ঢাকা, রোববার 29 January 2017, ১৬ মাঘ ১৪২৩, ৩০ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে ট্রাম্পের শরণার্থী নিষেধাজ্ঞা

সংগ্রাম ডেস্ক : শরণার্থী কর্মসূচি স্থগিত ও মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করতে গিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্য কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স (সিএআইআর) নামের এক বিখ্যাত আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে, নয়া প্রেসিডেন্টের এই আদেশ সংবিধানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আদেশটির বিরুদ্ধে একটি ফেডারেল মামলা দায়েরের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্পের এ আদেশের মূল উদ্দেশ্য মুসলিম প্রধান দেশগুলোর ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা। এদিকে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, রাজ নৈতিক ব্যক্তিত্ব ও খ্যাতনামা ব্যক্তিরা ট্রাম্পের আদেশ নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বাংলা ট্রিবিউন।
গত শুক্রবার এক নির্বাহী আদেশে তিন মাসের জন্য ৭ মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে স্থগিতাদেশ দেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি শরণার্থী কর্মসূচি চার মাসের জন্য স্থগিত করেন তিনি। তবে সব শরণার্থীর বেলায়, কর্মসূচি স্থগিতের মেয়াদ নির্দিষ্ট ৪ মাস হলেও সিরিয়ার ক্ষেত্রে এই মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের। প্রশাসনের শরণার্থী সীমিতকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওই নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন নবনির্বাচিত এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট। এই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের ক্ষেত্রে মুসলিম প্রধান দেশগুলোর মুসলিমদের বদলে খ্রিষ্টান ও সংখ্যালঘুদের প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলা হয়। এভাবেই, যেন শরণার্থীদের বিভাজন-সূত্র প্রকাশ করলেন ‘বিভক্তির প্রেসিডেন্ট’ট্রাম্পের এ নির্বাহী আদেশ জারির পর পরই এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুমুল সমালোচনা চলছে। দ্য কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স সিএআইআর-এর লেনা এফ মাসরি ক্ষোভ জানিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রবেশকারী শরণার্থীদের সবাই যে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি  তৈরি করছে, তেমন কোনও প্রমাণ নেই। ধর্মবিদ্বেষ থেকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, বাস্তবসম্মতভাবে নয়।’পাকিস্তানের নোবেলজয়ী শিক্ষা অধিকারকর্মী মালালা ইউসুফজাই বলেছেন তিনি এ খবর শুনে তিনি খুব ব্যথিত হয়েছেন। ভগ্নহƒদয় নিয়ে তিনি বলেন, ‘শরণার্থী ও অভিবাসী যারা যুক্তরাষ্ট্রকে গড়তে সহায়তা করেছে, যারা সুন্দরভাবে জীবন কাটানোর সুযোগ পাওয়ার বিনিময়ে কঠোর পরিশ্রম করতে প্রস্তুত রয়েছে-তাদেরকে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের গৌরবের ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু এখন তা থেকে দেশটি সরে আসছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গও এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। জাকারবার্গ জানান, তার প্রপিতামহরা জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও পোল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন এবং তার স্ত্রীর বাবা-মা চীন ও ভিয়েতনামের অভিবাসী।
বিবৃতিতে জাকারবার্গ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসীদের দেশ, এবং আমাদের তা নিয়ে গর্বিত হওয়া উচিত। আমাদের উচিত শরণার্থী এবং যাদের সহায়তা দরকার তাদের জন্যও আমাদের দুয়ার খোলা রাখা। সেটাই আমাদের  বৈশিষ্ট্য। কয়েক দশক আগে যদি আমরা শরণার্থীদের তাড়িয়ে দিতাম তবে প্রিসসিলার (জাকারবার্গের স্ত্রী) পরিবার আজ এখানে থাকতো না।’
 যেসব অনিবন্ধিত অভিবাসী  শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে তাদেরকে কাজের সুযোগ দিতে বারাক ওবামা যে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন তা ট্রাম্প পাল্টে দেবেন না বলে আশা প্রকাশ করেছেন জাকারবার্গ।
সিনেটের ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতা চাক শুমার বলেন, ‘আমেরিকা প্রতিষ্ঠার পর থেকে যে ঐতিহ্যটি বিদ্যমান রয়েছে তা সরিয়ে নেওয়ায় আজ রাতে স্ট্যাচু অব দ্য লিবার্টির চিবুক দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। অভিবাসী ও শরণার্থীদের গ্রহণ করাটা কেবল মানবিকই নয়, তারা আমাদের অর্থনীতিকে দৃঢ় করেছে এবং দশকের পর দশক ধরে চাকরি  তৈরি করেছে। এটা প্রেসিডেন্টের জারি করা সবচেয়ে পশচাদপদ ও বাজে নির্বাহী আদেশগুলোর একটি।’
ইরাক যুদ্ধের সময় আত্মঘাতী বোমা হামলা থেকে নিজের ইউনিটকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত হন মার্কিন সেনা হুমায়ন খান। তার বাবা খিজির খানও ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘মুসলিম ও অভিবাসীদেরকে আক্রমণের লক্ষ্য করে ট্রাম্প সাংবিধানিক নীতি এবং মৌলিক আমেরিকান মূল্যবোধ ক্ষুণœ করার যে দৌড়ে নেমেছেন তা খুবই উদ্বেগের। মুসলিমদের জন্য  বৈষম্যমূলক করে আজ ট্রাম্প যে পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন এবং তিনি ও তার প্রশাসন যে পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন, সেগুলোর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোটা প্রত্যেক আমেরিকানের জন্য অপরিহার্য।’
সাত মুসলিম দেশের নাগরিকদের সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তাকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের সে যুক্তি নাকচ করে দিয়ে ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী ডেভিড মিলিব্যান্ড বলেন, ‘শরণার্থীরা সন্ত্রাস থেকে পালাচ্ছে-তারা সন্ত্রাসী নয়।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ