ঢাকা, শুক্রবার 27 January 2017, ১৪ মাঘ ১৪২৩, ২৮ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

তিনিই জনপ্রতিনিধি!

নরসিংদী সংবাদদাতা : লাল মিয়া নামে এক অশীতিপর বৃদ্ধকে কুপিয়ে মাথা ফালা করে দেয়ার পরও ইউপি চেয়ারম্যান আসামীদের সাফাইপত্রে লিখেছেন ‘আসামীরা অত্যন্ত ভাল, বাদী খুব চালাক ও মামলাবাজ, আসামীদেরকে হয়রানি করার জন্য মামলা দায়ের করেছে।’ এই চেয়ারম্যানটি হচ্ছেন শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাদিম সরকার। আসামীগণ হচ্ছেন একই এলাকার দড়িপুরা গ্রামের ছাত্তার, ছেলামত আলী, শিউলী বেগম ও শিরিনা। মামলার বাদী হচ্ছেন হোসনে আরা বেগম। প্রেক্ষাপট হচ্ছে বাদী হোসনে আরা বেগমের স্বামী লাল মিয়ার সাথে আসামী পক্ষের জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি আসামীরা বৃদ্ধ লাল মিয়াকে মারাত্মকভাবে কুপিয়ে আহত করে। বৃদ্ধ লাল মিয়ার মাথায় ১৪টি সেলাই দিতে হয়। এ ব্যাপারে হোসনে আরা বেগম থানায় মামলা করতে গেলে চেয়ারম্যান নাদিম সরকারের হস্তক্ষেপে পুলিশ মামলা নিতে রাজি হয়নি। পরে হোসনে আরা বেগম বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। এ অবস্থায় আসামীরা আশ্রয় নেয় ইউপি চেয়ারম্যান নাদিম সরকারের। নাদিম সরকার ঘটনাটি মীমাংসা করার জন্য শালিশ বৈঠকের মৌখিক নির্দেশ দেয়। কিন্তু আদালতে মামলা থাকায় এবং শালিস বৈঠকে ন্যায্য বিচার না পাবার আশংকায় হোসনে আরা বেগম বৈঠকে বসতে রাজি না হওয়ায় চেয়ারম্যান হোসনে আরার প্রতি ক্ষিপ্ত হন। তিনি আসামীদের পক্ষে এক সাফাইপত্রে লিখেন ‘প্রত্যয়ন করা যাইতেছে যে, আমি বাদী ও বিবাদীগণকে গ্রাম্য শালিসে বসার জন্য অনেক বার চেষ্টা কয়িাছি। বাদী হোসনারা বেগম অত্যন্ত চালাক। তিনি বাড়িতে বসে শালিসের মাধ্যমে মীমাংসা করিতে রাজি না। বাদী হোসনারা বেগম, বিবাদীগণকে হয়রানি করার জন্য মামলা করিয়াছে। বাদী মামলাবাজ। বিবাদীগণ অত্যন্ত ভাল মানুষ। তাই মামলার পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি এই প্রতিবেদন প্রেরণ করিলাম।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ