ঢাকা, রোববার 29 January 2017, ১৬ মাঘ ১৪২৩, ৩০ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিভাজন সূত্র দিয়ে শরণার্থীদের ভাগ করলেন বিভক্তির প্রেসিডেন্ট

২৮ জানুয়ারি, আলজাজিরা/ নিউইয়র্ক টাইমস : নিজ দেশের নাগরিকদের যেমন করে শ্বেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গ পরিচয়ে বিভাজিত করেছেন, তেমন করেই যুদ্ধবাস্তবতায় বিপন্ন মানুষদেরও খণ্ড-বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা নিলেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভাগ করলেন ধর্মের পরিচয়ে।শুক্রবার তার প্রশাসনের শরণার্থী সীমিতকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন নবনির্বাচিত এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট। এই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের ক্ষেত্রে মুসলিম প্রধান দেশগুলোর মুসলিমদের বদলে খ্রিস্টান ও সংখ্যালঘুদের প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলা হয়। এভাবেই, যেন শরণার্থীদের বিভাজন-সূত্র প্রকাশ করলেন ‘বিভক্তির প্রেসিডেন্ট’!
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের ক্ষেত্রে মুসলিম প্রধান দেশগুলোর মুসলিমদের বদলে খ্রিস্টান ও সংখ্যালঘুদের প্রাধান্য দেওয়ারও আদেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। ভক্সনিউজ জানিয়েছে, যাদেরকে এরইমধ্যে শরণার্থী হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি না হয়ে ওঠে তা নিশ্চিতে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে।
নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার দিনেই, শুক্রবার ক্রিশ্চিয়ান ব্রডকাস্টিং নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, সিরিয়ায় খ্রিস্টানদের সঙ্গে ভয়াবহ আচরণ করা হয়। তিনি বলেন, ‘আগের প্রশাসনগুলোর সময় দেখা গেছে, যদি তুমি মুসলিম হও তবে আসতে পারতে আর যদি খ্রিস্টান হও তাহলে তা প্রায় অসম্ভব ছিল। আমার কাছে এটা খুব অন্যায় বলে মনে হত। আর সেকারণে আমরা তাদেরকে সহায়তা করতে যাচ্ছি।’বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আভাস দিয়েছে, এবারের অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র যতসংখ্যক শরণার্থীকে গ্রহণ করার পরিকল্পনা করেছিল তা ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের কারণে অর্ধেকের চেয়েও বেশি কমে ৫০ হাজারে নেমে আসবে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ অর্থবছরে ১ লাখ ১০ হাজার শরণার্থী গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন। গত অর্থবছরে ৮৪,৯৯৫ জন শরণার্থীকে গ্রহণ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এরমধ্যে সিরীয় শরণার্থীর সংখ্যা ১২,৫৮৭।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ