ঢাকা, শুক্রবার 27 January 2017, ১৪ মাঘ ১৪২৩, ২৮ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সরকারি বরাদ্দ গ্রহণের ক্ষেত্রে শুভংকরের ফাঁকি খুলনায় ২২শ’ শিশুর বিপরীতে ৬২ এতিমখানা

খুলনা অফিস : খুলনায় বেসরকারি বা ব্যক্তি মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত এতিমখানাগুলোতে সরকারি বরাদ্দ গ্রহণের ক্ষেত্রেও চলে শুভংকরের ফাঁকি। শিক্ষার্থী বেশি দেখিয়েও সমাজসেবা অধিদফতর থেকে অর্থ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। যত্রতত্র প্রতিষ্ঠিত এসব এতিমখানায় স্বাভাবিক জীবন যাপন ও খাবারের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
নগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন সবুজবাগ এলাকায় অবস্থিত ওমর ফারুক এতিমখানা। বর্তমানে এখানে শিশুর সংখ্যা ১৯। সমাজসেবা অধিদফতর থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পাওয়া আর্থিক অনুদানের তালিকায় শিশুর সংখ্যা দেখানো হয়েছে ৬০। এ এতিমখানায় গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে ৮ শিশু অবস্থান করছে। বাকিরা কোথায় জানতে চাইলে মো. ফরিদ উদ্দিন নামে এক শিক্ষক জানালেন কয়েকজন ছুটিতে রয়েছে, আর কয়েকজন দাওয়াতে গেছে খতম পড়াতে। এ এতিমখানায় শিশুদের শুধু হাফেজ  তৈরি করা হয়। তবে শিশুরা বাইরের মাদরাসায় ইবতেদায়ী বা আলিয়া মাদরাসাতেও পড়াশোনা করে। বরাদ্দের সময় শিক্ষার্থী বেশি দেখানোর বিষয়ে ওই এতিমখানার বড় হুজুর মাওলানা আবদুল হাকীম বলেন, এখানে যারা কোরআন শিক্ষার জন্য আসে তাদেরও ওই তালিকায় দেখানো হয়েছে। ফলে শিশুদের সংখ্যা বেশি হয়েছে। তবে বরাদ্দ পায় মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সমাজসেবা অধিদফতর। তবে এ বরাদ্দ অপ্রতুল বলে দাবি করেছেন তিনি। খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামে ১০জন শিশু নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি এতিমখানা। গত বছরও এতিমের সংখ্যা ছিল একই। গেল অর্থবছরে এ এতিমখানায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৬০ হাজার টাকা।
খুলনায় দুই হাজার ২শ’ শিশুর বিপরীতে গড়ে উঠেছে ৬২টি এতিমখানা। এছাড়াও সরকারি সুবিধাভোগ করে এমন এতিমখানার সংখ্যাও কম নয়। এর মধ্যে একই ইউনিয়নে একাধিক এতিমখানাও রয়েছে। কয়রা উপজেলায় মাত্র ১০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে গড়ে উঠেছে দুটি এতিমখানা। এর মধ্যে দবির উদ্দিন এতিমখানায় এতিমের সংখ্যা দেখানো হয়েছে ৬০। এখানকার ২৭ শিক্ষার্থীর ক্যাপিটেশন চার্জ বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তিন লাখ ২৪ হাজার টাকা। একই এলাকায় কয়রা হাজী রহিমিয়া এতিমখানায় ৫০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ২০ জন শিশুর ক্যাপিটেশন বাবদ বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা। এখানে মেয়ে এতিম শিশুর সংখ্যা দেখানো হয়েছে ১৭, বাস্তবে রয়েছে ৬ জন। একই উপজেলার বাগালী ইউনিয়নে ১৬, আমাদী ইউনিয়নে ও বেদকাশী ইউনিয়নে ১২ জন নিয়ে গড়ে উঠেছে এতিমখানা। ফুলতলা উপজেলায় আটটি মাদরাসা ও এতিমখানায় শিক্ষার্থীরা সরকারি সাহায্য পেয়ে থাকে। উপজেলায় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৯৩ হলেও সরকারি বরাদ্দ পায় ১৬১ জন। এখানে ১৫ জন শিশু নিয়েও গড়ে তোলা হয়েছে এতিমখানা। দাকোপ উপজেলায় রয়েছে চারটি এতিমখানা। খুলনার অন্য উপজেলাতেও এভাবেই যত্রতত্র গড়ে উঠেছে এতিমখানা। সংশ্লিষ্ট শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্ধারিত বই পড়ানো অথবা ইবতেদায়ী (আলিয়া) মাদরাসার সিলেবাস পড়ানোর নিয়ম থাকলেও কোনো কোনো এতিমখানায় এসব নিয়ম মানা হয় না। শুধু হাফেজি পড়ানো অথবা কওমি শিক্ষা দেয়া হয়। এছাড়াও এসব এতিমখানায় খাবারের মানসহ স্বাভাবিক জীবনযাপনের মানও অনেক নিচে।
তবে এসব বিষয় নিয়ে সমাজসেবা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক কানিজ মোস্তফা বলেন, এতিমখানার জন্য বরাদ্দ টাকাগুলো অনেক যাচাই-বাছাইয়ের পরই দেয়া হয়। নিজস্ব জমি, প্রাথমিক শিক্ষার নিশ্চয়তা না থাকলে সেসব এতিমখানায় কোনো বরাদ্দ দেয়া হয় না। তিনি বলেন, একই ইউনিয়নে একাধিক এতিমখানা থাকতে পারে, তবে কর্তৃপক্ষ নিয়ম মেনে পরিচালনা করছে কিনা সেটাই
দেখার বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ