ঢাকা, শুক্রবার 27 January 2017, ১৪ মাঘ ১৪২৩, ২৮ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

গত ১০ বছরেও খুলনায় দ্বিতীয় আবহাওয়া অফিস হয়নি

খুলনা অফিস : ২০০৬ সালে প্রকল্প গ্রহণের পর পার হয়েছে দীর্ঘ ১০ বছর। দীর্ঘসময়ে অবকাঠামোগত কাজই শেষ হয়নি খুলনার দ্বিতীয় আবহাওয়া অফিসের। জনবল ও যন্ত্রপাতির খবর নেই। প্রকল্প পরিচালক পুনরায় আশ্বাস দিলেন খুব শীঘ্রই চালু করা হবে এ অফিসটি। জেলার কয়রা উপজেলায় প্রায় ২ একর জায়গার উপর এ আবহাওয়া অফিস স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। কাজের অগ্রগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা।
দীর্ঘ ১০ বছর অতিবাহিত হলেও খুলনার দ্বিতীয় আবহাওয়া অফিস প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। প্রকল্প গ্রহণের দীর্ঘসময়ে অবকাঠামোগত কাজই শেষ হয়নি। জনবল ও যন্ত্রপাতিরও খবর নেই। অবশ্য প্রকল্প পরিচালক বলছেন খুব শীঘ্রই চালু করা হবে এ অফিসটি। খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায় প্রায় ২ একর জায়গার উপর এ আবহাওয়া অফিস স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। কাজের অগ্রগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা।
খুলনা আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, উপকূলবর্তী এলাকার জনগণকে আবহাওয়ার পরিস্থিতি ও নৌ-পূর্বাভাস জানাতে সরকার ২০০৬ মালের জুলাই মাসে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ১৩ টি আবহাওয়া অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। খুলনা বিভাগের মধ্যে স্থান পায় খুলনার কয়রা ও কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলা। এর মাধ্যমে নৌ-বিভাগের ছোট ছোট নৌযানগুলোকে আবহাওয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে সর্তক  করা যাবে। বাতাসের চাপ আর্দ্র্যতা ও গতিবেগ, বৃষ্টির পরিমাণ সম্পর্কে জানানোই হবে এর মূল কাজ। পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম এগিয়ে চলতে থাকে। চলে জমি অধিগ্রহনসহ আনুষঙ্গিক কাজ। পথিমধ্যে অর্থ ছাড় না হওয়ায় বন্ধ ছিল সামগ্রিক কাজ। ২০১০ সালের জুন মাসে ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ ও একতলা ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয়। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় যন্ত্রপাতি ও জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে অফিসটির অবকাঠামোগত কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে। বাইরের গেট নির্মাণ বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ, মূল অফিস ভবনের কাজসহ আনুষঙ্গিক কাজও শেষের পথে। তবে প্রয়োজনীয় নিয়োগ ও মেশিনারিজ কোন খোজ নেই। প্রয়োজনীয় লোকবলের জন্য পদায়ন করা হয়নি।
প্রকল্পের পরিচারক মজিদুর ইসলাম বলেন, কয়রার আবহাওয়া অফিসটির অবকাঠামোগত কাজ শেষ হয়েছে। এ অর্থবছরে জনবল নিয়োগ ও যন্ত্রপাতি নিয়ে যাত্রা শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় আবহাওয়া অফিসসের সহকারি আবহাওয়া অফিসের সহকারি আবহাওয়াবিদ মো. আমিরুল আজাদ বলেন, কয়রায় আবহাওয়া অফিসের বাকি প্রয়োজনীয় নির্মাণ কাজ শেষে কার্যক্রম চালানো হবে। প্রথম পর্যায়ে আবহাওয়াবিদ, আবহাওয়া সহকারি, উপ-পর্যবেক্ষণ, অফিস সহকারি, সিকিউরিটিসহ সাতজন স্টাফ নেয়া হবে। থাকবে কম্পিউটার ব্যারোমিটার, থার্মোমিটার, হ্যানিমোমিটার, উইনভেনসহ স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি।
কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া অফিসটি নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রক্রিয়া চলে আসছিল। তবে এখনও চালু না হওয়ার কোন উল্লেখযোগ্য কারণ আমার জানা নেই। মাঝে মাঝে উপজেলা মিটিংয়ে আলোচনা হয়। এর বেশী কিছু না। তিনি এটি তাড়াতাড়ি চালুর দাবি জানান।
কয়রা এলাকার বাসিন্দা মানিক ও মোস্তাজিবুরসহ স্থানীয় লোকজন বলেন, আবহাওয়া দপ্তর হলে এলাকার মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সংকেত পাবে। উপকূলে অবস্থানরত ছোট নৌকাগুলো নিরাপদ থাকবে। যারা মাছ ধরতে যায় আবহাওয়ার খবর নিয়েই অফিসটি তাড়াতাড়ি চালুর দাবি করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ