ঢাকা, রোববার 29 January 2017, ১৬ মাঘ ১৪২৩, ৩০ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আওয়ামী লীগের হলে ‘নিরপেক্ষ’ আর বিএনপি’র হলেই ‘দলীয়’!

সরদার আবদুর রহমান : আওয়ামী লীগের নেতা হলেও তিনি ‘নিরপেক্ষ’ আর বিএনপি’র সমর্থক হলেই ‘দলীয়’- মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের চিন্তাধারার এমন প্রকাশে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন পর্যবেক্ষক মহল। ইসি নিয়োগ নিয়ে সার্চ কমিটি গঠন সম্পর্কে গত কয়েকদিনের বিতর্কে এমন মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ দলের নেতা-মন্ত্রীদের বক্তব্যে।
বিএনপি রাজনীতিতে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সর্বপ্রথম প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় মিলিত হয়। আশাবাদী বিএনপি’র এই প্রতিনিধি দলে স্বয়ং দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্ব দেন। তাঁরা প্রেসিডেন্টের কাছে কিছু নাম জমা দেন সার্চ কমিটি ও ইসি গঠনের লক্ষ্যে। এর পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপি’র নাম জমা দেয়া নিয়ে নানা মন্তব্য করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি সাবেক বিচারপতি কেএম হাসানের নাম উল্লেখ করে জানান যে বিএনপি তাঁর নাম রাষ্ট্রপতির নিকট জমা দিয়েছে। অর্থাৎ মন্ত্রীর মতে বিএনপি কেএম হাসানের নাম জমা দিয়ে দলীয় লোকেরই নাম প্রস্তাব করেছে। মন্ত্রী এজন্য বিএনপিকে দোষারোপের চেষ্টা করেন। যদিও বিষয়টি জোর গলায় অস্বীকার করে আসছে বিএনপি। আওয়ামী লীগের মতে, কেএম হাসান বিচারপতি হওয়ার আগে বিএনপি’র নেতৃত্ব পদে সমাসীন ছিলেন। এর আগে একই অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগ তাঁকে কেয়ারটেকার সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করে। তার জের ধরেই ফখরুদ্দীন-মঈনউদ্দীনের জরুরি সরকার ক্ষমতায় আসে এবং দুই বছর শাসন চালিয়ে নির্বাচনী ময়দান আওয়ামী লীগের জন্য প্রস্তুত করে যায় বলে জোরালো অভিযোগ আছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ইসি সার্চ কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণার পর এখন একই ‘দলীয়করণের’ অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে পড়লো সরকারি পক্ষ। কেননা সার্চ কমিটির অধিকাংশ সদস্যই অতীতে কোন না কোন পর্যায়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। বিশেষ করে দু’জন সদস্যের পরিচয়ই আওয়ামী পরিবারের সদস্য হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। কিন্তু সরকারি দলের নেতা-মন্ত্রীরা জোর কণ্ঠে তাদের ‘নিরপেক্ষতা’র পক্ষে সাফাই গেয়ে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে ভাষ্যকাররা বলছেন, আসলে কেউ বিএনপি বা বিরোধী দলের সমর্থক হলেই আর ‘নিরপেক্ষ’ থাকে না, ‘দলীয়’ তকমা তার শরীরে এঁটে বসে। কিন্তু আওয়ামী ঘরানার সক্রিয় ব্যক্তিও ‘নিরপেক্ষ’ হবার সার্টিফিকেট সহজেই লাভ করতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ