ঢাকা, রোববার 29 January 2017, ১৬ মাঘ ১৪২৩, ৩০ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সাংবাদিক নির্যাতনের বিচার না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

স্টাফ রিপোর্টার : ‘পুলিশ সাংবাদিকদের নির্যাতন করে না। মাঝে মধ্যে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি লেগে যায়।’ দুই সাংবাদিককে পুলিশ সদস্যদের মারধর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। সেইসাথে সাংবাদিক নির্যাতনের বিচার না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা। গতকাল শনিবার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা জানান সাংবাদিক নেতারা।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার সুন্দরবন রক্ষার দাবিতে হরতাল পালনের সময় দুই জনকে আটক করে পুলিশ। ঘটনাটার ফুটেজ নেওয়ার সময় এটিএন নিউজের ক্যামেরাপারসন আব্দুল আলীম ও রিপোর্টার এহসান বিন দিদারকে শাহবাগ থানার ভিতরে মারধর করে পুলিশের ১৫/২০ জন সদস্য। এই ঘটনার পর শাহবাগ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক এএসআই এরশাদ ম-লকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বিএফইউজে একাংশের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, এটিএন নিউজের দুই সাংবাদিককে থানার ভিতরে নিয়ে কিভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, তা আমরা দেখেছি। আমরা এখন অপেক্ষা করছি তদন্ত কমিটির রিপোর্টের জন্য। কিন্তু আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য। তিনি বলেছেন, পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির জন্য নাকি দুই সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এই সমাবেশ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছি। আমি শুধু বলতে চাই, বাংলাদেশের অনেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের বক্তব্যের জন্য নানাভাবে চিহ্নিত হয়ে আছেন। আমরা চাই না আমাদের এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যিনি কম কথা বলেন, মার্জিত কথা বলেন, যার নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী জঙ্গিবাদ দমনে যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করেছে, তিনি এরকম বেফাঁস মন্তব্যের কারণে সাংবাদিকদের কাছে চিহ্নিত হয়ে থাকেন।
তিনি আরও বলেন, দুজনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দুজনের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। এখানে ধাক্কাধাক্কির কোনও সুযোগ নাই। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাবো তার এই বক্তব্য প্রত্যাহার করার জন্য।
এটিএন নিউজের হেড অব নিউজ মুন্নী সাহা পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশে বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি যদি প্রশাসন থেকেই শুরু হয়, তাহলে কাদের জন্য কি নিয়ে কাজ করবো। এটা জলে বাস করে কুমিরের সঙ্গে লড়াই নয়। আমরা জানি, হরতাল, মিটিং, মিছিল সব কিছু তাদের সঙ্গেই করতে হবে। একটা ট্রেন্ড তৈরি হয়েছে, তারা সময় অসময় সাংবাদিকদের পেটাবেন, তারপর পদোন্নতি নেবেন। তারা যদি মনে করেন সাংবাদিক পিটিয়ে পদোন্নতি নেবেন, সাময়িক বরখাস্তের নামে জামাই আদরে থাকবেন, তাহলে বলে দিক, আমরা মাইক্রোফোন, বুম ছাড়া দাঁড়াবো। আপনারা নির্যাতন করুন, পদোন্নতি নিন। রামপাল নিয়ে যে আন্দোলন হচ্ছে, সেটা থেকে মনে হয় পুলিশ সাংবাদিক পিটিয়ে কাভারেজটা অন্যভাবে নিতে চেয়েছে। এই কাভারেজ নিয়ে আপনারা কি নিজেদের খুব উঁচু জায়গায় নিতে পারলেন?
মানববন্ধনে জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক শাহেদ চৌধুরী বলেন, গতকাল শেষ হওয়া পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, পুলিশকে জনবান্ধব হতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানে পুলিশ প্রশাসন কতটুকু সাড়া দিয়েছে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো রাজপথে কোনও অন্যায় ছাড়াই সাংবাদিকদের বেধড়ক প্রহার। এটা যদি হয় জনবান্ধব হওয়ার নমুনা, তাহলে আমাদের দুঃখ প্রকাশ ছাড়া আর কিছুই করার নেই।
শাহেদ চৌধুরী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের পর সাংবাদিকদের পেটানো হলো। এরপর একজন মন্ত্রী বললেন, পুলিশ সাংবাদিকদের পেটায় না, মাঝে মধ্যে ধাক্কাধাক্কি লাগে। কী অদ্ভূত রসিকতা! এর চেয়ে নির্মম রসিকতা পৃথিবীতে আর হতে পারে না। আরেকজন মন্ত্রী বললেন, এই ঘটনা নাকি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। যদি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হয়েই থাকে, তাহলে তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলছি, আপনারা আন্তর্জাতিক মানের তদন্ত কমিটি গঠন করুন। তারপর তদন্ত অনুযায়ী যারা শাস্তি পাবে তাদের শাস্তি দিন। শাস্তি না দিলে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো, পরবর্তীতে পুলিশের সংবাদ পরিবেশন করবো কি-না।
মানববন্ধন শেষে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় কারওয়ান বাজার সার্ক ফোয়ারার সামনে সকল সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে ক্রাইম রিপোর্টাস এসোসিয়েশনের সভাপতি আবু সালেহ আকনসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ