ঢাকা, রোববার 29 January 2017, ১৬ মাঘ ১৪২৩, ৩০ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বরিশালে স্কুলের পাশে ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা ॥ আটক ২

স্টাফ রিপোর্টার : সহপাঠীকে উত্ত্যক্তের ঘটনা নিয়ে বরিশালে স্কুলের পাশের মাঠে টিফিনের বিরতিতে খেলতে থাকা সাইদুর রহমান হৃদয় গাজী নামে এক কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সে দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগে পড়তো। এই ঘটনায় তার সহপাঠী গোলাম সাজিদ রাফীও আহত হয়েছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে বরিশাল শহরের পরেশ সাগরের মাঠ এলাকায় শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে এই ঘটনা ঘটে। এই স্কুলের ছাত্রীদেরকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই খুন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্ররা।
এদিকে স্কুলছাত্র হৃদয় গাজী হত্যার ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলো সাইদ ও শাহীন। এরা বরিশাল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র এবং নগরীর বটতলা এলাকার বাসিন্দা। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার উপ পরিদর্শক আবু তাহের জানান, নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে হৃদয় গাজী হত্যার ঘটনার জন্য বরিশাল টেকনিক্যাল কলেজের কিছু ছাত্রকে দায়ী করেছে আহত রাফী। হাসপাতালে শুয়ে সে সাংবাদিকদেরকে বলে, ‘আমাদের স্কুলের সামনে এসে পলিটেকনিকের ছাত্ররা মেয়েদের উত্ত্যক্ত করতো। বিষয়টি নিয়ে আমাদের মধ্যে ঝামেলা ছিল। সেই ঘটনার জের ধরেই টেকনিক্যালের ছাত্ররা আমাদের ওপর হামলা চালায়। রাফী বলে, টিফিনের বিরতিতে আমরা ওই মাঠে গেলে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। তবে যারা হামলা করেছে তাদের নাম জানি না।
আবদুর রব সেরনিয়াবাত স্কুল এবং টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ছাত্রাবাস পাশাপাশি অবস্থিত। এই স্কুলে আসা এবং যাওয়ার পথে পলিটেকনিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা মেয়েদেরকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতো বলে জানিয়েছেন সহপাঠীরা। বিষয়টি তারা স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিল।
স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মাফিয়া জেসমিন বলেন, আমার কাছে মেয়েরা এ নিয়ে অভিযোগ করেছিল। পরে আমি কোতয়ালী পুলিশকে তা জানাই। তারা প্রায়ই এখানে টহল দিতো। কিন্তু এর পরিণতি এমন হবে সেটা ভাবতে পারিনি। স্কুলের পাশে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার তৈরি হয়। সন্তান বা স্বজনের খোঁজ নিতে তারা দলে দলে ছুটে আসেন স্কুল প্রাঙ্গণে।
তবে নিহত হৃদয় গাজীর স্বজনদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে পাওয়া যায়নি। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের বাড়ি পিরোজপুরের ভা-ারিয়ায়। তার বাবার নাম শাহীন গাজী। হৃদয় এই স্কুলে পড়ার পাশাপাশি বরিশাল নগরীর মা মনি ক্যাডেট কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিল। সেখানে আবাসন সুবিধা আছে। সেখানেই থাকতো সে। খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (দক্ষিণ) আবদুর রউফ খান হাসপাতালে ছুটে যান। তিনি আহত রাফীর সঙ্গে কথা বলেন। রাফীও তাকে পুরো ঘটনা খুলে বলে। এরপর এই পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘রাফীর বর্ণনা অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ