ঢাকা, রোববার 29 January 2017, ১৬ মাঘ ১৪২৩, ৩০ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কূপ খনন করেও গ্যাস পায় না বাপেক্স লাভের পরিবর্তে গুণতে হয় লোকসান

স্টাফ রিপোর্টার : অনুৎপাদনশীল কূপ খনন করে লোকসান গুণছে রাষ্ট্রীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। বিগত বছরগুলোতে যেখানে লাভ হতো এখন সেখানে উল্টো লোকসান গুণছে প্রতিষ্ঠানটি।
সূত্র জানায়, গত অর্থবছরে (২০১৫-১৬) প্রতিষ্ঠানটি লোকসান দিয়েছে প্রায় ৫৬ কোটি টাকা। অথচ আগের অর্থবছরেই ১০৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল বাপেক্স। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঋণের বোঝা বহনের পাশাপাশি গ্যাস খাতে অনুৎপাদনশীল কূপ খনন ও বিদেশী কোম্পানির ফেলে রাখা কাজ চালাতে গিয়ে লোকসানে পড়ছে বাপেক্স।
বাপেক্সের গত অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, এ সময় প্রতিষ্ঠানটির মোট আয় হয়েছে ২৯৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে কোম্পানির নিজস্ব গ্যাসফিল্ড থেকে উৎপাদিত গ্যাস ও কনডেনসেট বিক্রয় বাবদ আয় হয়েছে ১১৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। পেট্রোবাংলা নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন গ্যাস বিপণন কোম্পানির গ্যাস বিক্রির ওপর মার্জিন বাবদ বাপেক্সের আয় হয়েছে ৫৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এছাড়া অন্যান্য খাত থেকে আরো আয় হয়েছে ১২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা।
কিন্তু এই আয়ের বিপরীতে ব্যয় হয় ৩৫৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে শুধু ঋণের সুদ পরিশোধেই ব্যয় হয়েছে ১৬২ কোটি ১ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে এ সময় প্রতিষ্ঠানটির লোকসান হয়েছে ৫৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। বাপেক্স সূত্রে জানা যায়, মূলত ঋণের বোঝা টানতে গিয়েই লোকসান দিয়েছে বাপেক্স। পেট্রোবাংলার অধীন অন্যান্য প্রতিষ্ঠান শত শত কোটি টাকা লাভ করলেও আয়-ব্যয় দিয়ে টিকে থাকতে পারছে না বাপেক্স। গত অর্থবছর জিটিসিএল ও তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যথাক্রমে শ্রমিক অংশীদারিত্ব তহবিল থেকে ৭ ও ২ লাখ টাকা করে পেলেও বাপেক্স কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনো অর্থ পাননি।
এ বিষয়ে বাপেক্সের সচিব মোহাম্মদ আলী জানান, গত অর্থবছরে আমরা ১০৫ কোটি টাকা লাভ করলেও চলতি বছর তা হয়নি। বরং ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫৬ কোটি টাকা। তবে এখান থেকে বেরিয়ে এসে বাপেক্স ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করা যায়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ‘গ্যাস উন্নয়ন তহবিল’ গঠন করে ২০০৯ সালে। তহবিলের অর্থ জোগান দিতে বাণিজ্যিক ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয় ১১ দশমিক ২২ শতাংশ। তহবিলের অর্থ বাপেক্স ও সিলেট গ্যাসফিল্ড নামে আরেকটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকে অফেরতযোগ্য অনুদান হিসেবে ব্যবহারের বিধান রেখে গ্যাস উন্নয়ন তহবিল নীতিমালা প্রণয়ন করে বিইআরসি। কিন্তু জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে গিয়ে কমিশনের এ উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়ে। মন্ত্রণালয় গ্যাস উন্নয়ন তহবিল নীতিমালাটি আটকে রাখে তিন বছর। এরপর ২০১২ সালে এসে মন্ত্রণালয় আরেকটি নীতিমালা তৈরি করে, যা বাপেক্সকে নতুন সংকটে ফেলে দেয়।
মন্ত্রণালয়ের প্রণয়ন করা নীতিমালায় বলা হয়, ফান্ড থেকে উন্নয়নের জন্য টাকা অনুদান নয়, ঋণ হিসেবে নেয়া যাবে। এছাড়া ঋণ বাবদ পাওয়া সুদও আবার তহবিলে যোগ হবে। তহবিলের বিনিয়োগে কোনো প্রকল্প লাভজনক হলে ১৪ কিস্তিতে ২ শতাংশ সার্ভিস চার্জসহ ১০ বছরের মধ্যে সমুদয় অর্থ ফেরত দিতে হবে।
মূলত এ তহবিলের ঋণের বোঝা বহন করতে গিয়েই লোকসানের মুখোমুখি হচ্ছে বাপেক্স। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছর পর্যন্ত বাপেক্সের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৯০৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। অন্যদিকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫০৯ কোটি ১১ লাখ টাকা। পেট্রোবাংলা ও গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের এ ঋণের বিপরীতে গত অর্থবছর পর্যন্ত সুদ ও সার্ভিস চার্জ পরিশোধের পরও বাপেক্সের বকেয়া রয়েছে ৭৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে শুধু গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের ঋণের সার্ভিস চার্জ বাবদ পরিশোধ করতে হবে ৬৬ কোটি ৭ লাখ টাকা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ