ঢাকা, রোববার 29 January 2017, ১৬ মাঘ ১৪২৩, ৩০ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জাতিসংঘের মার্কিন প্রতিনিধির হুমকি

২৮ জানুযারি, ইন্টারনেট : জাতিসংঘে যোগ দেওয়ার পরপরই ওয়াশিংটনকে মিত্রশক্তি সমর্থন না দিলে তাদের তালিকাভুক্ত করার হুমকি দিয়েছেন নতুন মার্কিন স্থায়ী প্রতিনিধি নিকি হেলি। তিনি বলেছেন, তালিকা দেখে জবাব দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মধ্যে জাতিসংঘে নিযুক্ত ব্রিটিশ দূত মেথিউ রাইক্রফট ও ফ্রান্সের প্রতিনিধি ফ্রান্সিওস ডিলাট্রি বলেছেন, তাঁরা নিকি হেলিকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ছাড়া রাশিয়া ও চীন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য। তাদের ভেটো ক্ষমতা রয়েছে।
স্থানীয় সময় গত শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে নিকি হেলি তাঁর পরিচয়পত্র আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচনের পরই ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে সাউথ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান গভর্নর নিকি হেলির নাম ঘোষণা করেন। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা-মনোনীত স্থায়ী প্রতিনিধি সামান্থা পাওয়ারের স্থলাভিষিক্ত হলেন নিকি হেলি। ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিকি হেলি উদারনৈতিক রিপাবলিকান হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতাও করেছিলেন। রাজ্য গভর্নরের অভিজ্ঞতা ছাড়া নিকি হেলির কূটনৈতিক বা বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞতা নেই। মার্কিন গণমাধ্যমে তাই তাঁকে নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে।
পরিচয়পত্র প্রদানের পর নবনিযুক্ত মার্কিন স্থায়ী প্রতিনিধির সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবের বৈঠক ফলপ্রসূ এবং গঠনমূলক হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানানো হয়। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পরিচয়পত্র দেওয়ার পর নতুন মার্কিন স্থায়ী প্রতিনিধি নিকি হেলি সাংবাদিকদের বলেছেন, জাতিসংঘের সংস্কারের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সবাইকে নিয়ে কাজ করবে। জাতিসংঘের যেসব কর্মসূচি ভালো, তা আরও ভালো করা হবে। অপ্রয়োজনীয় ও অকার্যকর কর্মসূচি বাদ দেওয়া হবে।
মার্কিন সংবাদপত্রের সূত্র অনুযায়ী, ক্ষমতাগ্রহণ করেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত এক বছরে জাতিসংঘের কার্যক্রমের মূল্যায়ন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ক্ষমতার আসার আগেই বলেছেন, জাতিসংঘ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন হবে।
জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ তহবিলের জোগানদাতা। জাতিসংঘের মোট বাজেটের ২২ শতাংশের জোগান দিয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের মোট বাজেটের ২৮ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে। জাতিসংঘের সদস্য দেশ হিসেবে প্রতিশ্রুত তহবিল ছাড়াও ইউনিসেফ, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, বিশ্ব জনসংখ্যা কর্মসূচি জাতিসংঘের বেশ কিছু ঐচ্ছিক তহবিলে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর মোটা অঙ্কের অনুদান দিয়ে থাকে।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সমাধান, ইসরায়েলে বসতি স্থাপনসহ আন্তর্জাতিক বেশ কিছু বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জাতিসংঘের অবস্থান এখন সম্পূর্ণ আলাদা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ