ঢাকা, রোববার 29 January 2017, ১৬ মাঘ ১৪২৩, ৩০ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খাবার না পেলে প্লেট নিয়ে নগর ভবনের পাশে বসবে হকাররা

স্টাফ রিপোর্টার: উচ্ছেদের কারণে হকার ও তাদের পরিবারের সদস্যরা না খেয়ে আছেন। এভাবে চলতে থাকলে তারা নগর ভবনের চারপাশে অবস্থান নেবেন। তারা বলেন, আমরা হকাররা প্লেট নিয়ে যাব, মেয়র শুধু খাবারটা সরবরাহ করলেই হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনকে উদ্দেশ করে হকার নেতারা এসব কথা বলেছেন।
গতকাল শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে হকার সংগঠনগুলোর এক যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) দিনের বেলা হকার বসতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এই সভা আয়োজন করা হয়। হকারদের ১৬টি সংগঠনের জোট ‘হকার সমন্বয় পরিষদ’, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন, জাতীয় সম্মিলিত হকার্স জোট যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে।
সভার সভাপতি হকার সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক আবুল হোসেন বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে, মেয়রের বিরুদ্ধে হকাররা আন্দোলনে নামেননি। মেয়র হকারদের পেটে লাথি মেরেছেন, হকারদের পরিবার না খেয়ে আছে। হকারদের পুনর্বাসন না করে, সুনির্দিষ্ট আইন ও নীতিমালা না করে হকারদের উচ্ছেদ করলে তা মানা হবে না। ১১ জানুয়ারি নগর ভবনে হকারদের বিভিন্ন সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের সঙ্গে বৈঠকে ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকন। এ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৫ জানুয়ারি থেকে সাপ্তাহিক কর্মদিবসে গুলিস্তান ও আশপাশের এলাকায় দিনের বেলা হকার বসা নিষেধ। তবে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার পরে তাঁরা ব্যবসা করতে পারবেন।
যৌথসভায় ছিন্নমূল হকার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম মেয়র সাঈদ খোকনকে উদ্দেশ করে বলেন, হকারদের ক্ষুধা বাড়ছে। হকাররা যদি খাবার না পায় তবে পরিবার নিয়ে নগর ভবনের চারপাশে বসে পড়বে। আপনার প্লেট কিনতে হবে না। আমরা প্লেট নিয়ে আসব, আপনি শুধু খাবারটা দিয়েন। রোববার হকার সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলে সভায় ঘোষণা দেওয়া হয়। বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে হকাররা জমায়েত হবেন এবং সেখান থেকে স্মারকলিপি দিতে যাবেন।
সভায় আরও বক্তব্য দেন হকার্স ইউনিয়নের উপদেষ্টা সেকেন্দার হায়াৎ, জাতীয় হকার্স ফেডারেশনের সভাপতি আরিফ চৌধুরী, সম্মিলিত হকার্স জোটের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী প্রমুখ। ১৫ জানুয়ারি থেকে ডিএসসিসি লাগাতার উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া, ইমপিরিয়াল হোটেল, খদ্দর বাজার শপিং কমপ্লেক্স, পীর ইয়ামেনী মার্কেটের সামনে, মতিঝিল, দিলকুশা, দৈনিক বাংলা, বায়তুল মোকাররম ও পল্টনে ফুটপাত এবং সড়ক থেকে অবৈধ কয়েক শতাধিক দোকান উচ্ছেদ করেছে ডিএসসিসি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ