ঢাকা, শুক্রবার 27 January 2017, ১৪ মাঘ ১৪২৩, ২৮ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশী শিক্ষার্থী অনন্যার কৃতিত্ব

স্টাফ রিপোর্টার : আমেরিকার ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি. এলান ব্রুমলি গ্রাজুয়েট ফেলোশিপ ২০১৭ অর্জন করেছেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক শিক্ষার্থী বাংলাদেশের তনিমা তাসনিম অনন্যা। একই বিভাগের চার্লস ব্রাউন তার সঙ্গে যৌথভাবে এ ফেলোশিপ অর্জন করেন। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, এ মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপের এবছরের প্রার্থীরা এতটাই যোগ্যতাসম্পন্ন ছিলেন যে, নির্বাচক কমিটিকে হিমশিম খেতে হয়েছে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করার জন্য। পদার্থবিদ্যায় স্নাতক গবেষণার জন্য ডি. এলান ব্রুমলি ফেলোশিপ ফান্ড চালু হয় ২০০৫ সাল থেকে।
তনিমা অনন্যা পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তার গবেষণার মূল বিষয় ছিল কসমিক সময়ের সাথে বৃহদাকৃতির ব্ল্যাক হোল এর বৃদ্ধি। অধ্যাপক ম্যাগ উরি তার থিসিস এডভাইজর। তনিমা সচেতনতামূলক বৃহত্তর পরিধির কর্মসূচীতেও নিজেকে নিয়োজিত রাখছেন। তিনি কাজ করছেন বাংলাদেশের নারীদের নিয়ে কাজ করা সংস্থার সাথে। সংস্থাটি হাই স্কুল ও আন্ডারগ্রাজুয়েট নারী শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে থাকে। তিনি একটি মেন্টরশীপ প্রোগ্রাম তৈরিতেও সহযোগিতা করছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে ঢাকায় চারটি মেন্টরশীপ কর্মসূচি পরিচালনা করেন। তনিমার স্বপ্ন বাংলাদেশে একটি অ্যাস্ট্রোফিজিক্স প্রোগ্রাম উন্নয়ন করা।
উল্লেখ্য, তনিমা ২০১৩ সালে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিহ পেইজ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। এছাড়া ইউরোপিয়ান অরগানাইজেশন ফর নিউক্লিয়াার রিসার্চ (সিইআরএন) গবেষণায় প্রথম বাংলাদেশি এই তনিমা তাসনিম। এর আগে তনিমা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত নাসার স্পেস টেলিস্কোপ সায়েন্স ইনস্টিটিউটে স্টার ফরমেশন নিয়েও গবেষণা করেছেন। এছাড়া ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে থিউরিটিক্যাল ফিজিক্সে অধ্যায়ন করেন।
শিক্ষাজীবনের শুরু থেকে বলতে গেলে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতা পেয়েছেন অনন্যা। বাংলাদেশের মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে 'ও' এবং 'এ' লেভেল পাস করে স্কলারশিপ নিয়ে চলে যান আমেরিকার ব্রায়ান মার কলেজে। কলেজ জীবনে পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে ইন্টারনেটের সাহায্যে বিভিন্ন দেশে পড়াশোনার খোঁজখবর নিজে নিজেই নেন। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে অনন্যা বড়। তার বাবা এম এ কাইয়ুুম বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং মা শামিমা আরা বেগম গৃহিণী।
অনন্যার মা জানান, মহাকাশ নিয়ে পড়ার ইচ্ছায় তিনি কখনো বাধা দেননি বা একা বিদেশ যেতেও বাধা দেননি। তিনি চান তার মেয়ে মহাকাশবিজ্ঞানী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করুক। আর বাবা এমএ কাইয়ুম মেয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহযোগিতা দিয়ে যেতে চান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ