ঢাকা, রোববার 29 January 2017, ১৬ মাঘ ১৪২৩, ৩০ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জাজিরায় অর্ধশতাধিক ককটেল বিষ্ফোরণ

শরীয়তপুর সংবাদদাতা : জাজিরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অর্ধশতাধিক ককটেল বোমার বিষ্ফোরণ ঘটায় সংর্ঘষকারীরা। এতে উভয় পক্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। গুরুতর আহত তিন জনকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
জাজিরা থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি তমিজ খানের সাথে স্থানীয় আ’লীগ নেতা নুরুল আমিন হাওলাদারের দীর্ঘ দিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি স্থানীয় ঢোন বোয়ালিয়া হাছেন হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে একটি সভা হওয়ার কথা রয়েছে। এনিয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় লাউখোলা বাজারে তমিজ খানের সাথে নুরুল আমিন হাওলাদার সমর্থক রাজ্জাক মাদবরের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তমিজ খানের লোকজন রাজ্জাক মাদবরকে মারধর করে। তবে রাজ্জাক মাদবরের দাবি তমিজ খান তার কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেয়ায় রাজ্জাক মাদবরকে মারধর করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাত ৮ টার দিকে মূলনা ইউনিয়নের গজনাইপুর গ্রামে তমিজ খান ও  রাজ্জাক মাদবর গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংর্ঘষ চলাকালে অর্ধশতাধিক ককটেল বোমার বিষ্ফোরণ ঘটায় সংঘর্ষকারীরা। খবর পেয়ে জাজিরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের রাজ্জাক মাদবর, মাসুদ চৌকিদার, তোতা মিয়া সরদার, খলিল চৌকিদার, মুজাই চৌকিদার, অলিল চৌকিদার, সজিব মাদবর, বিজয় মাদবর, সাত্তার খা, আবু কালাম খা, শওকত খা, দেলোয়ার সরদার, নুরু কাজী, দেলোয়ার সিকদার, আবুছালাম রাড়ীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়। আহতদের জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থানীয় ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত রাজ্জাক মাদবরের সমর্থক মাসুদ চৌকিদার, তোতা মিয়া সরদার ও সজিব মাদবরকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে  ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি।
নুরুল আমিন হাওলাদারের সমর্থক রাজ্জাক মাদবর বলেন, তমিজ খার সন্ত্রাসী বাহিনী এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা- করে বেড়ায়। আমি তার পক্ষে দল না করায় আমার কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে রাজি না হলে তমিজ খা ও তার লোকজন আমাকে মারধর করে। তারা আমার বাড়ি-ঘরে বোমা হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। আমার বৃদ্ধ মাকে মারধর সহ আমার একটি পাটখড়ির পাড়ায় আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে আমি মামলা করবো।
জাজিরা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি তমিজ খান বলেন, আগামী ৩০ জানুয়ারি এলাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্য বিএম মোজাম্মেল হকের একটি জনসভা রয়েছে। সেই জনসভায় যোগদানের প্রস্তুতি হিসেবে শুক্রবার সন্ধ্যায় লাউখোলা বাজারে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা করি। আমার সমর্থকরা যাতে এমপির জনসভায় যোগদান না করতে পারে সেই উদ্দেশ্যে সভা শেষে বাড়ি ফেরার পথে নুরুল আমিন হাওলাদারের সমর্থক রাজ্জাক মাদবর লোকজন নিয়ে আমার লোকজনের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের হামলায় আমার প্রায় ১০/১২ জন লোক আহত হয়েছে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আমিন হাওলাদার বলেন, এলাকায় তমিজ বাহিনী নামে একটি বাহিনী রয়েছে। তমিজ বাহিনী সারাজীবন চাঁদাবাজি, খুনোখুনি সহ বিভিন্ন অপরাধ করে আসছে। এই তমিজ বাহিনী যদি মারামারি কাটাকাটি না করে তাহলে এই অঞ্চলে কোন মারামারি কাটাকাটি হবে না। তার বিরুদ্ধে খুনের মামলাসহ একধিক মামলা রয়েছে। রাজ্জাক মাদবর তার সাথে যেতে না চাওয়ায় চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে বাজারে শত শত মানুষের সামনে তমিজ বাহিনী রাজ্জাক মাদবরের উপর হামলা করে। পরবর্তীতে বাড়িতেও বোমা হামলা ও লুটপাট করে। তমিজ খা সমাজে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য উদ্দেশ্যেমূলক ভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে। যার কোন ভিত্তি নাই।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, মুলনা ইউনিয়নে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ