ঢাকা, রোববার 29 January 2017, ১৬ মাঘ ১৪২৩, ৩০ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঘরের শত্রু থাকলে বাহিরের শত্রুর দরকার পড়ে না

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা : এমপি লিটনকে যারা হত্যা করেছে তাদের চরম মূল্য দিতে হবে। খুনিদের দ্রুত বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। ঘরের শত্রু থাকলে বাইরের শত্রুর দরকার পড়ে না। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যারা এমপি লিটন হত্যার বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আসল দোষীদের আড়াল করতে চায় তাদের মনের বাসনা সফল হবে না। সাম্প্রদায়িক শক্তিকে আমরা চিনি। এমপি লিটন হত্যাকারীরা যত বড় শক্তিশালীই হোক না কেন শেখ হাসিনা বেঁচে থাকলে বাংলার মাটিতে তাদের বিচার হবেই। এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন স্মরণে গতকাল শনিবার বিকালে সুন্দরগঞ্জ ডি ডব্লিউ ডিগ্রী কলেজ মাঠে নাগরিক কমিটির আহবায়ক ও উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা আহম্মেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নাগরিক কমিটি আয়োজিত বিশাল শোক সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী  আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি এ কথাগুলো বলেন। তিনি আরো বলেন, এমপি লিটনের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি যারা লাশ নিয়ে রাজনীতি করতে চান তাদের পরিণতি সফল হবে না। মনোনয়ন নিয়ে কাড়াকাড়ি করবেন না। জননেত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দিবেন তিনিই হবেন নিহত এমপি লিটনের উত্তরসূরি। নিজেদের মধ্যে কলহ করে দুর্বল হলে শত্রুরা আঘাত হানবে। তাই আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকুন আমরাও আপনাদের সাথে আছি। তিনি আরো বলেন, এমপি লিটন হত্যায় আমাদের হৃদয়, মন, চেতনা ও অনুভূতিতে আঘাত করেছে তাই সুন্দরগঞ্জবাসির পাশে জননেত্রী শেখ হাসিনা আছেন এবং থাকবেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এডভোকেট ফজলে রাব্বী  মিয়া এমপি বলেন, উগ্র জঙ্গিবাদ ও জামায়াত-শিবির এর মদদে এমপি লিটনের হত্যাকা- সংঘটিত হয়েছে। তাদের মূলোৎপাটন করার উপর জোর দেন। সম্প্রতি সময়ে প্রশাসনের সাথে এমপি লিটনের  যে দ্বন্দ্ব ছিল তা খতিয়ে দেখার জন্যও তিনি তদন্তকারী সংস্থার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, জামায়াত শিবিরের আতঙ্ক মঞ্জুরুল ইসলাম ২০১৪ সালে নির্বাচনে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় এটিও তার মৃত্যু কারণ। তারাই এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে হত্যা করেছে। লিটনের হত্যাকারী যেই হউক না কেন বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা তার বিচার করবে।
বিশেষ অতিথি ছিলেন- পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আযম এমপি, রংপুর সিটি মেয়র শরফ উদ্দিন আহম্মেদ ঝন্টু, জাতীয় সংসদের হুইপ মাহাবুব আরা গিনি এমপি, আ’লীগের কেন্দ্রীয়  সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, আ’লীগ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এইচ.এন আশিকুর রহমান এমপি, আ’লীগের উপ- সাধারণ সম্পাদক মাহবুল আলম হানিফ এমপি, বাংলাদেশ আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক এমপি, টিপু মুন্সি এমপি। আ’লীগ কেন্দ্রীয় সদস্য এম এম কালাম হোসেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সাবেক সভাপতি- মাহমুদুল হাসান রিপন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ।
অন্যান্যে মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জেলা আ’লীগ সভাপতি সৈয়দ শামস-উল-আলম হিরু, জেলা আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, জেলা আ’লীগ সহ-সভাপতি সৈয়দা মাসুদা খাজা, গাইবান্ধা পৌর মেয়র এ্যাড. শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলন, গোবিন্দগঞ্জ পৌর মেয়র আতাউর রহমান, সুন্দরগঞ্জ পৌর মেয়র আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, উপজেলা আ’লীগ সাবেক সভাপতি টিআইএম মকবুল হোসেন প্রামানিক, এমপি লিটনের সহধর্মনী ও জেলা মহিলা আ’লীগের।  সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি উপাধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান সরকার। শোক সভা শেষে প্রধান অতিথি সফর সঙ্গীদের নিয়ে এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের নিজ বাড়ি উত্তর সাহাবাজ মাস্টারপাড়া গ্রামে যান এবং মরহুমের কবর জিয়ারত করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ