ঢাকা, রোববার 29 January 2017, ১৬ মাঘ ১৪২৩, ৩০ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বীর হোরেশিওরা এগিয়ে চল

মনসুর আহমদ : একবার রোমের শত্রুরা রোম শহর ধ্বংসের জন্য প্রায় শহরের কাছে এসে উপনীত হয়েছে। নদীর ওপরে একটি ব্রিজ পার হয়ে তারা শহরে প্রায় ঢুকে পড়ার অবস্থা। হাতে মোটেও সময় নেই। শহর রক্ষার একমাত্র উপায় ব্রিজ ভেঙে দিয়ে শত্রুর গতি থামিয়ে দেয়া। এমন নাজুক অবস্থায় হোরেশিও নামক এক অমিত তেজের যুবক এগিয়ে এলেন। যুবক হোরেশিও ডাক দিয়ে বললেন, দেশকে রক্ষার জন্য কে কে প্রাণ দিতে প্রস্তুত? যারা প্রস্তুত তারা আসুন আমার সঙ্গে, মৃত্যু অবধারিত; কারণ পেছন থেকে ব্রিজ ভেঙে দিলে আমরা আর কিছুই ফিরে আসতে পারব না। মরতে আমাদের হবেই।
হোরেশিওর ডাকে সাড়া দিয়ে দুই যুবক এগিয়ে এলো। ব্রিজ ভাঙার জন্য শহরের বহু মানুষ তাদের সঙ্গে এ কাজে যোগ দিতে ছুটে এলো। হোরেশিও চিৎকার করে বলতে লাগলেন, আমরা তিনজন সামনে দাঁড়িয়ে শত্রুর গতি রোধ করছি, তোমরা ব্রিজটি ভেঙে ফেল। সম্মুখের অগণিত  সৈন্যের সামনে কুড়ুল হাতে তিন যুবক মৃত্যুপণ করে অচল পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে শত্রুর অগ্রগতি থামিয়ে দিতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, পেছনে শত শত লোক ব্রিজ ভেঙে দিতে আঘাতের পর মুহুর্মুহু আঘাত হানছে। তিন যুবক শত্রুর বজ্রওভীষণ আক্রমণের সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়ে আছে আর পেছনে শত শত লোক প্রাণপণ শক্তিতে ব্রিজকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কী এক ভয়ানক দৃশ্য!
শত্রুদল ব্রিজের সামনে এসে উপস্থিত হয়ে দেখল ব্রিজ ভাঙার চেষ্টা চলছে। রোম নগরে প্রবেশের মাত্র এই একটি মাত্র পথ। ব্রিজ ভেঙে ফেলা হলে তাদের অভিযান ব্যর্থ হবে। আর কোনো উপায়ে নগরে প্রবেশ করা সম্ভব হবে না। সেনানায়ক তার বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দিলেন, আর বিলম্ব নয়, এই তিন যুবককে হত্যা করে এগিয়ে চলো। ব্রিজ ভেঙে গেলে আমাদের পক্ষে সামনে অগ্রসর হওয়া আর সম্ভব হবে না।
হোরেশিওর এমন দুঃসাহস দেখে একটু হেসে নিল শত্রুরা। এত বড় বাহিনীর সামনে মাত্র তিন যুবক, কি উন্মত্ততা! শত্রুরা হোরেশিওকে চার দিক দিয়ে ঘিরে আক্রমণ চালালো। হোরেশিও তার সামান্য অস্ত্র দীর্ঘ কুড়ুলের বাঁট দিয়ে শত্রুদেরকে আঘাতের পর আঘাত হানতে লাগলেন। কি সে ভীষণ দৃশ্য! সিংহের সামনে মেষপালের যেমন দুরবস্থা হয় বীরবিক্রম হোরেশিও সামনেও শত্রুদের অবস্থা তেমনি হতে লাগল।
আর কিছুক্ষণ টিকে থাকতে পারলে কাজ হাসিল হয়। আর মাত্র পনের মিনিটে ব্রিজ ধ্বংস হয়ে মাটিতে লুটাবে। হোরেশিও প্রাণপণ শক্তিতে লড়তে লাগলেন; যায় প্রাণ যাবে কিন্তু দেশ ও জাতির স্বাধীনতা, সম্মান রক্ষা পাবে। আহা কি আনন্দ!
সাথের দুই যুবক অবসন্ন দেহে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। হোরেশিওর সেদিকে ভ্রুক্ষেপ মাত্র নেই। আর মাত্র ৫ মিনিট।
এবারে ব্রিজটি বজ্রনাদে নদীর মধ্যে ভেঙে পড়ল। হোরেশিও আনন্দে চিৎকার দিয়ে কুড়ুলখানা দূরে নিক্ষেপ করে খরস্রোতা নদীতে ঝাঁপ দিলেন। তীরে দাঁড়িয়ে শত শত নর-নারী আনন্দ চিৎকারে গগন কাঁপিয়ে তুলল। রোমবাসীরা তীর হতে নৌকা নিয়ে হোরেশিওকে তুলে নিতে অগ্রসর হলো। আর শত্রুরা অবাক নেত্রে এ দৃশ্য দেখতে লাগল।
হোরেশিও আমাদের দেশের যুবকদের আদর্শ হয়ে থাকবে। যারা আমাদের দেশের স্বাধীনতাকে ভয় করে, যারা প্রতিনিয়ত এ দেশের নিরীহ মানুষদেরকে পাখির মত গুলী করে হত্যা করে চলছে তাদের বিরুদ্ধে যুবকরা রুখে দাঁড়ালে দেশের আম-জনতা তাদের পেছনে মজবুতভাবে দাঁড়াবে ইনশাআল্লাহ্। বিজয় আমাদের হবেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ