মঙ্গলবার নতুন আড়াই হাজার বাড়ি নির্মাণের ঘোষণা দেয় ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতোনিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যানের দাবি, ‘আবাসনের প্রয়োজন বিবেচনা করে’ এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন বাড়ি স্থাপনের ঘোষণা দেওয়ার পর নেতানিয়াহু আরও বসতি স্থাপনেরও ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বসতি নির্মাণ করছি এবং তা করেই যাব।’

ফিলিস্তিনে অধিকৃত পশ্চিমতীরের ইসরায়েলি বসতিতে নতুন বাড়ি নির্মাণের নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থার মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক জানিয়েছেন, এ পরিকল্পনা ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের অন্তরায়’ বলে উল্লেখ করেছেন।

ইসরায়েলি সরকারের এ পরিকল্পনা শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করবে উল্লেখ করে ক্ষোভ জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, ১৯৯০ এর দশকের শুরু থেকে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে বেশ কয়েক দফায় শান্তি আলোচনা হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা চায় পশ্চিম তীরে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে এর রাজধানী বানাতে। ১৯৬৭ সালের আরব যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে। পূর্ব জেরুজালেমকে নিজেদের অবিভাজ্য রাজধানী বলে দাবি করে থাকে ইসরায়েল। অবশ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পূর্ব জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ১৯৬৭ সালের পর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় ২০০ বসতি স্থাপন করেছে ইসরায়েল। পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে স্থাপিত এসব বসতিতে প্রায় ৬ লাখ ইসরায়েলি বসবাস করে। আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এ বসতি স্থাপনকে অবৈধ বলে বিবেচনা করা হলেও ইসরায়েল তা মানতে নারাজ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ